বিটিএসের সাতজন সদস্যের গঠন করা দলটি মার্চ ২০ তারিখে ‘আরিরাং’ শিরোনামের নতুন অ্যালবাম প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই রেকর্ডটি ২০২০ সালের ‘বিলবোর্ড ২০০‑টপিং’ অ্যালবাম ‘বি’‑এর পর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য কাজ হবে। গোষ্ঠীটি গ্লোবাল ফ্যানবেসের প্রত্যাশা মেটাতে এই প্রকল্পে নতুন সুর ও থিম উপস্থাপন করবে।
‘আরিরাং’ অ্যালবামটি বিটিএসের পূর্বের সঙ্গীতের তুলনায় বেশি পরিপক্ক দিক তুলে ধরবে বলে জানানো হয়েছে। সঙ্গীতের ধরণে বৈচিত্র্য আনা হবে এবং গানের গঠনেও নতুনত্ব দেখা যাবে। স্যুগা উল্লেখ করেছেন, “এবারের অ্যালবামটি বিটিএসের পূর্বের কাজ থেকে বেশ আলাদা শোনাবে।”
স্যুগা আরও বলেন, “আইডল গ্রুপের সীমানা কখনও কখনও জীবনের নেতিবাচক দিককে সীমাবদ্ধ করে রাখে, তবে শিল্পী ও ব্যক্তিগতভাবে আমাদের উভয় দিক—ইতিবাচক ও নেতিবাচক—প্রকাশের অধিকার আছে।” তিনি যোগ করেন, “এই অ্যালবামটি আত্মপর্যালোচনা ও চিন্তার মাধ্যমে গঠিত, তাই শোনার পর নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পাবেন।”
গত তিন বছর ধরে সদস্যরা একে একে সলো প্রকল্প প্রকাশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সেবা সম্পন্ন করেছেন। রিএম, জিন, জে-হোপ, জিমিন, ভি এবং জুংকুকেরা ব্যক্তিগতভাবে সঙ্গীত ও শিল্পে নিজস্ব ছাপ রেখে গেছেন। গ্রীষ্মে তারা উইভার্স লাইভস্ট্রিমে ফ্যানদের সঙ্গে নতুন অ্যালবাম ও ২০২৬ সালের বিশ্ব ট্যুরের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ফ্যানদের উত্তেজনা অতুলনীয়; বিটিএসের ফিরে আসা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমের আলোচনায় মন্তব্যের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘ বিরতির পরেও গোষ্ঠীর সৃষ্টিশীল শক্তি ও জনপ্রিয়তা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা নতুন রেকর্ডের প্রত্যাশাকে আরও উঁচু করে তুলেছে।
গ্র্যামি পুরস্কারের দিকেও বিটিএসের মনোযোগ রয়েছে। ২০২১ সালে প্রথম ক‑পপ গোষ্ঠী হিসেবে গ্র্যামি নোমিনেশন পেয়ে তারা ২০২২ সালেরও একই ক্যাটেগরিতে নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, তবে দুবারই সেরা পপ ডুয়েট/গ্রুপ পারফরম্যান্স পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
এই মুহূর্তে গ্র্যামি জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে রিএমের মন্তব্য স্পষ্ট। তিনি বললেন, “সময় পেরিয়ে গেছে, এখন ক‑পপের প্রার্থীরা সাধারণ ক্যাটেগরিতে বেশি দেখা যায়।” তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, “এখন গ্র্যামি জয় করা আমাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এখনও পরিষ্কার নয়।”
বিটিএসের ‘আরিরাং’ অ্যালবাম প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ২০২৬ সালের বিশ্ব ট্যুরের পরিকল্পনাও প্রকাশিত হয়েছে। ভক্তরা নতুন সুর, নতুন মঞ্চ এবং গ্লোবাল পারফরম্যান্সের অপেক্ষায় রয়েছেন, আর গোষ্ঠীটি এই সুযোগে সঙ্গীতের নতুন দিক অনুসন্ধান করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের অবস্থান দৃঢ় করতে চায়।



