সৌদি আরব ও কাতার রিয়াদ ও দোহা শহরকে ৭৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ উচ্চগতির রেললাইন দিয়ে যুক্ত করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। দু’দেশের শীর্ষ নেতারা এবং পরিবহন মন্ত্রীরা চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রকল্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছেন। এই রেল সিস্টেম ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে চলবে এবং দুই রাজধানীর মধ্যে ভ্রমণ সময় প্রায় দুই ঘণ্টায় কমিয়ে দেবে।
চুক্তি স্বাক্ষরে উপস্থিত ছিলেন সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে সৌদি পরিবহন মন্ত্রী সালেহ আল‑জাসসার এবং কাতারের পরিবহন মন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল থানি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
রেললাইনটি আল‑হোফুফ ও দাম্মামসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোকে অতিক্রম করবে, পাশাপাশি কিং সালমান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। এই সংযোগের ফলে বিমান ও রেল পরিবহনের সমন্বয় সহজ হবে এবং বাণিজ্যিক লজিস্টিক্সের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
প্রকল্পের মোট বিনিয়োগ প্রায় ১১,৫০০ কোটি সৌদি রিয়াল, যা উভয় দেশের মোট জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। উচ্চগতির রেল সেবা চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটন, ব্যবসা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ত্বরান্বিত বৃদ্ধি প্রত্যাশিত।
প্রকল্পের তহবিলের বড় অংশ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাংক, সউদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড এবং কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি থেকে সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া, রেল নির্মাণে জাপানি ও ইউরোপীয় প্রযুক্তি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
নিয়োগের দিক থেকে এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ৩০,০০০েরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে সরকারী অনুমান। নির্মাণ পর্যায়ে স্থানীয় শ্রমিক, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের চাহিদা বাড়বে, যা শ্রম বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
রেলপথে ব্যবহৃত ট্র্যাক ও সিগন্যালিং সিস্টেম সর্বাধুনিক ইলেকট্রিক্যাল ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ভিত্তিক, যা নিরাপত্তা ও গতি উভয়ই সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করে। আধুনিক প্রকৌশল, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং পরিবেশবান্ধব নকশা অনুসরণ করে ছয় বছরের মধ্যে নির্মাণ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে দৈনিক ২০,০০০ যাত্রীকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্য, এবং পাঁচ বছর পরে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যাত্রী সেবার পাশাপাশি রেললাইনটি হালকা ওজনের কার্গো পরিবহনের জন্যও উপযুক্ত, যা বন্দর সংযোগে লজিস্টিক্সের দক্ষতা বাড়াবে।
গতি ও দক্ষতার দিক থেকে রেললাইনটি গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে সহায়তা করবে, ফলে পরিবেশগত টেকসইতা বাড়বে। উচ্চগতির রেল সেবা জিসিসি (উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ) সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সংযোগ ও সমন্বয়কে শক্তিশালী করবে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, রিয়াদ‑দোহা রেল লিঙ্কের মাধ্যমে দু’দেশের বাণিজ্যিক প্রবাহ দ্রুততর হবে এবং লজিস্টিক্স খরচ হ্রাস পাবে। এছাড়া, দ্রুত ভ্রমণ সময়ের ফলে ব্যবসায়িক সফরের সংখ্যা বাড়বে, যা সেবা খাতের আয় বৃদ্ধি করবে।
তবে প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী রিটার্ন নিশ্চিত করতে রেল টিকিটের মূল্য নির্ধারণ, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং চাহিদা পূর্বাভাসের যথাযথ পরিকল্পনা প্রয়োজন। সরকারী সংস্থা ও বেসরকারি অংশীদারদের মধ্যে সমন্বিত আর্থিক মডেল গড়ে তোলা হবে যাতে বিনিয়োগের ঝুঁকি কমে।
সারসংক্ষেপে, রিয়াদ‑দোহা উচ্চগতির রেল প্রকল্প উভয় দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এবং পরিবেশগত দায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ছয় বছরের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী চালু হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবহন মানদণ্ডে নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।



