দ্বিতীয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর, জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোরি শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে পার্টির প্রাথমিক বিজয়কে তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের শেষ পর্যায়ে দলটি ভোট দিতে সক্ষম হয়েছে এবং ব্যালটে লাঙ্গল প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে।
বিএনপি ২০২৬ সালের নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছে; পার্টি মোট ২৪৫টি আসনে প্রার্থী দাখিল করলেও কোনোটি জিততে পারেনি। পাটোরি জানান, ভোটের আগে দলকে ভোটের বাইরে রাখার জন্য বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে মিছিল, মিটিং এবং অন্যান্য রাজনৈতিক কৌশল অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, এই কৌশলগুলো মূলত বিএনপিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখতে লক্ষ্য করে গৃহীত হয়।
পাটোরি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় সমান সুযোগের পরিবেশ ছিল না। তার মতে, প্রায় পঞ্চাশজনের কাছাকাছি প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়, ফলে দলকে আপিলের জন্য সময় ও সম্পদ ব্যয় করতে হয়। অতিরিক্তভাবে, গত এক বছর অর্ধেক সময়ে জেলা পর্যায়ে কোনো কর্মসূচি চালানোর অনুমতি না দেওয়া, পার্টি অফিসে ধারাবাহিক হামলা এবং মিডিয়ার প্রতি হুমকি দেওয়া—এগুলো সবই দলকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে তিনি বর্ণনা করেন।
জাতীয় পার্টি গোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন গম কাদেরের অধীনে দলটি ২৪৫টি আসনে প্রার্থী দায়ের করলেও, কিছু প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল থেকে বিরত থাকে এবং অন্যদের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষিত হয়। আপিল প্রক্রিয়ার পর বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ১৯৬-এ নেমে আসে, তবু কোনো প্রার্থী একটিও জয়লাভ করতে পারেনি। পাটোরি উল্লেখ করেন, এই ফলাফল পার্টির ইমেজের জন্য মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনতে পারে, কারণ প্রতিষ্ঠার পর এ ধরনের পরাজয় কখনও দেখা যায়নি।
দলীয় কর্মীরা ফলাফল নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন; তারা বলেন, এত কম ভোটের সংখ্যা পার্টির ঐতিহ্য ও সমর্থকদের মনোবলে আঘাত হানে। পাটোরি বলেন, ভবিষ্যতে সঠিক রাজনীতি ফিরে আসবে এবং বিএনপি গর্বের সঙ্গে রাজনীতিতে উপস্থিত থাকবে। তিনি দলের নেতাদের মাথা উঁচু করে চলার আহ্বান জানান, যাতে দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সমতা বজায় থাকে।
নির্বাচনের পর দলটি তার প্রতীক এবং নিবন্ধন সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষ করে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার অংশগ্রহণ নিয়ে দলীয় নেতাদের মধ্যে উদ্বেগের স্রোত দেখা দিয়েছে। পাটোরি উল্লেখ করেন, এই বিষয়গুলো সমাধান না হলে পার্টির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
জাতীয় পার্টি এখন তার সংগঠনগত কাঠামো পুনর্গঠন এবং নির্বাচনী কৌশল পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। পাটোরি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, যদি দলটি অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো সমাধান করে এবং ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ পুনরুদ্ধার করে, তবে পরবর্তী নির্বাচনে পুনরায় শক্তি অর্জন সম্ভব হবে। তিনি দলের কর্মীদের ধৈর্য ও দৃঢ়তা বজায় রাখতে উৎসাহিত করেন।
সামগ্রিকভাবে, শোচনীয় ফলাফলের পরেও শামীম হায়দার পাটোরি দলের প্রাথমিক বিজয়কে স্বীকৃতি দিয়ে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটের বাইরে রাখার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দলটি ভোট দিতে পেরেছে এবং লাঙ্গল প্রতীক ব্যবহার করে ভোটারদের কাছে পৌঁছেছে। এখন সময় এসেছে পার্টি তার অভ্যন্তরীণ কাঠামো মজবুত করে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সমান সুযোগের জন্য লড়াই করে এবং দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে পুনরায় সুনাম গড়ে তোলার।



