বিএনপি-র ধারা-১৪ প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি আজ ঢাকার আগারগাঁও অবস্থিত নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ভোট জালিয়াতি ও নির্বাচন প্রকৌশলের অভিযোগ তুলে ফলাফল স্থগিত ও পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেন।
তুলি উল্লেখ করেন, ভোটদান কাল শেষ হওয়ার পর রাত পার হয়ে গিয়েও ধারা-১৪ এর প্রতিটি কেন্দ্রে ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি, যা স্বচ্ছতা ও গণতন্ত্রের মৌলিক নীতির বিরোধী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অস্বচ্ছতা কী নির্দেশ করে তা স্পষ্ট নয়।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, গত পনেরো বছর ধরে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এত বড় অস্বাভাবিকতা কেন ঘটছে এবং কেন এই ধারা বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। তুলি দাবি করেন, অবিলম্বে পদক্ষেপ নিয়ে ফলাফল স্থগিত করা এবং নতুন ভোটের ব্যবস্থা করা দরকার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুলি সকাল থেকে জানিয়েছেন যে তাদের নির্বাচনী কর্মীরা কিছু কেন্দ্রে বসার অনুমতি পায়নি, ফলে পর্যবেক্ষণ কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এই বাধা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তাছাড়া, তুলি জানান, জামায়াত-এ-ইসলামি কর্মীদের সঙ্গে কিছু প্রশাসনিক ব্যক্তির সহায়তায় তাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
অনেক কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের গতি ধীর ছিল; তুলি উল্লেখ করেন, ভোটাররা দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছেন, যা ভোটগ্রহণের স্বাভাবিক সময়সীমার চেয়ে অনেক বেশি। এই ধীরগতি ভোটারদের অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলেছে।
মধ্যাহ্নের পর, তুলি জানান, তাদের নির্বাচনী কর্মীদের আনসার সদস্যদের দ্বারা স্বাক্ষর করাতে বাধ্য করা হয়েছিল, যদিও ভোটদান এখনও শেষ হয়নি। এই প্রক্রিয়া নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
তুলির এই অভিযোগের পরেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট মন্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। দফতরে উপস্থিত কর্মকর্তারা এখনও বিষয়টি তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানাননি।
বিএনপি দল এই অভিযোগকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছে এবং তুলি উল্লেখ করেন, তারা আইনগত পথে ফলাফল রদ করার এবং পুনঃনির্বাচনের দাবি জানাতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকরা বলেন, যদি নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগকে যথাযথভাবে বিবেচনা না করে, তবে ধারা-১৪-এ নির্বাচনী বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং ভবিষ্যতে পার্টিগুলোর মধ্যে আইনি লড়াই বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ধারা-১৪-এ ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা এবং স্বচ্ছ ফলাফল নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তুলি এবং তার দল আশা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে চালু থাকে।
অবশেষে, তুলি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ফলাফল স্থগিত না করা পর্যন্ত কোনো পুনঃনির্বাচনের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয় এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ন্যায়বিচার রক্ষার জন্য সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার তৎপরতা প্রয়োজন।



