খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ৭৯ বছর ৪ মাস বয়সী, কুমিল্লা‑১ (দাউদকান্দি‑মেঘনা) আসনে শীর্ষে বসে, আর ২৬ বছর ১ মাস বয়সী আবদুল হান্নান মাসউদ নোয়াখালী‑৬ (হাতিয়া) আসনে প্রথমবারের মতো জয়লাভ করেন। দুজনই শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে বিজয়ী হয়ে দেশের সংসদে প্রবেশ করেছেন।
খন্দকার মোশাররফ হোসেনের জন্ম ১ অক্টোবর ১৯৪৬ সালে। তিনি কুমিল্লা‑১ আসনে ধানের শীষ প্রতীক ব্যবহার করে ১,৪১,৪৪০ ভোটের মাধ্যমে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান ৯৪,৮৪৫ ভোট সংগ্রহ করেন।
হোসেন ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। সেই সময় তার ভোট সংখ্যা ৯৬,৩৭৮ ছিল, যা আজকের ফলাফলের তুলনায় কম। এই পুনরায় জয় তার রাজনৈতিক স্থায়িত্বকে পুনরায় প্রমাণ করেছে।
নোয়াখালী‑৬ আসনে জয়লাভকারী আবদুল হান্নান মাসউদের জন্ম ১ জানুয়ারি ২০০০। তিনি শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ৯১,৮৯৯ ভোট পেয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন। তার সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মাহবুবের রহমান শামীম ৬৪,০২১ ভোট পেয়েছেন।
মাসউদের রাজনৈতিক যাত্রা জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের পর দ্রুত গতি পায়। তিনি সেই সময়ের সম্মুখসারির নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভের পর এনসিপিতে যোগ দেন এবং ১১ দলীয় জোটের সমর্থন পেয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। শাপলা কলি প্রতীক তার ক্যাম্পেইনের মূল আকর্ষণ ছিল।
প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত-এ-ইসলামি ও বিএনপি উভয়ই ভোটে হোসেন ও মাসউদের তুলনায় কম পেতে পার্থক্য স্বীকার করেছে। জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী মনিরুজ্জামান উল্লেখ করেছেন যে শীর্ষে পৌঁছানো কঠিন ছিল, আর বিএনপি প্রার্থী শামীম বলছেন যে তরুণ প্রার্থীর জয় ভবিষ্যতে পার্টির কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে।
এই ফলাফলগুলো দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিবিধি নির্দেশ করে। বয়সের পার্থক্য সত্ত্বেও দুই প্রার্থীর জয় দেখায় যে অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তি উভয়ই ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য। হোসেনের দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক উপস্থিতি এবং মাসউদের তরুণ উদ্যমের সমন্বয় সংসদে নীতি নির্ধারণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে।
পরবর্তী সময়ে উভয় প্রতিনিধির পার্টি গঠন ও জোটের দিকনির্দেশনা দেশের শাসন কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। বিশেষ করে নোয়াখালী অঞ্চলে তরুণ প্রতিনিধির উপস্থিতি স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে ত্বরান্বিত পদক্ষেপের প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলেছে। সংসদে তাদের ভূমিকা কীভাবে গড়ে উঠবে, তা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।



