মেটা এই বছর তার ব্র্যান্ডেড স্মার্ট গ্লাসে মুখচেনা প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা চালু করেছে। অভ্যন্তরীণভাবে এই ফিচারকে “নেম ট্যাগ” নামে ডাকা হয় এবং এটি ব্যবহারকারীকে গ্লাসের মাধ্যমে অন্য ব্যক্তির পরিচয় ও প্রাসঙ্গিক তথ্য জানার সুযোগ দেবে।
গ্লাসের এই সক্ষমতা মূলত মেটা-চালিত ওক্লি বা রে‑ব্যান মডেলের ওপর ভিত্তি করে কাজ করবে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মুখের ছবি বিশ্লেষণ করে তথ্য সরবরাহ করা হবে। ব্যবহারকারী গ্লাসের সামনে যে কোনো পরিচিত ব্যক্তির নাম, সামাজিক প্রোফাইল বা সংযুক্ত অ্যাপের তথ্য পেতে পারে।
মুখচেনা প্রযুক্তি গোপনীয়তা ও নৈতিক দিক থেকে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, এ কারণেই মেটা গত বছর অন্ধদের জন্য অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে এই ফিচারটি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ২০২৩ সালে প্রথম সংস্করণ গ্লাস বাজারে আসার সময়ও মুখচেনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে জানা যায়।
মেটার রিয়েলিটি ল্যাবের একটি অভ্যন্তরীণ নোটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা কোম্পানির জন্য এই পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার উপযুক্ত সময়। নোটে বলা হয়েছে, “বহু সিভিল সোসাইটি গ্রুপের দৃষ্টি অন্য দিকে সরিয়ে দেওয়া অবস্থায় আমরা এই ফিচারটি চালু করতে পারি”।
স্মার্ট গ্লাসের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেটা বিশ্বাস করে যে মুখচেনা প্রযুক্তি তাকে ওপেনএআইসহ অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় সুবিধা দেবে। গ্লাসের ব্যবহারকারীরা যদি ইতিমধ্যে মেটার কোনো অ্যাপের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে, তবে সেই সংযোগের ভিত্তিতে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এছাড়া পাবলিক ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলের তথ্যও প্রদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে, নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্লাসের মাধ্যমে যেকোনো অচেনা ব্যক্তির পরিচয় অনুসন্ধান করা, অর্থাৎ সম্পূর্ণ সার্বজনীন মুখচেনা, বর্তমানে বাস্তবায়নযোগ্য নয়। প্রযুক্তি সীমাবদ্ধ থাকবে কেবলমাত্র ব্যবহারকারীর সংযুক্ত নেটওয়ার্ক বা পাবলিক প্রোফাইলের তথ্য পর্যন্ত।
মেটা ২০২১ সালে ফেসবুকের মুখচেনা সিস্টেম বন্ধ করে দেয়ার পর থেকে এই ধরনের ফিচার পুনরায় চালু করার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছিল। ফটো ট্যাগিংয়ের সময় স্বয়ংক্রিয় মুখচেনা ব্যবহার বন্ধ করার সিদ্ধান্তটি গোপনীয়তা উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছিল।
নতুন ফিচারটি কখনো বাজারে আসবে তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে মেটা অভ্যন্তরীণভাবে এই বছরের মধ্যে লঞ্চের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। গ্লাসের ভবিষ্যৎ সংস্করণে মুখচেনা যুক্ত হলে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা ও গোপনীয়তা রক্ষার মধ্যে সমতা রক্ষা করা হবে কিনা তা প্রযুক্তি ও নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় প্রশ্ন রয়ে যাবে।



