দুবাইয়ের প্রধান বন্দর পরিচালনাকারী DP World আজ নতুন শীর্ষ ব্যবস্থাপনা গঠন করেছে। এসা কাজিমকে বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ইউভরাজ নারায়ণকে গ্রুপ সিইও হিসেবে ঘোষিত করা হয়েছে। এই পদবিন্যাসের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সদস্যদের দ্বারা জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগের ফলে বর্তমান প্রধান সুলতান বিন সুলায়েমের ওপর বাড়তি চাপের প্রভাব রয়েছে।
এসা কাজিমের চেয়ারম্যান পদ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে ইউভরাজ নারায়ণ গ্রুপের সর্বোচ্চ নির্বাহী দায়িত্বে আসবেন। দুজনেই কোম্পানির কৌশলগত দিকনির্দেশনা ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। নতুন নেতৃত্বের ঘোষণাটি দুবাই মিডিয়া অফিসের মাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং তা তৎক্ষণাৎ আন্তর্জাতিক ব্যবসা সংবাদে ছড়িয়ে পড়ে।
সুলতান বিন সুলায়েম, যাকে দুবাইয়ের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে গণ্য করা হয়, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে DP World-কে পরিচালনা করছেন। তার নেতৃত্বে কোম্পানিটি বিশ্বব্যাপী বৃহত্তম লজিস্টিকস সংস্থাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় দশ শতাংশ অংশ পরিচালনা করে বলে দাবি করে। এই বিস্তৃত নেটওয়ার্কের ফলে DP World আন্তর্জাতিক পোর্ট ও ফ্রেইট সেবার মূল খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃত।
অবশেষে, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কিছু সদস্যের দাবি অনুযায়ী সুলতান বিন সুলায়েমের নাম এপস্টেইন সংক্রান্ত ফাইলের মধ্যে পাওয়া গিয়েছে। এফবিআই কর্তৃক প্রকাশিত এই ফাইলগুলোতে তার অতীতের কিছু সংযোগের ইঙ্গিত রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যদিও এই তথ্যের সত্যতা নিয়ে বিভিন্ন দিক থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তবু বিষয়টি DP World-কে সুনামগত ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে এপস্টেইন ফাইলগুলোকে স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ তারা পায়নি। তাই বর্তমান অভিযোগের সঠিক মাত্রা ও প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য এখনও অনুপস্থিত। তবে, এই অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারী ও অংশীদারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
ব্রিটিশ ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট (BII) এবং কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম পেনশন ফান্ড, উভয়ই এপস্টেইন সংক্রান্ত অভিযোগের পর DP World-এ নতুন বিনিয়োগ স্থগিত করেছে। এই সিদ্ধান্তগুলো কোম্পানির আর্থিক প্রবাহ ও ভবিষ্যৎ প্রকল্পের তহবিল সংগ্রহে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যখন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকি মূল্যায়নকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং সুলতান বিন সুলায়েমের ওপর বাড়তি তদন্তের ফলে DP World-এর শেয়ার মূল্যে অস্থায়ী অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। বিনিয়োগকারীরা নতুন ব্যবস্থাপনা দল কত দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে এই সুনামগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে তা পর্যবেক্ষণ করবে। একই সঙ্গে, লজিস্টিকস সেক্টরের সামগ্রিক চাহিদা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রবণতা কোম্পানির পারফরম্যান্সে সমর্থনকারী উপাদান হিসেবে কাজ করবে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে, DP World-কে ত্বরিতভাবে সুনাম পুনর্গঠন এবং শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে। নতুন চেয়ারম্যান ও সিইও কৌশলগতভাবে বিনিয়োগ পুনরায় আকর্ষণ, বিদ্যমান প্রকল্পের কার্যকরী পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখার দিকে মনোযোগ দেবেন। তবে, এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্তের ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি প্রোফাইলে প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, DP World-এ নেতৃত্বের পুনর্গঠন এবং সুলতান বিন সুলায়েমের ওপর বাড়তি তদন্তের ফলে কোম্পানির সুনাম ও আর্থিক অবস্থায় চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে। নতুন ব্যবস্থাপনা দলকে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়ে বিনিয়োগকারীর আস্থা পুনরুদ্ধার করা এবং বিশ্ব বাণিজ্যের মূলধারায় তার অবস্থান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে।



