সাতার্ন নাইট লাইভের প্রতিষ্ঠাতা লর্ন মাইকেলসের জীবনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডকুমেন্টারি ‘Lorne’ আগামী এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা হলের পর্দায় আসছে। ফোকাস ফিচার্সের মাধ্যমে ১৭ এপ্রিল থিয়েটারে প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া এই চলচ্চিত্রটি মাইকেলসের কাজের পেছনের গল্পকে বিশদভাবে তুলে ধরবে। ডকুমেন্টারিটি তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে নথিভুক্ত করে, যা আগে কখনো জনসাধারণের সামনে প্রকাশ পায়নি।
‘Lorne’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা হলেন অস্কারজয়ী ডকুমেন্টারি নির্মাতা মরগান নেভিল, যিনি মাইকেলসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এই প্রকল্পে প্রযোজকের কাছ থেকে প্রাপ্ত বিশেষ অনুমতি দিয়ে অতীতের অপ্রকাশিত ভিডিও, আর্কাইভাল ফটো এবং বিভিন্ন সময়ের রেকর্ডিং অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে দর্শকরা মাইকেলসের সৃজনশীল প্রক্রিয়া এবং স্নল-এর গোপন পটভূমি সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পাবেন।
ডকুমেন্টারিতে টিনা ফে, ক্রিস রক, কনান ও’ব্রায়েন, মায়া রুডলফ, অ্যান্ডি সামবার্গ এবং জন মুলানির মতো স্নল-এর মূল ব্যক্তিত্বদের সাক্ষাৎকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই শিল্পী ও কমেডিয়ানরা মাইকেলসের সঙ্গে কাজের সময়ের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন, যা চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করে তুলেছে। তাদের কথায় মাইকেলসের নেতৃত্বের ধরন, রসিকতা এবং টিমের সঙ্গে তার সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ পায়।
লর্ন মাইকেলস ১৯৭৫ সালের ১১ অক্টোবর এনবিসি-তে স্নল চালু করার পর থেকে শোটি ৫০ বছর পূর্ণ করেছে এবং বর্তমানে ৫১তম সিজন পর্যন্ত চলমান। শোটি তার সূচনালগ্ন থেকেই আমেরিকান টেলিভিশনের অন্যতম প্রভাবশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত, এবং ‘Lorne’ ডকুমেন্টারিটি এই ঐতিহাসিক যাত্রার নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করবে।
মাইকেলসের ক্যারিয়ার ২৪টি এমি পুরস্কার দিয়ে সজ্জিত, যা তার টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র উভয় ক্ষেত্রের অবদানের স্বীকৃতি। তিনি ‘ওয়েইনস ওয়ার্ল্ড’, ‘মিন গার্লস’ এবং ‘বেবি মামা’ সহ বেশ কিছু হিট চলচ্চিত্রের প্রযোজনা করেছেন। তাছাড়া ‘দ্য কিডস ইন দ্য হল’, ‘৩০ রক’, ‘পোর্টল্যান্ডিয়া’ এবং ‘দ্য টুনাইট শো স্টারিং জিমি ফেলন’ সিরিজে তার সৃজনশীল অবদান রয়েছে।
স্নল থেকে বহু শিল্পী তার ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন; জন বেলুশি, চেভি চেজ, গিল্ডা রাডনার, বিল মুরে, আদাম স্যান্ডলার, এমি পোহলার, উইল ফেরেল এবং বাওয়েন ইয়াং এর মতো নামগুলো শোয়ের অ্যালুমনিতে অন্তর্ভুক্ত। এই শিল্পীরা স্নল-এ তাদের প্রথম পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন, যা মাইকেলসের ট্যালেন্ট স্কাউটিং ও মেন্টরশিপের ফলাফল।
মাইকেলসের চরিত্রকে পূর্বে ২০২৪ সালে সনি প্রকাশিত ‘Saturday Night’ চলচ্চিত্রে গ্যাব্রিয়েল লাবেল অভিনয় করেছেন। জেসন রেইটম্যানের পরিচালনায় তৈরি এই ফিচারটি স্নল-এর প্রথম এপিসোডের গল্প বলেছে এবং মাইকেলসের শুরুর দিনগুলোকে চিত্রিত করেছে। ‘Lorne’ ডকুমেন্টারিটি সেই সময়ের অতিরিক্ত দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করে, যা দর্শকদের মাইকেলসের ব্যক্তিগত ও পেশাগত দিক উভয়ই বুঝতে সাহায্য করবে।
‘Lorne’ এর মুক্তি স্নল ভক্ত এবং টেলিভিশন ইতিহাসের অনুরাগীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে গণ্য হচ্ছে। ডকুমেন্টারিটি মাইকেলসের সৃজনশীল যাত্রা, তার নেতৃত্বের নীতি এবং স্নল-এর সাংস্কৃতিক প্রভাবকে নতুন আলোকে উপস্থাপন করবে। আগামি সপ্তাহগুলোতে চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বিস্তৃতভাবে প্রদর্শিত হবে, যা মাইকেলসের কাজের প্রতি নতুন প্রশংসা ও আলোচনা উন্মুক্ত করবে।



