বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘সান্নি ড্যান্সার’ চলচ্চিত্রের প্রি-প্রেস কনফারেন্সে আন্তর্জাতিক অভিনেতা ও নির্মাতারা রাজনৈতিক প্রশ্নের ধারাবাহিকতা পেয়েছেন। গেম অফ থ্রোনস ও দ্য লাস্ট অব ইউসের বেলা রামসে, পরিচালক জর্জ জ্যাকস, এবং ‘হাউ আই মেট ইউর মাদার’ সিরিজের নিল প্যাট্রিক হ্যারিস উপস্থিত ছিলেন। এই ইভেন্টটি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে বার্লিনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চলচ্চিত্রের প্রথম প্রদর্শনীও নির্ধারিত।
‘সান্নি ড্যান্সার’ জর্জ জ্যাকসের দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যেখানে বেলা রামসে ১৭ বছর বয়সী আইভি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আইভি ক্যান্সার থেকে মুক্তি পেয়ে, নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে ‘মেক-এ-উইশ’ প্রোগ্রামের অংশ হতে চায় না। তার বাবা-মা, জেসিকা গানিং এবং জেমস নর্টন, তাকে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের জন্য গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে পাঠান, যেখানে ক্যাম্পের পরামর্শদাতা প্যাট্রিকের ভূমিকায় নিল প্যাট্রিক হ্যারিস অভিনয় করেন। ক্যাম্পে আইভি অপ্রত্যাশিত বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন এবং বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটান।
প্রেস কনফারেন্সে রামসে, জ্যাকস এবং হ্যারিসের সঙ্গে ইয়ারল ক্যাভ, জেসমিন এলকক এবং কনরাড খান উপস্থিত ছিলেন। তবে ড্যানিয়েল কুইন-টোয়ে এবং রুবি স্টোকস উপস্থিত ছিলেন না। সঙ্গীত রচয়িতা এস্টে হেইমও ইভেন্টে অংশ নেন এবং চলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাক নিয়ে তাদের সৃষ্টিশীল অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। হেইম উল্লেখ করেন যে জ্যাকস ও পল থমাস অ্যান্ডারসনের সঙ্গে কাজ করা তার জন্য বিশেষ আনন্দের বিষয়।
প্রেস কনফারেন্সের শুরুতেই রামসে সম্প্রতি হলিউড রিপোর্টার সঙ্গে করা এক সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে তিনি ব্রিটিশ স্বাধীন চলচ্চিত্রে মনোযোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি স্কটল্যান্ডে ছয় সপ্তাহের শুটিংকে তার ক্যারিয়ারের সেরা পেশাদার অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন এবং স্বাধীন চলচ্চিত্রের বাজেট সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সৃজনশীল স্বাধীনতা ও দলের উত্সাহকে প্রশংসা করেন।
এরপর প্রশ্নের দিক পরিবর্তিত হয়ে চলচ্চিত্রের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও ফ্যাসিবাদ বিরোধে সিনেমার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। হ্যারিস প্রকাশ করেন যে তিনি এমন বিষয়ের প্রতি বেশি আগ্রহী যা রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকে। তিনি উল্লেখ করেন যে শিল্পী হিসেবে তিনি এমন প্রকল্পে যুক্ত হতে পছন্দ করেন যেখানে গল্পের মূল বিষয় মানবিক সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত সংগ্রামকে কেন্দ্র করে, রাজনৈতিক বিতর্কে না গিয়ে।
রামসে ও জ্যাকসের সঙ্গে চলচ্চিত্রের রাজনৈতিক দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়, তবে তারা উভয়ই স্বীকার করেন যে সিনেমা সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে, তবে তা সরাসরি রাজনৈতিক বার্তা না দিয়ে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে করা উচিত। তারা বলেন যে ‘সান্নি ড্যান্সার’ মূলত ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের জীবনের আনন্দ ও বন্ধুত্বের গল্প, যা দর্শকদের হৃদয় স্পর্শ করবে।
প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত শিল্পীদের মধ্যে ক্যাম্পের পরিবেশ, শুটিংয়ের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা নিয়ে আলাপ হয়। হ্যারিস উল্লেখ করেন যে তিনি ভবিষ্যতে আরও মানবিক চরিত্রে অভিনয় করতে ইচ্ছুক, যেখানে চরিত্রের অভ্যন্তরীণ সংগ্রামকে তুলে ধরা যায়। রামসে বলেন যে তিনি এখনো তরুণ অভিনেতা হিসেবে বিভিন্ন ধরণের চরিত্রে কাজ করতে চান, তবে তার মূল লক্ষ্য হল এমন গল্পে অংশ নেওয়া যা দর্শকের হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়।
বার্লিনে অনুষ্ঠিত এই প্রেস কনফারেন্সটি ‘সান্নি ড্যান্সার’ চলচ্চিত্রের প্রচারকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি শিল্পের সামাজিক দায়িত্ব ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনার মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপস্থিত সবাই একমত যে সিনেমা মানুষের জীবনের বিভিন্ন দিককে প্রতিফলিত করতে পারে, তবে তা যেন মানবিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দেয়। ফেস্টিভ্যালে চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে, যা আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের গল্পকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করবে।



