কমিল্লা টাউন হল মাঠে দুপুরে হসনাত আবদুল্লাহ, ন্যাশনাল কনগ্রেস পার্টি (Ncp) দক্ষিণের প্রধান সংগঠক, নির্বাচনের পর সাংবাদিকদের সামনে সমান আচরণ এবং ভাঙা রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক সংযোগ যাই হোক না কেন, সকল নাগরিককে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং শত্রুদেরও অবিচার থেকে রক্ষা করা হবে।
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হসনাত আবদুল্লাহ কমিল্লা-৪ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত না হলেও, অনানুষ্ঠানিক ফলাফল অনুযায়ী তিনি ১,৬৬,৫৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী, গনো অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. এ জশিম উদ্দিন ৪৯,৮৮৫ ভোট সংগ্রহ করেন। হসনাতের জয় মূলত ১১ দলীয় জোটের সমর্থন এবং স্থানীয় ভোটারদের আস্থা থেকে এসেছে।
প্রেসবক্তব্যে হসনাত বলেন, তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান যেখানে কোনো রাজনৈতিক বিরোধীকে অবিচার না হয়। তার মতে, বর্তমান রাষ্ট্রের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং তা পুনর্গঠন করা জরুরি, যাতে জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা পায়। তিনি এই লক্ষ্যকে অর্জনের জন্য সকল স্তরে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা জোর দিয়ে বলেন।
হসনাতের মন্তব্যে তিনি নির্বাচনের প্রতিপক্ষকে একসঙ্গে উল্লেখ করেন; “এই নির্বাচন ছিল হসনাত আবদুল্লাহ বনাম বিএনপি, আওয়ামী লীগ, চোরাচালানকারী, জবরদস্তি করা, মাদক ব্যবসায়ী এবং ব্যাংক ডাকাতদের বিরুদ্ধে”। তবু তিনি জোর দেন, জনগণ তার সঙ্গে ছিল এবং তার উপর আস্থা রেখেছিল, তাই তিনি জয়ী হয়েছেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমালোচনা করে নিজের জয়কে জনগণের সমর্থনের ফল হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
হসনাতের আরেকটি মূল লক্ষ্য হল ফ্যাসিবাদ সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী প্রবণতা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং তা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই লক্ষ্যকে অর্জনের জন্য তিনি পার্টির অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বাহ্যিকভাবে দুর্নীতির কোনো সহনশীলতা না রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
অধিকন্তু, হসনাত উল্লেখ করেন, পার্টির মধ্যে রাজনৈতিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রের কাঠামো পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, এই তিনটি দিকই দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের মঙ্গলের জন্য অপরিহার্য। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, পার্টির সকল স্তরে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং নীতি প্রয়োগে কঠোরতা বজায় রাখা হবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, হসনাতের এই ঘোষণাগুলি তার প্রথম সংসদীয় মেয়াদে কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলবে। যদি তিনি তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেন, তবে ন্যাশনাল কনগ্রেস পার্টি (Ncp) এর রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে এবং অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়তে পারে। তবে বাস্তবায়নের পথে আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং প্রশাসনিক জটিলতা চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে যাবে।
হসনাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি শীঘ্রই পার্টির অভ্যন্তরে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে জবাবদিহিতা প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবেন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবেন। এছাড়া, তিনি রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো পুনর্গঠনের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ প্রস্তুত করার কথা উল্লেখ করেন, যাতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামো ক্ষেত্রে অব্যাহত উন্নয়ন নিশ্চিত হয়।
সারসংক্ষেপে, হসনাত আবদুল্লাহ তার নির্বাচনী জয়কে ভিত্তি করে ন্যায়বিচার, দুর্নীতি মুক্ত সরকার এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন। তার এই প্রতিশ্রুতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে, তবে বাস্তবায়নের জন্য পার্টি ও সরকার উভয়েরই সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে।



