বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্যানোরামা বিভাগে সম্প্রতি কেলি ওসুলিভান ও অ্যালেক্স থম্পসন যৌথভাবে পরিচালিত নতুন চলচ্চিত্র ‘মাউস’ প্রদর্শিত হয়েছে। ছবিতে সোপি ওকোনেডো, ক্যাথরিন মালেন কুপফারার, ক্লোই কোলম্যানসহ এক বহুমুখী কাস্টের অংশগ্রহণ রয়েছে এবং দুই ঘণ্টার সময়সীমা নিয়ে দর্শকদের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে।
কেলি ওসুলিভান ও অ্যালেক্স থম্পসনের পূর্বের কাজগুলোতে সামাজিক ও ব্যক্তিগত সংকটের মধ্য দিয়ে আত্ম-অন্বেষণের থিম দেখা যায়। ‘সেইন্ট ফ্রান্সিস’ ছবিতে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ ও গর্ভপাতের মাধ্যমে তরুণীর আত্মবিশ্বাসের ক্ষয় চিত্রিত হয়েছে, আর ‘ঘোস্টলাইট’ এ মধ্যবয়সী নির্মাণ কর্মী তার কিশোর সন্তান হারানোর পর থিয়েটার গোষ্ঠীতে যোগ দিয়ে সমবায়ের শক্তি খুঁজে পায়।
‘মাউস’ তাদের সর্বশেষ এবং সম্ভবত সেরা কাজ হিসেবে বিবেচিত, যেখানে মূল চরিত্রটি হল ১৭ বছর বয়সী মিননি, যাকে ক্যাথরিন মালেন কুপফারার অভিনয় করেছেন। মিননি এক সময় তার দীর্ঘদিনের বন্ধুর কলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল, তবে হঠাৎ কলি চলে যাওয়ায় সে একাকিত্বের মুখোমুখি হয়। এই শূন্যতা ও আত্ম-অন্বেষণের যাত্রা ছবির মূল কাঠামো গঠন করে।
মিন্নির চরিত্রকে চিত্রিত করতে পরিচালকরা চাখভের ‘দ্য সিগল’ থেকে একটি লাইন ব্যবহার করে তার মনোভাব প্রকাশ করেছেন, তবে ছবিতে তাকে চাখভীয় চরিত্র হিসেবে নয়, বরং আধুনিক কিশোরীর দুঃখের ছায়া হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তার অস্থিরতা ও আত্মবিশ্বাসের অভাবকে সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা দর্শকের সঙ্গে সহজে সংযোগ স্থাপন করে।
সোপি ওকোনেডো ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করেন, যা তার অভিজ্ঞতা ও গভীরতা দিয়ে গল্পে অতিরিক্ত স্তর যোগ করে। অন্যান্য কাস্ট সদস্যদের মধ্যে রয়েছে ক্লোই কোলম্যান, তারা মালেন, অড্রি গ্রেস মার্শাল, অ্যাডিসিন কেইন, বেক নোলান, ক্রিস্টোফার আর. এলিস, ইমান ভেল্লানি এবং ডেভিড হাইড পিয়ার্স। প্রত্যেকের পারফরম্যান্স ছবির আবেগময় পরিবেশকে সমৃদ্ধ করে।
‘মাউস’ একটি সংবেদনশীল নাটক, যেখানে হারানো, একাকিত্ব, অপ্রত্যাশিত সংযোগ এবং যৌবনের পরিবর্তনশীল মুহূর্তগুলোকে সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে, ছবির মধ্যে লিঙ্গ পরিচয় ও আত্ম-প্রকাশের বিষয়গুলোকে স্বাভাবিক ও স্বচ্ছন্দভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে, যা তরুণ দর্শকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
চিত্রনাট্য লেখক কেলি ওসুলিভান নিজেই, যিনি পূর্বে পরিচালনা ও লেখালেখি উভয়ই করেছেন, তার দৃষ্টিকোণ থেকে গল্পের গঠন করা হয়েছে। তার লেখনীতে বাস্তবতা ও কল্পনার মিশ্রণ দেখা যায়, যা ছবির বর্ণনাকে প্রাঞ্জল ও প্রভাবশালী করে তুলেছে।
বার্লিন ফেস্টিভ্যালে ‘মাউস’ এর প্রিমিয়ারটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্যানোরামা বিভাগে নির্বাচিত হওয়া মানে ছবিটি শিল্পমূলক মানদণ্ডে উচ্চমানের হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। দর্শকরা ছবির সূক্ষ্ম বর্ণনা ও চরিত্রের বিকাশে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন।
চিত্রের দৃশ্যমান নকশা ও রঙের ব্যবহারও প্রশংসিত হয়েছে; উজ্জ্বল রঙের মাধ্যমে চরিত্রের অন্তর্গত উথলান ও দুঃখকে দৃশ্যমান করা হয়েছে। সাউন্ডট্র্যাকের নির্বাচনও গল্পের মেজাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা দর্শকের অনুভূতিকে তীব্র করে।
‘মাউস’ এর থিমগুলো আধুনিক সমাজের তরুণ প্রজন্মের মুখোমুখি চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। একাকিত্বের সময়ে নতুন বন্ধুত্বের সন্ধান, আত্ম-পরিচয়ের পথে অগ্রসর হওয়া এবং সামাজিক প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা করা—এই সবই ছবির মূল বার্তা।
ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের পরবর্তী সপ্তাহে ‘মাউস’ আন্তর্জাতিক বাজারে মুক্তি পাবে বলে জানা গেছে। তাই চলচ্চিত্রপ্রেমী ও তরুণ দর্শকরা এই কাজটি বড় পর্দায় উপভোগ করার সুযোগ পেতে পারেন।
সামগ্রিকভাবে, ‘মাউস’ একটি সূক্ষ্মভাবে নির্মিত, হৃদয়স্পর্শী চলচ্চিত্র যা আত্ম-অন্বেষণ ও মানবিক সম্পর্কের জটিলতা তুলে ধরে। চলচ্চিত্রের গভীরতা ও স্নেহপূর্ণ উপস্থাপনাকে বিবেচনা করে, এটি তরুণ ও বয়স্ক উভয় দর্শকের জন্যই প্রাসঙ্গিক।
যদি আপনি বার্লিন ফেস্টিভ্যালে উপস্থিত না হয়ে থাকেন, তবে এই ছবিটি আপনার প্ল্যাটফর্মে আসার অপেক্ষায় থাকুন। আত্ম-অন্বেষণের যাত্রা, বন্ধুত্বের পুনর্নির্মাণ এবং নিজের পরিচয় গড়ে তোলার গল্পটি আপনার হৃদয়কে স্পর্শ করবে এবং নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করবে।



