ফরাসি-সেনেগালীয় পরিচালক আলেইন গোমিসের ষষ্ঠ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ডাও’ বেরলিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে বিশ্বপ্রিমিয়ার পেয়েছে। চলচ্চিত্রটি জীবনের চলমানতা ও চক্রাকার গতি নিয়ে কাজ করে এবং শিরোনামের অর্থকে কেন্দ্র করে একটি দার্শনিক সংজ্ঞা উপস্থাপন করে।
গোমিসের পূর্বের কাজ ‘ফেলিসিটে’ ২০১৭ সালে বেরলিনে সিলভার বেয়ার জয় করেছিল, ফলে এই নতুন প্রকল্পটি তার উৎসবের সঙ্গে পুনর্মিলনকে চিহ্নিত করে। ‘ডাও’ তে তিনি ফরাসি, সেনেগালীয় এবং গিনি-বিসাউয়ের সহযোগিতায় একটি ত্রিপাক্ষিক উৎপাদন গড়ে তুলেছেন।
শিরোনামের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘ডাও’ হল এক অবিরাম ও বৃত্তাকার গতি, যা সবকিছুকে সংযুক্ত করে এবং পৃথিবীকে একসঙ্গে বুনে। এই ধারণা চলচ্চিত্রের কাঠামোতে প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে চরিত্রগুলো সময়ের প্রবাহে একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়।
উৎসবের মূল প্রতিযোগিতামূলক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর ‘ডাও’ দর্শকদের সামনে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হয়। বেরলিনের রেড কার্পেটের আলোতে চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীর প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলেছে।
চিত্রটিতে পেশাদার অভিনেতা ও অ-প্রফেশনাল অংশগ্রহণকারীদের মিশ্রণ দেখা যায়। কেটি কোরিয়া, ডি’জোয়ে কোয়াডিও, সামির গেস্মি, মাইক এটিয়েনের মতো পরিচিত নামের পাশাপাশি গোমিসের নিজের পরিবারের সদস্য নিকোলাস, ফারা বাকো এবং পাউন্ডো গোমিসও উপস্থিত। এই বৈচিত্র্য চরিত্রগুলোর বাস্তবতা ও স্বাভাবিকতা বাড়িয়ে দেয়।
গল্পের কাঠামো দু’টি প্রধান অনুষ্ঠানের চারপাশে গড়ে উঠেছে: প্যারিসে একটি বিবাহ এবং গিনি-বিসাউয়ের একটি পিতৃপুরুষের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। উভয় অনুষ্ঠানই একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে, যা জীবনের উত্থান-পতন ও পারিবারিক বন্ধনের চক্রকে প্রতিফলিত করে।
উৎপাদনে ফরাসি কোম্পানি লে ফিল্মস দু ওর্সো এবং SRAB Films, সেনেগালীয় সহ-উৎপাদক ইয়েনেনগা প্রোডাকশনস ও নাফি ফিল্মস, এবং গিনি-বিসাউয়ের টেলিসিনে বিসসাউ প্রোডুক্সনস অংশ নিয়েছে। এই বহুজাতিক সহযোগিতা চলচ্চিত্রের থিমকে ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ করেছে।
বিশ্ব বিক্রয় সংস্থা পার্টি ফিল্ম সেলস চলচ্চিত্রের আন্তর্জাতিক বিতরণ দায়িত্বে রয়েছে। তাদের মাধ্যমে ‘ডাও’ বিভিন্ন বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, যা গোমিসের কাজকে আরও বিস্তৃত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেবে।
চিত্রগ্রহণে সেলিন বোজঁ, আমাথ নিয়ান এবং মাবেয়ে ডেমে ক্যামেরা পরিচালনা করেছেন। তাদের চিত্রশৈলী চলচ্চিত্রের বৃত্তাকার গতি ও আবেগময় মুহূর্তগুলোকে সূক্ষ্মভাবে ধারণ করেছে।
সম্পাদনা কাজ গোমিস নিজে, ফ্যাব্রিস রোড, অ্যাসেটু কোনে, দিমিত্রি ওয়েদ্রাগো এবং এলিজাবের সঙ্গে মিলিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এই দলটি গল্পের সময়রেখা ও থিমকে সুনিপুণভাবে সংযুক্ত করে একটি সুনির্দিষ্ট রিদম তৈরি করেছে।
সিনেমার সংক্ষিপ্তসার অনুযায়ী, ব্যক্তিগত গল্পগুলো এবং তাদের ঐতিহ্যের সুত্রগুলো একসঙ্গে বুনে, বাস্তব ও কাল্পনিকের মিশ্রণে প্রেম, হাসি, রীতি, বেদনা এবং ইতিহাসকে একত্রিত করে। দুইটি উদযাপন শারীরিক ও সময়গতভাবে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে, একটি নতুন সূচনা গড়ে তোলে।
গোমিসের মতে, চলচ্চিত্রটি জীবনের অবিরাম পুনর্জন্মের ধারণা তুলে ধরে, যেখানে প্রতিটি মুহূর্ত অন্যটির সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ‘ডাও’ দর্শকদেরকে সময়ের প্রবাহে নিজস্ব অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে আহ্বান জানায়।
বেরলিনের এই প্রধান মঞ্চে ‘ডাও’ এর উপস্থিতি গোমিসের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে স্থায়ী প্রভাবকে পুনরায় নিশ্চিত করে। চলচ্চিত্রটি কেবল একটি গল্প নয়, বরং মানবিক সম্পর্ক ও সাংস্কৃতিক সংযোগের এক নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



