রাজশাহী স্টার্স এফসি শুক্রবারের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ আর্মি এসসির বিরুদ্ধে ৩-০ পার্থক্যে জয়লাভ করে নারী ফুটবল লিগের শিরোপা অর্জন করেছে। এই ম্যাচটি বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এবং শিরোপা নিশ্চিত করার জন্য দলকে মাত্র একটি পয়েন্টেরই প্রয়োজন ছিল। প্রথমার্ধে দু’দলই গোল করতে পারেনি, তবে দ্বিতীয়ার্ধে তিনটি গোলের মাধ্যমে রাজশাহী চ্যাম্পিয়নশিপের সিংহাসনে বসে।
প্রথমার্ধের শেষ পর্যন্ত স্কোর ০-০ থেকেই শেষ হয়, দু’দলই রক্ষণে মনোযোগী থাকে এবং আক্রমণাত্মক সুযোগগুলো সীমিত থাকে। গেমের গতি ধীরে ধীরে বাড়লেও গোলের কোনো সুযোগ তৈরি হয় না, ফলে উভয় দলের সমর্থকরা উত্তেজনা বজায় রাখে।
দ্বিতীয়ার্ধে রাজশাহী স্টার্সের আক্রমণ তীব্র হয়ে ওঠে। প্রথম গোলটি আলপি আক্তার তার প্রথম গোলের মাধ্যমে নেটকে ছুঁয়ে দেয়। এরপর শাহেদা আক্তার রিপা দ্বিতীয় গোলের দায়িত্ব নেয় এবং রিতু পর্ণা চাকমা তৃতীয় গোলের মাধ্যমে ম্যাচের স্কোর ৩-০ করে। এই তিনটি গোলই শিরোপা নিশ্চিত করার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শিরোপা নিশ্চিত করার জন্য এক পয়েন্টই যথেষ্ট হলেও দলটি পুরো লিগে দশটি ম্যাচে সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রহ করে, ফলে ১১টি দলের মধ্যে সর্বোচ্চ পয়েন্টের রেকর্ড গড়ে তোলা হয়। এই ফলাফল রাজশাহীর প্রথম মৌসুমে লিগ জয়ের একটি নিখুঁত সমাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
আলপি আক্তার এই মৌসুমে মোট ২৯টি গোলের রেকর্ড গড়ে তুলেছেন, যা ২০১২-১৩ মৌসুমের অংম্রাচিং মারমার সমান। উভয় খেলোয়াড়ই লিগের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে সমান স্থান পেয়েছেন।
লিগের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এখনও সাবিনা খাতুনের হাতে, যিনি ২০১৯-২০ মৌসুমে ৩৫টি গোলের মাধ্যমে সর্বোচ্চ স্কোর রেকর্ড করেছেন। আলপি ও অংম্রাচিং মারমার এই সমান রেকর্ডটি ভবিষ্যতে নতুন রেকর্ড গড়ার জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ আর্মি এসসি শিরোপা নিশ্চিত করতে জয় দরকার ছিল, তবে প্রথমার্ধের চাপ সত্ত্বেও তারা শেষ পর্যন্ত কোনো গোল করতে পারেনি। দলটি প্রথমার্ধে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও গোলের রূপান্তর ঘটাতে পারেনি, ফলে শিরোপা নির্ধারণে তাদের প্রত্যাশা নষ্ট হয়।
রাজশাহী স্টার্সের দলে নেপাল থেকে দুইজন বিদেশি খেলোয়াড়, বিমলা বি.কে. এবং দীপা শাহী, যুক্ত করা হয়েছিল। এই দুই খেলোয়াড়ের যোগদানে দলের আক্রমণাত্মক বিকল্প বাড়ার প্রত্যাশা করা হয়েছিল, যদিও প্রথমার্ধে তারা সীমিত প্রভাব ফেলতে পারেনি।
প্রথমার্ধে আর্মি দলের চাপের মুখে রাজশাহী স্টার্সের বিদেশি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও, কোচের পরিবর্তনশীল কৌশল দলকে দ্বিতীয়ার্ধে পুনর্গঠন করতে সহায়তা করে।
দ্বিতীয়ার্ধে রাজশাহী স্টার্সের খেলোয়াড়রা আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ ও ক্লিনিক্যাল হয়ে ওঠে, ফলে তিনটি গোলের মাধ্যমে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয়। এই পরিবর্তন দলকে শিরোপা জয়ের পথে দৃঢ় করে এবং সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের স্রোত বইয়ে দেয়।
লিগের সমাপ্তি পরবর্তী মৌসুমে দলটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। শিরোপা জয়ের মাধ্যমে রাজশাহী স্টার্সের খেলোয়াড়রা দেশের অন্যান্য ক্লাবের সঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্য আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে।
সারসংক্ষেপে, রাজশাহী স্টার্সের ৩-০ জয় এবং সর্বোচ্চ পয়েন্টের রেকর্ড লিগের ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে, যা নারী ফুটবলের বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।



