শুক্রবার বিকেল চারটায় রংপুর-৪ আসনের পুনরায় ভোটের দাবি তুলে ধরে বিএনপি নেতাকর্মীরা হারাগাছ বাজারে সড়ক অবরোধ করেন। এই পদক্ষেপের ফলে হারাগাছ‑রংপুর প্রধান সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং আশেপাশের দোকানদাররা আতঙ্কের কারণে ব্যবসা বন্ধ করে রাখে।
অবরোধে অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যে বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসার সমর্থক ও স্থানীয় কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত। তারা মূল সড়কে দাঁড়িয়ে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান তোলেন এবং নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।
হারাগাছা থানার ওসি অশোক চৌহান এই ঘটনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করার কথা জানান। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শীতল করার চেষ্টা করেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে সড়ক অবরোধের বিস্তার রোধ করা হয়।
বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা, যিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে হারিয়ে যান, রাতের দিকে নিজের বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করে ভোট কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “আমি বহু ভোটে জিততে পারতাম; পুনরায় ভোট গণনা হলে জয় নিশ্চিত হবে।” এছাড়া তিনি নির্বাচন দিবসে প্রশাসনের কর্মীদের সঙ্গে বেইমানি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে রংপুর-৪ আসনে জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী, এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেন, এমদাদুল হক ভরসার ওপর এক লাখ চৌঁয়ান্ন হাজার নয়শ ছয়শো ছয়টি (১,৪৯,৯৬৬) ভোট নিয়ে বিজয়ী হন। ভরসা ১,৪০,৫৬৪ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে শেষ হন।
বিএনপি কর্মীরা ফলাফলে অনিয়ম ও কারচুপির ইঙ্গিত দিয়ে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি তীব্রভাবে তোলেন। তারা নির্বাচন কমিশনের নজরদারির ঘাটতি তুলে ধরে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
অধিকাংশ স্থানীয় বাসিন্দা অবরোধের সময় সড়ক বন্ধের ফলে চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অসুবিধা অনুভব করেন। কিছু ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে রাখেন, অন্যরা বিকল্প রুটে গিয়ে গ্রাহক পৌঁছাতে ব্যর্থ হন।
প্রশাসনিক দিক থেকে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। তবে অবরোধের সময়কালে কোনো শারীরিক সংঘর্ষের রেকর্ড নেই।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে পুনরায় ভোটের দাবি নিয়ে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে, আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটের বৈধতা ও ফলাফলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ প্রত্যাশিত।
রংপুর-৪ আসনে পুনরায় ভোটের দাবি এবং সড়ক অবরোধের ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে সকল রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের সমন্বিত কাজের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।



