বেরলিনের জেনারেশন ১৪-প্লাস বিভাগে সম্প্রতি প্রদর্শিত ‘সান্নি ড্যান্সার’ ছবিতে বেলা রামসে ১৭ বছর বয়সী ক্যান্সার বেঁচে থাকা কিশোরী আইভি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবিটি ব্রিটিশ কমেডি‑ড্রামা শৈলীর, কিশোর‑প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি এবং মোট ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের দৈর্ঘ্য।
আইভি তার বাবা-মা, জেসিকা গানিং ও জেমস নরটন অভিনয়কারী চরিত্রের আদেশে এমন একটি গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে ভর্তি হয় যেখানে ক্যান্সার বেঁচে থাকা কিশোর-কিশোরীরা একত্রিত হয়। ক্যাম্পের লক্ষ্য হল রোগের পরবর্তী জীবনে মানসিক ও শারীরিক পুনরুদ্ধারকে সহায়তা করা, যদিও যুক্তরাজ্যে এমন দীর্ঘমেয়াদী গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পের ধারণা সাধারণত দেখা যায় না।
চিত্রনাট্য ও পরিচালনা কাজ করেছেন জর্জ জ্যাক্স, যিনি ছবির মূল থিমকে হালকা হাস্যরস ও গভীর আবেগের মিশ্রণে উপস্থাপন করেছেন। ছবির মূল কাঠামোটি কিশোর-কিশোরীদের বন্ধুত্ব, প্রথম প্রেম, আত্ম-অন্বেষণ এবং অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর চারপাশে ঘোরে, যা দর্শকদেরকে একাধিক সংবেদনশীল মুহূর্তে নিয়ে যায়।
বেলা রামসের পাশাপাশি ড্যানিয়েল কুইন‑টোয়ে, রুবি স্টোকস, আরল ক্যাভ, জেসমিন এলকক, কনরাড খান, নিল প্যাট্রিক হ্যারিস, শালোম ব্রুন‑ফ্র্যাঙ্কলিন, লুই গন্ট এবং জোসি ওয়াকারসহ বিশাল কাস্ট ছবিটিকে সমৃদ্ধ করেছে। প্রত্যেক অভিনেতা নিজস্ব চরিত্রে স্বতন্ত্র রঙ যোগ করেছে, যার ফলে সমগ্র কাহিনীটি তরুণ দর্শকদের জন্য প্রাসঙ্গিক ও আকর্ষণীয় হয়েছে।
প্রথমে ছবির টোনে কিছুটা তিক্ততা ও ব্যঙ্গ দেখা যায়, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চরিত্রগুলোর মধ্যে বন্ধন গড়ে ওঠে, প্রথম প্রেমের উচ্ছ্বাস, এবং এক অপ্রত্যাশিত মৃত্যুর শোকময় মুহূর্তগুলো একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। এই পরিবর্তনগুলোকে সংযুক্ত করতে বিভিন্ন সঙ্গীতময় মণ্টাজ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দৃশ্যের আবেগকে তীব্র করে।
সিনেমার স্ক্রিপ্টে কিছু অংশ অতিরিক্ত আবেগপ্রবণভাবে গড়ে তোলা হয়েছে, যা কখনও কখনও অতিরিক্ত মিষ্টি লাগতে পারে। তবে তরুণ অভিনেতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়, বিশেষ করে বেলা রামসের স্বাভাবিকতা ও ড্যানিয়েল কুইন‑টোয়ের হাস্যরস, ছবির স্বাদকে সুষম করে এবং কিশোর-কিশোরীদের বাস্তবিক অনুভূতি ফুটিয়ে তোলে।
অনেক দৃশ্যে অভিনেতারা ইমপ্রোভাইজেশন করে চরিত্রের গভীরতা বাড়িয়ে তুলেছেন। এই স্বতঃস্ফূর্ত মুহূর্তগুলো ছবির রঙিন টেক্সচার তৈরি করে এবং দর্শকের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে। বিশেষ করে রুবি স্টোকসের চরিত্রের উন্মুক্ততা এবং আরল ক্যাভের নরম হাসি দৃশ্যগুলোকে স্বাভাবিকতা প্রদান করেছে।
সঙ্গীতের ব্যবহার ছবির অন্যতম শক্তি। বিভিন্ন পপ ও রক ট্র্যাকের সঙ্গে মণ্টাজের সংমিশ্রণ তরুণ দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখে এবং কাহিনীর গতি বজায় রাখে। তবে কখনও কখনও সঙ্গীতের অতিরিক্ত ব্যবহার দৃশ্যের স্বাভাবিক প্রবাহকে ব্যাহত করতে পারে।
ব্রিটিশ দর্শকদের জন্য ছবির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পের বাস্তবতা। যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদী ক্যাম্পের ধারণা সাধারণত নেই, ফলে কিছু দর্শক ক্যাম্পের সেটিংকে অপ্রাকৃত মনে করতে পারেন। এই সাংস্কৃতিক পার্থক্য ছবির বিশ্বাসযোগ্যতায় প্রভাব ফেলতে পারে, যদিও গল্পের মূল বার্তা—আশা ও পুনর্নির্মাণ—সার্বজনীন।
সামগ্রিকভাবে ‘সান্নি ড্যান্সার’ একটি মিশ্র অভিজ্ঞতা প্রদান করে। যদিও কিছু অংশে অতিরিক্ত আবেগের চাপ দেখা যায়, তবে তরুণ কাস্টের স্বতঃস্ফূর্ততা ও জর্জ জ্যাক্সের পরিচালনা ছবিটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। কিশোর-কিশোরীদের জীবনের জটিলতা ও আনন্দকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারা ছবির প্রধান শক্তি।
যদি আপনি কিশোর-কিশোরীদের জীবনের উত্থান-পতন, প্রথম প্রেমের উত্তেজনা এবং কঠিন সময়ে বন্ধুত্বের শক্তি নিয়ে তৈরি চলচ্চিত্রে আগ্রহী হন, তবে ‘সান্নি ড্যান্সার’ আপনার জন্য উপযুক্ত বিকল্প হতে পারে। তবে দেখার আগে ক্যাম্পের ধারণা সম্পর্কে কিছুটা জ্ঞান রাখলে ছবির কিছু সাংস্কৃতিক পার্থক্য সহজে গ্রহণযোগ্য হবে।
শেষে, এই ধরনের চলচ্চিত্রগুলো তরুণদের আত্মবিশ্বাস ও আশা জাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই, আপনার পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে একসাথে বসে ছবিটি উপভোগ করুন এবং কিশোর-কিশোরীদের জীবনের বাস্তবতা ও স্বপ্ন নিয়ে আলোচনা করুন।



