26 C
Dhaka
Friday, February 13, 2026
Google search engine
Homeপ্রযুক্তিHelion-র Polaris রিএক্টরে তাপমাত্রা ১৫০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে

Helion-র Polaris রিএক্টরে তাপমাত্রা ১৫০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে

ওয়াশিংটন রাজ্যের এভারেট শহরে অবস্থিত ফিউশন এনার্জি স্টার্ট‑আপ Helion শুক্রবার একটি গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল মাইলফলক অর্জন করেছে। কোম্পানির Polaris প্রোটোটাইপ রিএক্টরে প্লাজমা তাপমাত্রা ১৫০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা বাণিজ্যিক ফিউশন প্ল্যান্ট চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রার প্রায় তিন‑চতুর্থাংশ।

Helion‑এর সহ‑প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ডেভিড কির্টলি এই সাফল্যকে “অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে রিএক্টরটি ডিউটেরিয়াম‑ট্রিটিয়াম জ্বালানি ব্যবহার করছে। এই জ্বালানি দুইটি হাইড্রোজেন আইসোটোপের মিশ্রণ, যা Helion‑কে এই ধরণের ফিউশন রিএক্টর চালু করা প্রথম কোম্পানি করে তুলেছে।

ডিউটেরিয়াম‑ট্রিটিয়াম জ্বালানির ব্যবহার ফলে তাপ উৎপাদন প্রত্যাশিতভাবে তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রিএক্টরের কর্মক্ষমতা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। Helion এই ফলাফলকে ফিউশন শক্তি বাণিজ্যিকীকরণের পথে অগ্রসর হওয়ার একটি প্রমাণ হিসেবে দেখছে।

ফিউশন শক্তি ক্ষেত্রটি বর্তমানে একাধিক স্টার্ট‑আপের তীব্র প্রতিযোগিতার মঞ্চে রূপান্তরিত হয়েছে। এই কোম্পানিগুলি সীমাহীন, পরিষ্কার শক্তি সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহে Inertia Enterprises একটি সিরিজ‑এ রাউন্ডে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে Bessemer এবং জিভি অন্তর্ভুক্ত।

একই সময়ে Type One Energy ২৫০ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। গত গ্রীষ্মে Commonwealth Fusion Systems ৮৬৩ মিলিয়ন ডলার তহবিল পেয়েছিল, যার মধ্যে গুগল এবং Nvidia প্রধান বিনিয়োগকারী। Helion নিজেও গত বছর ৪২৫ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে Sam Altman, Mithril, Lightspeed এবং SoftBank অন্তর্ভুক্ত।

অন্যান্য ফিউশন স্টার্ট‑আপের লক্ষ্য সাধারণত ২০৩০ সালের শুরুর দিকে বিদ্যুৎ গ্রিডে শক্তি যোগ করা, তবে Helion‑এর একটি আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে। কোম্পানি মাইক্রোসফটের সঙ্গে ২০২৮ সাল থেকে বিদ্যুৎ বিক্রির চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তবে এই বিদ্যুৎ বড় আকারের Orion রিএক্টর থেকে সরবরাহ হবে, যা বর্তমানে নির্মাণাধীন, Polaris নয়।

প্রতিটি ফিউশন স্টার্ট‑আপের মাইলফলক তাদের রিএক্টরের নকশার ওপর নির্ভরশীল। উদাহরণস্বরূপ Commonwealth Fusion Systems‑এর টোকামাক রিএক্টরের প্লাজমা তাপমাত্রা ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে পৌঁছাতে হবে, যা শক্তিশালী চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের মাধ্যমে প্লাজমা সংরক্ষণ করে। Helion‑এর রিএক্টর এই পদ্ধতি থেকে ভিন্ন, তাই তাদের সাফল্যের মাপকাঠি আলাদা।

Helion‑এর Polaris রিএক্টরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ফিউশন গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক, কারণ উচ্চ তাপমাত্রা পার্টিকল সংঘর্ষের হার বাড়িয়ে শক্তি উৎপাদনকে ত্বরান্বিত করে। তাপমাত্রা ১৫০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানো মানে কোম্পানি তার লক্ষ্য তাপমাত্রার কাছাকাছি এসেছে, যদিও বাণিজ্যিক স্তরে পৌঁছাতে এখনও কিছু প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ বাকি।

ফিউশন শক্তি যদি সফলভাবে বাণিজ্যিকীকরণ করা যায়, তবে তা বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমাতে এবং কার্বন নির্গমন হ্রাসে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। Helion‑এর এই অগ্রগতি এই সম্ভাবনাকে বাস্তবায়নের পথে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে।

বাজারে বিনিয়োগের প্রবাহ এবং বড় প্রযুক্তি কোম্পানির অংশগ্রহণ ফিউশন শিল্পকে দ্রুত বিকশিত করছে। গুগল, মাইক্রোসফট এবং Nvidia মত দিগন্তের নামগুলো ইতিমধ্যে এই ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য তহবিল প্রদান করেছে, যা গবেষণা ও উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করছে।

Helion‑এর Polaris রিএক্টরের সাফল্য ফিউশন শক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে। যদিও বাণিজ্যিক রিএক্টর নির্মাণে এখনও সময় লাগবে, তবু এই ধরনের টেকনিক্যাল মাইলফলক শিল্পের সামগ্রিক অগ্রগতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সারসংক্ষেপে, Helion‑এর Polaris রিএক্টরে ১৫০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অর্জন ফিউশন শক্তির বাণিজ্যিকীকরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা শিল্পের অন্যান্য খেলোয়াড় এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক সংকেত প্রদান করে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: TechCrunch
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
প্রযুক্তি প্রতিবেদক
AI-powered প্রযুক্তি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments