মেটা ২০২৪ সালের শেষের দিকে তার স্মার্ট গ্লাসে মুখ চেনার ফিচার যুক্ত করার পরিকল্পনা চালু করেছে, যা অভ্যন্তরীণভাবে “নেম ট্যাগ” নামে পরিচিত। এই তথ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। ফিচারটি ব্যবহারকারীকে গ্লাসের মাধ্যমে অন্য ব্যক্তির নাম ও সংক্ষিপ্ত তথ্য জানার সুযোগ দেবে, মেটার এআই সহকারীর সাহায্যে।
মেটা এই পরিকল্পনা গত বছর থেকে বিবেচনা করে আসছে এবং নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা ঝুঁকি নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চালু হয়েছে। একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রথমে দৃষ্টিবঞ্চিত ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সম্মেলনে এই ফিচারটি পরীক্ষা করার কথা ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে ফিচারটি সরাসরি বাজারে প্রকাশের দিকে অগ্রসর হয়েছে।
কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অস্থিরতা সময়কে সুবিধা হিসেবে দেখেছে। নথিতে উল্লেখ আছে, “বহু নাগরিক সমাজের গোষ্ঠী আমাদের ওপর আক্রমণ করার পরিবর্তে অন্য বিষয়ের দিকে মনোযোগ দেবে”। এই কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি মেটার ফিচার চালু করার সময়সূচিকে প্রভাবিত করেছে।
মেটা ২০২১ সালে রে-বেন স্মার্ট গ্লাসের প্রথম সংস্করণে মুখ চেনার প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছিল, তবে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং নৈতিক উদ্বেগের কারণে তা বাদ দেয়া হয়। তখন থেকে প্রযুক্তি উন্নয়ন ও নীতি নির্ধারণে পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়েছে। এখন পুনরায় সক্রিয় করা পরিকল্পনা নতুন প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের বড় টেক কোম্পানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং মেটার স্মার্ট গ্লাসের অপ্রত্যাশিত সাফল্য এই পুনরায় উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করেছে। গ্লাসের বিক্রয় প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হওয়ায় কোম্পানি বাজারের চাহিদা পূরণে ফিচারটি ত্বরান্বিত করতে চায়। ফলে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন আয় উৎস তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে।
ফেসিয়াল রিকগনিশন ফিচারটি গ্লাসের ক্যামেরা ও মেটার এআই মডেলকে সংযুক্ত করে কাজ করবে। ব্যবহারকারী গ্লাসের মাধ্যমে কাউকে দেখলে, গ্লাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাম ও পেশা ইত্যাদি তথ্য প্রদর্শন করবে। এই তথ্য সরাসরি গ্লাসের ডিসপ্লে বা সংযুক্ত স্মার্টফোনে পাঠানো হবে।
প্রযুক্তিটি বিশেষ করে দৃষ্টিবঞ্চিত ব্যবহারকারীদের জন্য সহায়ক হতে পারে, কারণ তারা সরাসরি মুখের পরিচয় না জেনে ব্যক্তির মৌলিক তথ্য পেতে পারবে। তবে গোপনীয়তা সংক্রান্ত উদ্বেগও বাড়ছে, কারণ বাস্তব সময়ে মুখ চেনা ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মেটা এই ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য ডেটা সুরক্ষা নীতি ও ব্যবহারকারী সম্মতি প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে বলেছে।
মেটা অভ্যন্তরীণভাবে ফিচারটি ধীরে ধীরে রোলআউট করার পরিকল্পনা করেছে, প্রথমে সীমিত ব্যবহারকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে পরীক্ষা চালু হবে। পরীক্ষার ফলাফল ও ব্যবহারকারীর প্রতিক্রিয়া ভিত্তিক করে শেষ পর্যন্ত সাধারণ বাজারে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই পদ্ধতি গোপনীয়তা ঝুঁকি কমাতে এবং প্রযুক্তির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি যুক্ত গ্লাসের দাম ও লঞ্চ তারিখ এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে মেটা পূর্বে গ্লাসের মূল মডেলকে মাঝারি মূল্যের পণ্য হিসেবে বাজারে এনেছে। ভবিষ্যতে ফিচার যুক্ত সংস্করণে অতিরিক্ত খরচ যোগ হতে পারে, যা ব্যবহারকারীর গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই উদ্যোগের ফলে মেটা স্মার্ট গ্লাসের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে, কারণ ফেসিয়াল রিকগনিশন এখন পর্যন্ত সীমিত ডিভাইসে সীমাবদ্ধ ছিল। গ্লাসের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম তথ্য সরবরাহের ক্ষমতা নতুন অ্যাপ্লিকেশন ও সেবা তৈরি করতে পারে, যেমন ইভেন্টে দ্রুত পরিচয় যাচাই বা ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং।
সামগ্রিকভাবে, মেটার এই পরিকল্পনা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, ব্যবহারকারীর সুবিধা এবং গোপনীয়তা রক্ষার মধ্যে সমন্বয় খুঁজে বের করার একটি চ্যালেঞ্জ। কোম্পানি কীভাবে নীতি ও প্রযুক্তি সমন্বয় করবে, তা ভবিষ্যতে গ্লাসের গ্রহণযোগ্যতা ও বাজারের প্রতিক্রিয়ায় প্রভাব ফেলবে।
মেটা এই ফিচারটি চালু করার সময় গোপনীয়তা সুরক্ষার জন্য স্বচ্ছতা ও ব্যবহারকারী নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিচ্ছে, যা প্রযুক্তি ও নৈতিকতার সমন্বয়কে নির্দেশ করে।



