ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় সিলেট বিভাগের প্রথম নারী সংসদ সদস্যের শিরোনাম অর্জনকারী মোছা তাহসিনা রুশদীর লুনা, বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর (সিলেট-২) আসনে বিজয়ী ঘোষিত হয়েছেন। তিনি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাছির আলীর তুলনায় ৭৯,২৫১ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন। ভোটের ফলাফল সিলেটের দুইটি উপজেলায় আলাদা করে প্রকাশিত হয়েছে, যা নির্বাচনের বিশদ চিত্র তুলে ধরে।
সিলেট-২ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৬৪,৮৩৩। এর মধ্যে বিশ্বনাথ উপজেলায় ১,৯২,৭৭৫ ভোটার নিবন্ধিত ছিলেন, আর ওসমানীনগর উপজেলায় ১,৭১,৩৮০ ভোটার। উভয় উপজেলায় ভোটদান প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বিশ্বনাথ উপজেলায় মোট ৮৯,৩৪১টি ভোট কাস্ট করা হয়; এর মধ্যে ৮৭,১৭১টি বৈধ ভোট এবং ২,১৭০টি বাতিল ভোট। ভোটগ্রহণের হার ৪৭.১৬% রেকর্ড হয়েছে। এই অঞ্চলে লুনা ৬৭,৯৭৭ ভোট পেয়ে শীর্ষে উঠে, আর ১১ দলীয় জোটের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী ১৭,৯৫৪ ভোট সংগ্রহ করেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী ৫৪২ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা আমির উদ্দিন ৫৭২ ভোট এবং গণফোরামের মুজিবুল হক ১২৬ ভোট পেয়েছেন।
ওসমানীনগর উপজেলায় মোট ৭২,৪৯৬টি ভোট কাস্ট করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭০,৩৯৭টি বৈধ এবং ২,০৯৯টি বাতিল। এখানে ভোটগ্রহণের হার ৪২.৪৬%। লুনা এই উপজেলায় ৪৮,৭২০ ভোট পেয়ে শীর্ষে রইলেন, আর মুহাম্মদ মুনতাছির আলী ১৯,৪৯২ ভোট পেয়েছেন। জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী ৮৬২ ভোট, মাওলানা আমির উদ্দিন ৮১৭ ভোট এবং মুজিবুল হক ৫০৬ ভোট পেয়েছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাছির আলীর ভোটসংখ্যা উভয় উপজেলায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম, যা লুনার শক্তিশালী সমর্থনকে নির্দেশ করে। অন্যান্য প্রার্থীদের ভোটসংখ্যা তুলনামূলকভাবে নগণ্য, ফলে লুনার জয়কে আরও দৃঢ় করে তুলেছে।
সিলেট-২ আসন ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে এসেছে। পূর্বে এই আসনের সদস্য এম. ইলিয়াস আলী উন্নয়নের লক্ষ্যে বেশ কিছু প্রকল্প চালু করলেও, তার অচেনা নিখোঁজ হওয়া একটি রহস্য রয়ে গেছে। সেই ঘটনার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, যিনি বিএনপি চেয়ারপার্সনও, এই আসনে নতুন মুখ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোছা তাহসিনা রুশদীর লুনাকে সমর্থন করেন।
লুনা গত তের বছর ধরে অঞ্চলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন এবং এই সময়ে তিনি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করেছেন। দলের সমর্থন ও স্থানীয় নেতাদের সক্রিয় প্রচেষ্টার ফলে তিনি ভোটের মাঠে বিশাল জয় অর্জন করতে সক্ষম হন। তার জয় সিলেট বিভাগের প্রথম নারী সংসদ সদস্যের ইতিহাস গড়ে তুলেছে এবং ভবিষ্যতে নারী রাজনৈতিক অংশগ্রহণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
এই নির্বাচনী ফলাফল সিলেটের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপথ নির্ধারণ করবে। লুনার উপস্থিতি নারী নেতৃত্বের শক্তি বাড়াবে এবং বিএনপি-র প্রভাবকে আরও সুদৃঢ় করবে। একই সঙ্গে, ১১ দলীয় জোটের পারফরম্যান্স তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। পরবর্তী সময়ে পার্টিগুলো কিভাবে এই ফলাফলকে কাজে লাগিয়ে আসন্ন আইনসভার কাজকে গঠন করবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিবিদ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



