বিএনপি নির্বাচনী স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান নাজরুল ইসলাম খান, গতকাল অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ভোটার অংশগ্রহণের হ্রাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে ভোটারদের আগ্রহ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে ভোটের গুরুত্বের অভাবের ফলে অনেক নাগরিক ভোটদান থেকে দূরে সরে গেছেন।
প্রাতঃকালে প্রায় ১১ টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “আসন্ন দিনগুলোতে আমরা মানুষকে ভোটের প্রতি আরও আকৃষ্ট করতে পারি, যাতে সবাই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেশের শাসন পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে”। এই মন্তব্যের পটভূমি হল, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোট নিয়ে সরকার গঠন করেছে।
নাজরুল ইসলাম খান আরও আশাবাদী সুরে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে দলের পারফরম্যান্স আরও উন্নত হবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দাখিল করেছে এবং প্রাথমিকভাবে সব প্রার্থীরই জয় নিশ্চিত বলে ধারণা করা হয়েছিল। “আমরা ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিই, প্রত্যেকেই জয়ী হবে বলে বিশ্বাস করে,” তিনি বলেন, “এমনকি ২০০, ৪০০ বা ৫০০ ভোট পাওয়া প্রার্থীরাও জয়ের আশা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।”
বিএনপি স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য নাজরুলের মতে, বর্তমান ফলাফল থেকে সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব হলেও সম্পূর্ণ সন্তুষ্টি অর্জন করা কঠিন। “কেউই শতভাগ সন্তুষ্ট হতে পারে না, তবে আমরা মোটামুটি সন্তুষ্ট,” তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী হওয়া বাস্তবিক নয়, তবে দলটি ফলাফলকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে।
নাজরুল ইসলাম খান দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে “তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ” বলে বর্ণনা করেন। তিনি অতীতের নির্বাচনে মৃত্যুর সংখ্যা, আঘাতপ্রাপ্তের সংখ্যা এবং রাষ্ট্রের সম্পত্তির ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল, তবে এইবার এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়,” তিনি যোগ করেন, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়।
বিএনপি নেতৃত্বের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে, নির্বাচনী কমিশনও ভোটের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে। যদিও বিরোধী দলগুলোর কাছ থেকে ভোটার অংশগ্রহণের হ্রাস নিয়ে সমালোচনা শোনা যায়, তবে নাজরুলের বক্তব্যে দেখা যায় যে দলটি ভবিষ্যতে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগের পরিকল্পনা করছে।
ভবিষ্যৎ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে, বিএনপি ইতিমধ্যে প্রার্থী তালিকা পর্যালোচনা, ভোটার সচেতনতা কর্মসূচি এবং নির্বাচনী প্রচারাভিযানকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা চালু করেছে। নাজরুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন, “ইন শা আল্লাহ, পরের নির্বাচনে আমাদের ফলাফল আরও ভালো হবে,” এবং দলের অভ্যন্তরে এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
সংক্ষেপে, ১৩তম সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিএনপি নেতা নাজরুল ইসলাম খান ভোটার অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তার মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে একটি ইতিবাচক সুর যোগ করেছে, যা ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করবে।



