18 C
Dhaka
Saturday, February 14, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধডিইউসিএসই সেক্রেটারির ওপর ভারতীয় নম্বরের মৃত্যুমূলক হুমকি, গেনারেল ডায়েরি দাখিল

ডিইউসিএসই সেক্রেটারির ওপর ভারতীয় নম্বরের মৃত্যুমূলক হুমকি, গেনারেল ডায়েরি দাখিল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের (ডিইউসিএসই) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সেক্রেটারি মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ শুক্রবার রাতে শাহবাগ পুলিশ স্টেশনে একটি গেনারেল ডায়েরি (জিডি) দাখিল করেন। তিনি জানান, একই রাতের প্রায় ১ঃ৩৮ টায় ডিইউসিএসই অফিসে কাজের সময় তার মোবাইলে একটি অজানা ভারতীয় নম্বর থেকে ফোন আসি, যার মাধ্যমে তাকে মৃত্যুমূলক হুমকি জানানো হয়। হুমকি দাতার পরিচয় প্রকাশ না করে তিনি “তোমাকে মেরে ফেলা হবে এবং দেহটি ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে” বলে সতর্ক করেন।

মুসাদ্দিকের মতে, হুমকির পর তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগে আছেন এবং ভবিষ্যতে কোনো প্রমাণের প্রয়োজন হলে জিডি হিসেবে রেকর্ড করা জরুরি মনে করেন। তাই তিনি রাত ৮ঃ৫০ টার দিকে শাহবাগ থানা-তে গিয়ে বিষয়টি লিখিতভাবে নথিভুক্ত করেন।

থানার কর্মকর্তারা জিডি গ্রহণের পর ঘটনাটির প্রাথমিক নথি প্রস্তুত করেন এবং হুমকির ফোন নম্বরটি ট্রেস করার জন্য প্রযুক্তিগত দলকে নির্দেশ দেন। বর্তমানে ফোনের সঠিক উৎস ও কলের রেকর্ড যাচাই করার কাজ চলছে।

ডিইউসিএসই অফিসে কাজের সময় হুমকি পাওয়া যায় বলে মুসাদ্দিকের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, হুমকির সময় তিনি একা ছিলেন না, তবে কলের বিষয়বস্তু স্পষ্টভাবে শোনার পর তৎক্ষণাৎ পুলিশে জানাতে বাধ্য হন।

শাহবাগ থানা-র তদন্তকারী অফিসার জিডি-তে উল্লিখিত তথ্যের ভিত্তিতে একটি অপরাধমূলক রিপোর্ট (এফআইআর) দায়েরের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছেন। হুমকি দাতা যদি কোনো অপরাধমূলক কাজের পরিকল্পনা করে থাকে, তবে তা আইনের আওতায় আনা হবে।

ডিইউসিএসই-র সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সেক্রেটারি হিসেবে মুসাদ্দিকের দায়িত্বের মধ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ইভেন্ট ও প্রকাশনা পরিচালনা অন্তর্ভুক্ত। তার এই পদে থাকা অবস্থায় হুমকির মুখে পড়া ছাত্র সংগঠনের নিরাপত্তা নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

পুলিশের মতে, আন্তর্জাতিক কলের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি বা টেলিকম অপারেটরের সহযোগিতা প্রয়োজন হতে পারে। তাই হুমকির নম্বরটি যদি সত্যিই ভারতীয় হয়, তবে তা ট্রেস করতে দু’দেশের সংস্থার সমন্বয় প্রয়োজন হবে।

ডিইউসিএসই-র অন্যান্য সদস্যরা মুসাদ্দিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন, ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে হুমকি পাওয়া হলে তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও শান্তির জন্য হুমকি স্বরূপ।

আইনি দিক থেকে, হুমকি দেওয়া অপরাধের শাস্তি বাংলাদেশি দণ্ডবিধি অনুযায়ী কঠোর। হুমকি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে গ্রেফতার করে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।

এই ঘটনার পর ডিইউসিএসই প্রশাসন নিরাপত্তা সংক্রান্ত নীতি পুনর্বিবেচনা করার কথা প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে এমন হুমকি এড়াতে প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।

অধিকন্তু, হুমকির সময় ফোনের কল লগ এবং রেকর্ড সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। পুলিশ এই রেকর্ডের ভিত্তিতে কলের উৎস ও সম্ভাব্য দায়ী ব্যক্তির সনাক্তকরণে অগ্রসর হবে।

বিষয়টি জনমতেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে; বিভিন্ন সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ছাত্র সংগঠন ও নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা চালু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অতিরিক্ত হুমকি বা অনুরূপ ঘটনা রিপোর্ট করা যায়নি।

অবশেষে, মুসাদ্দিকের গেনারেল ডায়েরি দাখিলের মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক নথি তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আইনি প্রক্রিয়ায় প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। তদন্ত চলমান থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আপডেটের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments