হাঙ্গেরির আসন্ন পার্লামেন্টারি নির্বাচনের দুই মাসেরও কম সময় বাকি থাকায়, বিরোধী নেতা পিটার ম্যাগাররোয়ান তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে গোপনে রেকর্ড করা যৌন ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি এই অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
ম্যাগাররোয়ান, যিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের তুলনায় সাম্প্রতিক জরিপে অগ্রগতি দেখাচ্ছেন, আগস্ট ২০২৪-এ একটি পার্টিতে তার এক প্রাক্তন বান্ধবীর সঙ্গে সম্মতিপূর্ণ যৌন সম্পর্কের ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ঐ সময়ের রেকর্ডিংটি গোপন সেবার সরঞ্জাম দিয়ে তৈরি হতে পারে এবং সম্ভবত পরিবর্তিতও হতে পারে।
এই অভিযোগের পেছনে একটি অনলাইন ফটো রয়েছে, যেখানে একটি অ্যাপার্টমেন্টের শোবার ঘরের ছবি প্রকাশিত হয়েছিল, যা ঐ সময়ের সাথে সম্পর্কিত বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ভিডিও প্রকাশিত হয়নি।
অরবানের ফিদেজ পার্টির প্রধান ব্যক্তিত্বরা এই দাবির সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং কোনো তথ্য জানেন না বলে জানান। বিবিসি এই বিষয়টি নিয়ে অরবানের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে, তবে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ম্যাগাররোয়ান ফিদেজকে তার নির্বাচনী প্রচারকে বাধা দিতে এবং তার তিন সন্তানসহ শেষ সপ্তাহটি নষ্ট করার চেষ্টা করার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ফিদেজের নেতারা তার জাতীয় পর্যায়ের প্রচার শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই পরিকল্পনা চালু করতে চেয়েছে।
ফিদেজের যোগাযোগ পরিচালক তামাশ মেনসার ম্যাগাররোয়ানকে মিথ্যা বলার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। একই সঙ্গে অরবানের প্রধান কর্মী গেরগেলি গুলিয়াস মিডিয়ার প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন যে তিনি এমন কোনো বিষয়ের সম্পর্কে মন্তব্য করতে পারবেন না, যেটি তিনি জানেন না।
ম্যাগাররোয়ানের টিসজা পার্টি, যা কেন্দ্র-ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত, সর্বশেষ আইডিয়া ইনস্টিটিউটের জরিপে অরবানের ফিদেজের তুলনায় কমপক্ষে আট পয়েন্ট অগ্রগতি দেখাচ্ছে। এই জরিপের ফলাফল নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দৃশ্যপটে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নির্দেশ করে।
ম্যাগাররোয়ান পূর্বে একই প্রাক্তন বান্ধবীর বিরুদ্ধে ১৫ মাস আগে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছিলেন, যা তিনি অস্বীকার করেন। প্রাক্তন বান্ধবী মিডিয়ায় জানান, উভয়ই ভিডিওর শিকার এবং তিনি ম্যাগাররোয়ানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
বহুদিনের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি সত্যিই এমন কোনো ভিডিও প্রকাশ পায়, তবে তা নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং উভয় পক্ষই বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথা বলছে।
ম্যাগাররোয়ান তার অভিযোগের ভিত্তিতে হাঙ্গেরি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার পরিকল্পনা জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের ব্ল্যাকমেইল প্রচেষ্টা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং তা দ্রুত থামাতে হবে।
অরবানের সরকার ১৬ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে এবং ১২ এপ্রিল নির্ধারিত পার্লামেন্টারি নির্বাচনে তার দল ফিদেজের নেতৃত্বে রয়েছে। নির্বাচনের আগে উভয় দলের প্রচারমূলক কার্যক্রম তীব্রতর হয়ে উঠেছে।
ফিদেজের প্রচারাভিযান এখন পর্যন্ত মূলত অরবানের নেতৃত্বকে সমালোচনা করে এবং তার নীতি-নির্ধারণকে লক্ষ্যবস্তু করে। তবে ম্যাগাররোয়ানের অভিযোগের পর থেকে দলটি এই বিষয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
এই ঘটনার পর হাঙ্গেরি রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নাগরিকদের মধ্যে তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত উভয় দলই তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
অবশেষে, হাঙ্গেরি নির্বাচন কমিশন এখনও এই অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেনি, তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল এবং এই ব্ল্যাকমেইল অভিযোগের পরিণতি দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে নির্ধারণ করবে।



