স্ট্যানফোর্ডের স্নাতকোত্তর ছাত্র হেনরি ওয়েং ভ্যালেন্টাইন ডে নিকটবর্তী সময়ে তার তৈরি ডেট ড্রপ সেবার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নতুন রোমান্সের সুযোগ দিচ্ছেন। এই সেবা একটি অ্যালগরিদমের ওপর ভিত্তি করে, যা সপ্তাহে একবার প্রশ্নাবলীর উত্তর বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সঙ্গীর সাথে মিলিয়ে দেয়।
ডেট ড্রপ প্রথমবারের মতো শীতকালীন সেমিস্টারে চালু হয় এবং স্ট্যানফোর্ডের ৫,০০০ এর বেশি শিক্ষার্থী এটি ব্যবহার করেছে। ব্যবহারকারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক সপ্তাহে একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ম্যাচ পান, যা টুইন্টারের তুলনায় প্রায় দশ গুণ বেশি বাস্তব ডেটে রূপান্তরিত হয়।
সেবাটি স্ট্যানফোর্ডের বাইরে বিস্তৃত হয়ে এমআইটি, প্রিন্সটন এবং পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ দশটি অতিরিক্ত ক্যাম্পাসে চালু হয়েছে। ওয়েংের পরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রীষ্মের মধ্যে কিছু শহরে এই মডেলটি চালু করা হবে, যাতে আরও তরুণরা ঐতিহ্যবাহী অনলাইন ডেটিংয়ের বদলে এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারে।
প্রাথমিকভাবে ডেট ড্রপকে শুধুমাত্র ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিলেন ওয়েং, তবে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা সেবার মাধ্যমে সঙ্গী পেয়ে যখন সাফল্য দেখলেন, তখনই এটি একটি বৃহত্তর প্রকল্পে রূপান্তরিত হওয়ার সংকেত পেল। এরপর তিনি এই সেবাকে তার নতুন স্টার্টআপের প্রথম পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে সিদ্ধান্ত নিলেন।
ওয়েংের স্টার্টআপের নাম রিলেশনশিপ কোম্পানি, যা একটি পাবলিক বেনিফিট কর্পোরেশন হিসেবে নিবন্ধিত। এই ধরণের সংস্থা লাভের পাশাপাশি সামাজিক প্রভাব বিবেচনা করতে বাধ্য, ফলে ডেট ড্রপের সামাজিক মূল্যায়নকে ব্যবসায়িক মডেলের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
স্টার্টআপের আর্থিক সমর্থন হিসেবে ওয়েং কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিনিয়োগ পেয়েছেন। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে জিঙ্গার প্রতিষ্ঠাতা এবং মেটা (পূর্বে ফেসবুক) এর প্রাথমিক সমর্থক মার্ক পিনকাস, যিনি স্ট্যানফোর্ডে ব্যবসা কোর্সও পড়িয়েছেন। এছাড়া কোচুয়েটের প্রাক্তন পার্টনার অ্যান্ডি চেন এবং এয়ারবিএনবি, স্ট্রাইপ, পিন্টারেস্টের প্রাথমিক সমর্থক এলাড গিলও এই রাউন্ডে অংশগ্রহণ করেছেন।
ডেট ড্রপের মূল বৈশিষ্ট্য হল প্রশ্নাবলীর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিত্ব, আগ্রহ এবং মূল্যবোধের গভীর বিশ্লেষণ, যা স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিক সম্ভাব্য সঙ্গীর তুলনায় একটিমাত্র মানানসই ম্যাচ প্রদান করে। এই পদ্ধতি ব্যবহারকারীদের স্বল্প সময়ে অপ্রয়োজনীয় ম্যাচের ঝামেলা কমিয়ে দেয় এবং বাস্তবিক ডেটের সম্ভাবনা বাড়ায়।
ওয়েং উল্লেখ করেছেন, সেবা চালু হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেটের রূপান্তর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রচলিত সোশ্যাল ডেটিং অ্যাপের তুলনায় একটি স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি করে। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এই মডেলটি শহুরে যুব সমাজের জন্যও প্রয়োগ করা হবে, যাতে অনলাইন ডেটিংয়ের মানসিক চাপ কমে এবং বাস্তবিক সংযোগের সুযোগ বাড়ে।
ডেট ড্রপের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগের সাফল্য দেখিয়ে দেয় যে প্রযুক্তি ভিত্তিক সামাজিক সেবা এখন ব্যবসায়িক মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। ওয়েংের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন ডেটিং পদ্ধতি প্রদান করার পাশাপাশি, সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে মুনাফা অর্জনের একটি উদাহরণ স্থাপন করেছে।
এই সেবার ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি হল আরও বিশ্ববিদ্যালয় এবং শহরে বিস্তৃত হওয়া, যাতে তরুণরা স্বয়ংক্রিয় মিলন সিস্টেমের মাধ্যমে গভীর সংযোগ গড়ে তুলতে পারে। ওয়েংের লক্ষ্য হল ডেট ড্রপকে শুধুমাত্র একটি অ্যাপ নয়, বরং একটি সামাজিক পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে ব্যবহারকারীর সন্তুষ্টি এবং সামাজিক প্রভাব উভয়ই সমান গুরুত্ব পায়।



