গতকাল ভার্জিনিয়া সুপ্রিম কোর্টের বেশিরভাগ বিচারক একমত হয়ে এমন রায় দেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর মেরিন জোশুয়া মাস্ট ও তার স্ত্রী স্টেফানি মাস্টের দত্তক নেওয়া আফগানী শিশুটি তাদের সঙ্গে থাকতে পারবে। এই রায়ে দত্তক সংক্রান্ত পূর্ববর্তী আইনি চ্যালেঞ্জগুলো বাতিল করা হয়।
মাস্ট দম্পতি ২০২০ সালে একটি গম্ভীরভাবে আহত আফগানী কন্যাকে দত্তক নেন, যাকে এক বছর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের যুদ্ধক্ষেত্রে আবিষ্কার করেছিল। শিশুটির পিতামাতা আল-কায়েদা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছিল।
আহত শিশুটিকে প্রথমে কান্দাহারের সামরিক ফিল্ড হাসপাতাল এবং পরে বাগরাম এয়ার বেসে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তার শারীরিক ক্ষতিগুলি চিকিৎসা করা হয়। মারাত্মক আঘাতের পরেও শিশুটি বেঁচে থাকে এবং বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়।
মাস্ট, যিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীর মেরিন, শিশুটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে দত্তক সংক্রান্ত পিটিশন দায়ের করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, শিশুটির স্বাস্থ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পুনর্বাসন সর্বোত্তম হবে।
দত্তক আবেদনপত্রে মাস্ট দম্পতি উল্লেখ করেন যে, শিশুটির কোনো পরিচিত জীবিত আত্মীয় নেই এবং পরিস্থিতি জরুরি। তাই তারা দত্তককে মানবিক জরুরি সহায়তা হিসেবে উপস্থাপন করেন।
দুই বছর পর, ২০২২ সালে, একটি আফগান দম্পতি, যার একজন আত্মীয়ের দাদী হিসেবে দাবি করেন, দত্তক বাতিলের জন্য আদালতে পিটিশন দায়ের করে। তারা দাবি করেন যে, আফগান আইন অনুসারে শিশুর হেফাজত তাদেরই হওয়া উচিত।
ভার্জিনিয়া আইন অনুযায়ী, দত্তক আদেশের ছয় মাস পর হেফাজত চূড়ান্ত হয় এবং সেই সময়ের মধ্যে দত্তকের বৈধতা কোনো আইনি প্রক্রিয়ায় চ্যালেঞ্জ করা যায় না। আদালত এই বিধানকে ভিত্তি করে দত্তককে সুরক্ষিত করে।
বিচারকরা পূর্বের রায়ে দত্তককে অবৈধ বলে ঘোষিত সিদ্ধান্তকে উল্টে দেন এবং কোনো অতিরিক্ত আইনি আপিলের সুযোগ অস্বীকার করেন। ফলে মাস্ট দম্পতি শিশুটির হেফাজত বজায় রাখতে পারেন।
আফগান দম্পতি ডিএনএ প্রমাণ দিতে অনিচ্ছুক ছিলেন এবং আফগান আইন অনুযায়ী তাদের হেফাজত প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন। আদালত উল্লেখ করেন যে, যথাযথ প্রমাণের অভাবে তাদের দাবিকে গ্রহণ করা সম্ভব নয়।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পূর্বের অবস্থান ছিল যে, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রকে দত্তক প্রক্রিয়ায় সতর্ক থাকতে হবে। তবে এই রায়ে দেশীয় আইনের অগ্রাধিকার স্পষ্ট হয়।
একজন আন্তর্জাতিক আইন বিশ্লেষকের মতে, এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ দত্তক আইনকে আন্তর্জাতিক দত্তক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যের প্রশ্ন উত্থাপন করে এবং ভবিষ্যতে আফগানী শিশুর দত্তক সংক্রান্ত কেসে প্রভাব ফেলতে পারে।
এখন শিশুটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মাস্ট দম্পতির তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসন অব্যাহত রয়েছে। এই রায় দত্তক সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করে এবং একই ধরনের আন্তর্জাতিক দত্তক মামলায় রেফারেন্স হিসেবে কাজ করতে পারে।



