ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে ঘোষণা করেন যে, ২০০৯ সালে বারাক ওবামা প্রশাসন গৃহীত গ্রিনহাউজ গ্যাস সংক্রান্ত ‘এন্ডেঞ্জারমেন্ট ফাইন্ডিং’ বাতিল করা হবে। এই নীতি, যা গ্যাস নিঃসরণকে জনস্বাস্থ্যের হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি শিল্পে নির্গমন মানদণ্ডের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছিল।
‘এন্ডেঞ্জারমেন্ট ফাইন্ডিং’ ২০০৯ সালে গৃহীত হয় এবং গ্রিনহাউজ গ্যাসকে জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক বলে ঘোষণা করে, ফলে ফেডারেল সরকার গাড়ি থেকে নির্গমন কমাতে কঠোর মানদণ্ড আরোপ করতে সক্ষম হয়। এই নীতি যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নীতি ও জ্বালানি নীতির মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত ছিল।
ট্রাম্পের মন্তব্যে তিনি এই নীতিকে ‘সর্বনাশা’ বলে চিহ্নিত করেন এবং যুক্তি দেন যে, এটি আমেরিকান গাড়ি শিল্পকে ক্ষতি করেছে এবং গৃহস্থালী ক্রেতাদের গাড়ি কেনার খরচ বাড়িয়েছে। তিনি এটিকে ‘গ্রিন নিউ স্ক্যাম’ হিসেবে অভিহিত করে, নীতির বাতিলকে শিল্পের জন্য একটি সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
মার্কিন সরকারের হোয়াইট হাউসের হিসাব অনুযায়ী, ‘এন্ডেঞ্জারমেন্ট ফাইন্ডিং’ বাতিলের ফলে গড়ে প্রতি গাড়ির উৎপাদন খরচ প্রায় ২,৪০০ ডলার কমবে এবং জ্বালানি ও পরিবহন খাতে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই আর্থিক সুবিধা সরকারকে ভবিষ্যৎ নীতি গঠনে প্রভাবিত করতে পারে।
পরিবেশ সংরক্ষণ গোষ্ঠী এই ব্যাখ্যাকে প্রত্যাখ্যান করে। এনভায়রনমেন্টাল ডিফেন্স ফান্ডের পিটার জালজাল উল্লেখ করেন যে, প্রকৃত খরচ কমবে না, বরং কম দক্ষ এবং বেশি দূষণকারী যানবাহন চালাতে অতিরিক্ত ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে। তিনি বলেন, নীতির পরিবর্তন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলবে।
স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রভাবের হিসাবেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন নীতির ফলে ৫৮,০০০ অতিরিক্ত অকাল মৃত্যু এবং ৩.৭ কোটি অতিরিক্ত অ্যাজমা আক্রমণ ঘটতে পারে বলে গবেষণা নির্দেশ করে। এই সংখ্যা পরিবেশগত নীতির প্রত্যাহারকে জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনক বলে চিহ্নিত করে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি এক্সে লিখে জানান, এই সিদ্ধান্তের ফলে আমেরিকান জনগণ আরও অনিরাপদ ও অসুস্থ হয়ে পড়বে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতা হ্রাস পাবে। তিনি এটিকে জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পের মুনাফা বাড়ানোর জন্য নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা দাবি করে যে, নীতির বাতিল যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করে এবং আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হবে।
গাড়ি নির্মাতা শিল্পের মধ্যে উদ্বেগের স্রোত রয়েছে। তারা সতর্ক করছেন যে, জ্বালানি-সাশ্রয়ী গাড়ি উৎপাদন কমলে বিদেশি বাজারে তাদের বিক্রি হ্রাস পেতে পারে, যা রপ্তানি আয়কে প্রভাবিত করবে। এই উদ্বেগ শিল্পের ভবিষ্যৎ কৌশলকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে।
জলবায়ু আইন বিশেষজ্ঞ মাইকেল জেরার্ডও উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্পের নীতি শেষ পর্যন্ত আমেরিকান গাড়ি নির্মাতাদের সংকটে ফেলতে পারে, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি দক্ষতা কমে গেলে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হারাবে। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে শিল্পের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ বাড়বে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, গ্রিনহাউজ গ্যাস নীতির এই উল্টো পদক্ষেপ ট্রাম্পের পরিবেশ নীতি এবং আসন্ন নির্বাচনী কৌশলের ওপর প্রভাব ফেলবে। নীতি পরিবর্তনের ফলে মার্কিন সরকার এবং পরিবেশ গোষ্ঠীর মধ্যে আইনি লড়াই বাড়তে পারে, যা ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলবে।



