তাঙ্গাইলের দুইটি সংসদীয় আসনে এবারের ১৩তম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-র ভাইবোন আবদুস সালাম পিন্টু ও সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বিশাল ভোটে জয়লাভ করেন। পিন্টু তাঙ্গাইল‑২ (গোপালপুর‑ভুয়াপুর) আসনে তৃতীয়বার নির্বাচিত হয়ে ১,৯৮,৮৬৭ ভোটের সর্বোচ্চ সংখ্যা অর্জন করেন, আর টুকু তাঙ্গাইল‑৫ আসনে প্রথমবারের মতো ১,৩১,২৭৯ ভোট নিয়ে জয়ী হন। উভয় প্রার্থী জামাতের প্রার্থীদের পরাজিত করে নির্বাচনী জয় নিশ্চিত করেছেন।
পিন্টু ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তাঙ্গাইলের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনবার সংসদ সদস্যের পদ ধারণ করেছেন। ২০০১ সালে তিনি শিক্ষা বিষয়ক উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে ২০০৮ সালের আগস্ট ২১ গ্রেনেড হামলা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে গ্রেফতার হন এবং মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি মুক্তি পান। এইবারের নির্বাচনে তিনি ১,৩৮,০০০ ভোটের প্রায় পার্থক্যে জয়লাভ করেন।
টুকু, পিন্টুর ছোট ভাই, পূর্বে তাঙ্গাইল‑২ আসনে দুবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ব্যর্থ হন। এইবার তিনি তাঙ্গাইল‑৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৫০,০০০ ভোটের বেশি পার্থক্যে পরাজিত করেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে জামাতের প্রার্থী এবং বিএনপি থেকে বিচ্ছিন্ন প্রার্থী উভয়ই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। টুকু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (JCD) এর প্রাক্তন সমন্বয়ক, কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় ইউনিটের সভাপতি হিসেবে কাজ করেছেন।
পূর্বে আওয়ামী লীগ শাসনকালে টুকুর বিরুদ্ধে প্রায় তিনশো মামলা দায়ের করা হয় এবং তিনি কমপক্ষে পাঁচ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন। টুকুকে মৃতাবস্থায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বিশেষভাবে সমর্থন করতেন বলে পার্টির সূত্রে জানা যায়।
দুই ভাইয়ের নির্বাচনী জয়কে নিয়ে তাঙ্গাইলের স্থানীয় নেতারা উভয়ই জনগণের মঙ্গলের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। পিন্টু ও টুকু উভয়ই বিএনপি-র তাঙ্গাইল জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ভিত্তিতে নির্বাচনী সাফল্য অর্জন করেছেন।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, জামাতের প্রার্থীরা উভয় আসনে উল্লেখযোগ্য ভোট হারিয়ে ফেলেছে, যা বিএনপি-র পুনরুজ্জীবিত ভোটার ভিত্তি এবং নির্বাচনী কৌশলের ফলাফল হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এছাড়া, বিচ্ছিন্ন প্রার্থীকে পরাজিত করে টুকুর জয়কে বিএনপি-র অভ্যন্তরীণ ঐক্যের সূচক হিসেবে ধরা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, পিন্টু ও টুকুর জয় তাঙ্গাইলের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন দিক নির্দেশ করবে। পিন্টুর দীর্ঘকালীন অভিজ্ঞতা ও টুকুর যুব নেতৃত্বের সমন্বয় ভবিষ্যতে পার্টির নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। তাছাড়া, দুজনেরই গ্রেনেড হামলা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং পরবর্তীতে মুক্তি পাওয়া রাজনৈতিক পুনরুদ্ধারের উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।
বিএনপি-র তাঙ্গাইল শাখা এখন দুইজন অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের অধীনে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। উভয়ই নির্বাচনী ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্প, অবকাঠামো কাজ এবং সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্যোগে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
অবশেষে, নির্বাচনের ফলাফল তাঙ্গাইলের ভোটারদের স্পষ্ট বার্তা বহন করে—বিএনপি-র ঐতিহ্যবাহী নেতৃত্বের প্রতি আস্থা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের প্রত্যাশা। পিন্টু ও টুকু দুজনই এই প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনরায় জানিয়েছেন, যা তাঙ্গাইলের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিপ্রকোপ সৃষ্টি করবে।



