ঝিনাইদহ জেলায় গত রাত্রি থেকে আজ দুপুর পর্যন্ত নির্বাচনের পরবর্তী হিংসা ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, পাঁচটি আলাদা ঘটনার ফলে অন্তত চব্বিশজনের বেশি শারীরিক ক্ষতি হয়েছে।
হিংসা শাইলকুপি, ঝিনাইদহ সদর, মহেশপুর ও কালিগঞ্জ উপজেলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। নির্বাচনী ক্যাম্প, সমর্থকদের বাড়ি এবং প্রেস ক্লাবের অফিসে ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে তীব্র সংঘর্ষ শাইলকুপি উপজেলার ত্রিবেণী ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে সকাল প্রায় নয়টায় ঘটে। দুইজন স্থানীয় বিএনপি নেতা—মধু মোল্লা ও তাপন—এর সমর্থকরা পারস্পরিক বিরোধে লিপ্ত হয়ে ১৩ জনকে আহত করেছে।
শাইলকুপি থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ হুমায়ূন কবির মোল্লা জানান, ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আহতদের মধ্যে কিছুজনের আঘাত হালকা হলেও, তারা স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছে।
হিংসা জড়িত উভয় দলের নেতাদের পুলিশ স্টেশনে ডাকা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
কালিগঞ্জ থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ মোঃ জেলাল হোসেনের মতে, ওই এলাকায় দুইটি স্বতন্ত্র ঘটনা ঘটেছে। একটি ঘটনায় তিনজন এবং অন্যটিতে চারজন আহত হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নালডাঙ্গা ইউনিয়নে সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যে বাড়ি ধ্বংস এবং দু’টি স্থানে মারামারি হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে, তবে বর্তমান সময়ে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ মোঃ শামসুল আরেফিন নিশ্চিত করেন, ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি এবং দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
মহেশপুরে, রাতের অন্ধকারে অজানা আক্রমণকারীরা ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবের অফিসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অফিসটি উপজেলা পার্ষদ কমপ্লেক্সের পাশে অবস্থিত, এবং ভাঙচুরের পর তা অস্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত সুপারইন্টেনডেন্ট অফ পুলিশ (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও ফাইন্যান্স) শেখ বিলাল হোসেন জানান, মোট আহতের সংখ্যা ২৪‑এর বেশি হতে পারে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীরও তৎকালীন উপস্থিতি ছিল।
অতিরিক্ত সুপারইন্টেনডেন্ট উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা কর্মীরা এখনো এলাকায় সক্রিয়ভাবে তদারকি করছেন এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে শান্তি বজায় রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে নির্বাচনের ফলাফলকে ঘিরে কোনো অতিরিক্ত সংঘাত না ঘটে।



