লেস্টার সিটি হোম গ্রাউন্ডে সাউদাম্পটনের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে তিন গোলের সুবিধা পেয়ে খেলা শুরু করলেও, দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের তীব্র আক্রমণে ঘরোয়া জয় হারিয়ে ৪-৩ স্কোরে পরাজিত হয়েছে। এই ফলাফল দলকে আর্থিক শাস্তি পাওয়ার চার দিন পরই পুনরায় বিপদের মুখে ফেলেছে।
দলটি মাত্র চার দিন আগে আর্থিক লঙ্ঘনের জন্য ছয় পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়েছিল, ফলে লিগ টেবিলে ড্রপ জোনের ঠিক এক স্থান উপরে অবস্থান করে। এই পরিস্থিতি লেস্টারকে লিগ ওয়ান-এ অবতরণের ঝুঁকিতে ফেলেছে, যেখানে ধারাবাহিক দু’বছর অবতরণ ঘটলে ক্লাবের ইতিহাসে নতুন অন্ধকার অধ্যায় যোগ হবে।
ক্লাবের বর্তমান ইন্টারিম্যান হিসেবে কাজ করছেন অ্যান্ডি কিং, যিনি গত মাসে মার্টি সিফুয়েন্টেসের পদত্যাগের পর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিং উল্লেখ করেন, “রাতটি ভয়ানক ছিল, খেলোয়াড়রা রাগে ভরপুর এবং তারা দ্রুত সমস্যার সমাধানে কাজ করছে।” তিনি পূর্ণকালীন কোচিং পদের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ না করলেও, দলের বর্তমান সংকটের মধ্যে তার নেতৃত্বের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ রয়ে গেছে।
লেস্টার সিটির ইতিহাসে ২০১৫-১৬ মৌসুমে ৫,০০০-১ অডসের দারুণ অপ্রত্যাশিত শিরোপা জয় এবং ২০২১ সালে ১৬-১ অডসে এফএ কাপ জয় অন্তর্ভুক্ত। এই সাফল্যগুলোকে ছাপিয়ে, সম্প্রতি দলটি আর্থিক শাস্তি এবং মাঠে পরাজয়ের সম্মুখীন হয়ে ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে তুলেছে।
ক্লাবের ব্যবস্থাপনা এখন কোচিং পদের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করেছে। স্টিভেন গেরার্ড এবং শ্যান ডাইচের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো করা হয়নি। কিং নিজে পূর্ণকালীন দায়িত্ব নিতে অনিচ্ছুক হওয়ায়, ক্লাবের নেতৃত্বকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
লেস্টার সিটির প্রাক্তন কোচ স্টিভ কোপার, রুড ভ্যান নিসটেলরোয় এবং মার্টি সিফুয়েন্টেসের সময়কালে দলের ওপর আর্থিক ও ক্রীড়া দিক থেকে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন কিংও এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যেখানে তিনি দলের পারফরম্যান্স ও আর্থিক শৃঙ্খলা দুটোই সামলাতে বাধ্য।
সাউদাম্পটন, যাদের বিরুদ্ধে লেস্টার প্রথমার্ধে বড় সুবিধা পেয়েছিল, তারা দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণাত্মক পরিবর্তন আনে এবং শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচের শেষ মিনিটে সমতা ভেঙে সাউদাম্পটনের গোলদাতা দলকে জয় এনে দেয়, যা লেস্টারের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়।
লেস্টার সিটির ভক্তরা হোম ম্যাচে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে, কিছু ভক্তের মন্তব্যে তারা ক্লাবের শার্ট পরার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সূত্রে বলা হয়েছে, খেলোয়াড়রা এই সমালোচনাকে গৃহীত করে কঠোর পরিশ্রমে ফিরে এসেছে।
প্রশাসনিক শাস্তি এবং মাঠে পরাজয়ের ফলে লেস্টার সিটি এখন লিগ টেবিলে ১৯তম স্থানে রয়েছে, যেখানে এক পয়েন্টের পার্থক্যে ড্রপ জোনের সাথে সংযুক্ত। পরবর্তী ম্যাচে দলটি এই গ্যাপ কমিয়ে আনার চেষ্টা করবে, তবে প্রতিপক্ষের শক্তি এবং নিজের দুর্বলতা দুটোই সমানভাবে বিবেচনা করতে হবে।
লেস্টার সিটির পরবর্তী প্রতিপক্ষের তালিকায় প্রিমিয়ার লিগের অন্যান্য শক্তিশালী দল রয়েছে, যা দলকে পুনরায় সাফল্যের পথে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ হবে। কোচিং স্টাফের পরিবর্তন এবং খেলোয়াড়দের মানসিকতা পুনর্গঠন এই লক্ষ্য অর্জনে মূল ভূমিকা পালন করবে।
ক্লাবের আর্থিক অবস্থা সংশোধনের জন্য ইতিমধ্যে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তবে শাস্তি কার্যকর হওয়ার পরেও আর্থিক নিয়মাবলী মেনে চলা এবং পয়েন্ট পুনরুদ্ধার করা কঠিন কাজ। এই প্রেক্ষাপটে লেস্টার সিটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাজেট ব্যবস্থাপনা পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।
সারসংক্ষেপে, লেস্টার সিটি অর্ধ‑ঘণ্টা তিন গোলের সুবিধা হারিয়ে সাউদাম্পটনের কাছে পরাজিত হয়েছে, আর্থিক শাস্তি এবং কোচিং অনিশ্চয়তার মধ্যে দলটি এখন লিগ টেবিলে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। ক্লাবের ব্যবস্থাপনা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে কোচিং পদের স্থায়ী দায়িত্ব নির্ধারণ এবং দলকে পুনরুদ্ধার করার পরিকল্পনা করতে হবে।



