20 C
Dhaka
Saturday, February 14, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানসামুদ্রিক কচ্ছপের গর্ভধারণে নারীর আধিক্য, ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা সংকটের ইঙ্গিত

সামুদ্রিক কচ্ছপের গর্ভধারণে নারীর আধিক্য, ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা সংকটের ইঙ্গিত

বিশ্বের বিভিন্ন উপকূলে সামুদ্রিক কচ্ছপের গর্ভধারণের সংখ্যা বাড়ছে, তবে গবেষকরা সতর্ক করছেন যে এই বৃদ্ধি প্রকৃত জনসংখ্যার স্থিতিশীলতা লুকিয়ে রাখতে পারে। পশ্চিম আফ্রিকার ক্যাপ ভার্দে দ্বীপে ২০০৮ সালের তুলনায় লগারহেড কচ্ছপের ডিমের গুদি সংখ্যা শতগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একই সময়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে ডিমের তাপমাত্রা বাড়ছে, যা অধিকাংশ ডিমকে নারীর দিকে বিকশিত করে।

কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি, লন্ডনের বিজ্ঞানীরা ড্রোন ব্যবহার করে ১৫ বছরের গর্ভধারণের রেকর্ড বিশ্লেষণ করেছেন এবং ফলাফলগুলো এখনও পিয়ার-রিভিউ হয়নি, তবে জানুয়ারি ২০ তারিখে বায়োরেক্সিভে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে উষ্ণ বালুতে ডিমের তাপমাত্রা বাড়লে নারীর অনুপাত বাড়ে, আর শীতল বালুতে পুরুষের সংখ্যা বেশি থাকে।

সামুদ্রিক কচ্ছপের লিঙ্গ নির্ধারণ সম্পূর্ণভাবে ডিমের গর্ভধারণের তাপমাত্রার ওপর নির্ভরশীল। প্রায় ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পুরুষ ও নারীর সমান অনুপাত পাওয়া যায় বলে ধারণা করা হয়। তাপমাত্রা এই সীমা অতিক্রম করলে নারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ে, ফলে পুরুষের ঘাটতি দেখা দেয়।

গবেষকরা উল্লেখ করেছেন যে বর্তমান ডেটা একটি ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করতে পারে, যেন জনসংখ্যা সমৃদ্ধির মায়া দেখা যাচ্ছে। যদিও সামুদ্রিক সংরক্ষণ এলাকা, মাছ ধরা নিয়ন্ত্রণ এবং ডিমের রক্ষা করার মতো পদক্ষেপগুলো গর্ভধারণের সংখ্যা বাড়াতে সহায়তা করেছে, তবু লিঙ্গ ভারসাম্যের দিক থেকে পুরো চিত্র প্রকাশ পায় না।

ড্রোনের মাধ্যমে সংগৃহীত ছবিতে নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা মাত্র এক ভাগে নয়, নয় ভাগে বেশি দেখা গেছে। গবেষকরা ডিমের গর্ভধারণের সময় কচ্ছপের লেজের আকারের পার্থক্য ব্যবহার করে লিঙ্গ আলাদা করতে সক্ষম হয়েছেন; পুরুষের লেজ সাধারণত দীর্ঘ ও পুরু হয়।

এই পর্যবেক্ষণ থেকে স্পষ্ট হয় যে বর্তমান সময়ে নারীর আধিক্য একটি বাস্তব সমস্যা, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রজনন ক্ষমতা হ্রাসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। পুরুষের অভাবের ফলে ডিমের ফার্টিলাইজেশন হার কমে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত জনসংখ্যা হ্রাস পাবে।

বৈজ্ঞানিক দলটি আরও জানিয়েছে যে আদর্শ লিঙ্গ অনুপাত কী হওয়া উচিত তা এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে সমতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা জোর দিয়েছেন। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডিমের গর্ভধারণের পরিবেশকে সামঞ্জস্য করা সম্ভব হতে পারে, তবে তা বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সমন্বিত নীতি প্রয়োজন।

এই গবেষণার ফলাফল সংরক্ষণ নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে কাজ করতে পারে। বর্তমান সংরক্ষণ কৌশলগুলো যদি শুধুমাত্র ডিমের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেয়, তবে লিঙ্গ ভারসাম্যের সমস্যাকে উপেক্ষা করা হতে পারে। তাই ভবিষ্যতে ডিমের গর্ভধারণের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা করা জরুরি।

সামুদ্রিক কচ্ছপের দীর্ঘমেয়াদী টিকে থাকার জন্য পুরুষ ও নারীর সমন্বিত উপস্থিতি অপরিহার্য, এবং এই ভারসাম্য বজায় রাখতে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সমুদ্র তীরের পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগগুলোকে শক্তিশালী করা উচিত।

অবশেষে, বিজ্ঞানীরা জোর দিয়ে বলছেন যে বর্তমান ডেটা একটি সতর্কতা, যা আমাদেরকে কেবল গর্ভধারণের সংখ্যা নয়, লিঙ্গের গঠনকেও নজরে রাখতে আহ্বান জানায়। সংরক্ষণ কার্যক্রমের কার্যকারিতা মূল্যায়নের সময় এই দিকটি অন্তর্ভুক্ত করা হলে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য জনসংখ্যা সংকট এড়ানো সম্ভব হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments