ইউরোপীয় ফিল্ম মার্কেটের এই সপ্তাহে চিলির বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক পাব্লো লার্রাইন এবং তার দীর্ঘদিনের উৎপাদন সঙ্গী জুয়ান দে দিয়োস লার্রাইন পিজামা নামের একটি নতুন ডিজিটাল ভাড়া পরিষেবা চালু করেছেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল স্বাধীন চলচ্চিত্রের বিক্রয়‑বিতরণে বর্তমান সংকটের কিছুটা সমাধান প্রদান করা।
বিনোদন শিল্পে স্ট্রিমিং সেবার তীব্র প্রতিযোগিতা এবং থিয়েটার মডেলের অবনতি একসাথে কাজ করে বহু গুণগত চলচ্চিত্রকে বাজারের বাইরে ঠেলে দিচ্ছে। ফলে সৃষ্টিকর্তা ও দর্শকের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা বাড়ছে, এবং অনেক চলচ্চিত্র বিক্রি না হয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়।
পিজামা একটি লেনদেনভিত্তিক ভিডিও‑অন‑ডিমান্ড (VOD) প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ব্যবহারকারী সাবস্ক্রিপশন বা একচেটিয়া চুক্তি ছাড়াই একক ভাড়া করতে পারেন। পরিষেবাটি সরলভাবে কাজ করে: দর্শকরা পছন্দের চলচ্চিত্রের জন্য নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করে তা স্ট্রিম করতে পারেন।
দুই বছরের পুরোনো বা তার বেশি বয়সের চলচ্চিত্রের ভাড়া মূল্য ৩.৯৯ ডলার নির্ধারিত হয়েছে। নতুন রিলিজের ক্ষেত্রে নির্মাতা নিজেই মূল্য নির্ধারণের স্বাধীনতা পেয়েছেন, যা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সমন্বয় করা যাবে।
প্ল্যাটফর্মটি প্রায়ই সাবস্ট্যাকের মতো একটি ডিজিটাল প্রকাশনা সাইটের সঙ্গে তুলনা করা হয়, অথবা পুরনো ভিএইচএস ভাড়া দোকানের আধুনিক রূপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এই রূপকটি পরিষেবার সহজলভ্যতা ও স্বতন্ত্র ভাড়া মডেলকে তুলে ধরে।
পাব্লো লার্রাইন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে পরিচিত নাম। তিনি অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্র “নো” এবং “জ্যাকি”, “স্পেন্সার”, “এল কন্ডে” সহ বিভিন্ন প্রশংসিত কাজের পরিচালনা করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি অঞ্জেলিনা জোলির সঙ্গে “মারিয়া” ছবিতে কাজ করেছেন, যা ইংরেজি ভাষার উচ্চমানের চলচ্চিত্রের মধ্যে স্থান পেয়েছে।
পাব্লো ও জুয়ান একসাথে ফাবুলা নামের প্রযোজনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, যার মাধ্যমে অস্কার জয়ী “এ ফ্যান্টাস্টিক উমান” এবং বহু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ও সিরিজ তৈরি হয়েছে। ফাবুলা দীর্ঘদিন ধরে শিল্পের বিভিন্ন স্তরে সৃষ্টিকর্তাদের সমর্থন করে আসছে।
বছরের পর বছর চলচ্চিত্র নির্মাতা ও দর্শক উভয়ই বর্তমান বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে। এই অসন্তোষই পিজামা প্রকল্পের মূল চালিকাশক্তি, যেখানে দুজনই নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে বেরিয়ে এসে একটি বিকল্প মডেল গড়ে তুলতে চেয়েছেন।
পিজামা সৃষ্টিকর্তা ও ভোক্তার মধ্যে পুনরায় সমতা স্থাপন করতে চায়, যাতে চলচ্চিত্রের মূল্যায়ন ও উপার্জন উভয়ই ন্যায্য হয়। এই মডেলটি যদি সফল হয়, তবে স্বাধীন চলচ্চিত্রের বাজারে নতুন সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে।
সেবাটি এখনই ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত, এবং আগ্রহী দর্শকরা পিজামার ওয়েবসাইটে গিয়ে বিভিন্ন শিরোনাম ব্রাউজ করে পছন্দমতো ভাড়া নিতে পারবেন। ভবিষ্যতে আরও বেশি চলচ্চিত্র যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা শিল্পের বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করবে।
চলচ্চিত্র প্রেমিক ও শিল্পের পেশাদারদের জন্য পিজামা একটি নতুন বিকল্প উপস্থাপন করে, যেখানে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত কাজ উপভোগ করা সম্ভব। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাধীন চলচ্চিত্রের সৃষ্টিকর্তারা তাদের কাজকে বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবেন, আর দর্শকরা নতুন গল্পের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন।
সামগ্রিকভাবে পিজামা চলচ্চিত্র বিতরণে বিদ্যমান সমস্যার একটি ব্যবহারিক সমাধান হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছে। শিল্পের ভবিষ্যৎ গড়তে এই ধরনের উদ্ভাবনী মডেল কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে, তবে এখনই এটি একটি আশাপ্রদ সূচনা হিসেবে দেখা যায়।



