28 C
Dhaka
Friday, February 13, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিতারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা ও রাজনৈতিক ইতিহাস

তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা ও রাজনৈতিক ইতিহাস

তারেক রহমান, ৬০ বছর বয়সী, কেন্দ্র‑ডানপন্থী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি) নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শিরোনাম অর্জনের পথে। পার্টির জয় তারেকের জন্য সরকার গঠন করার সুযোগ তৈরি করেছে, যা দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক পদে তার নামকে সামনে নিয়ে এসেছে।

তারেকের রাজনৈতিক পরিচয় দেশের শীর্ষ দুই পরিবারে নিহিত। তার পিতা আনিসুর রহমান জিকো ১৯৮১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন, আর তার মা খালেদা জিয়া ১৯৯১‑১৯৯৬ এবং ২০০১‑২০০৬ পর্যন্ত দুইবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শাসন করেছেন। উভয়ই বিএনপি প্রতিষ্ঠা ও নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

তারেকের প্রথম রাজনৈতিক পদক্ষেপ ২০০১ সালে দেখা যায়, যখন তিনি ত্রিশের মাঝামাঝি বয়সে পার্টির কার্যক্রমে সক্রিয় হন। একই বছর তার মা খালেদা জিয়া দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন, যা তার রাজনৈতিক উত্থানকে ত্বরান্বিত করে।

বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন পিতার আনিসুর রহমান জিকো ১৯৭৮ সালে, এবং তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পিতার হত্যার পর পরিবারটি রাজনৈতিক মঞ্চে শক্তিশালী অবস্থান বজায় রাখে, যা তারেকের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে।

২০০২ সালে তারেককে পার্টির উচ্চপদে উন্নীত করা হয়, যা বিরোধীরা ঘৃণার সাথে নেপোটিজমের অভিযোগে চিহ্নিত করে। এই পদোন্নতি তাকে পার্টির অভ্যন্তরে প্রভাবশালী করে তুলেছে এবং তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়।

সেই সময় থেকে তারেককে পার্টির শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য “হ্যাচেট ম্যান” বলা হয়। তার শৃঙ্খলা বজায় রাখার পদ্ধতি বিরোধী দলের কাছে সমালোচনার বিষয়, তবে সমর্থকরা তাকে পার্টির ঐক্য রক্ষাকারী হিসেবে প্রশংসা করে।

তারেকের বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ২০০৭ সালে সামরিক সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করে, এবং তিনি বিচারাধীন অবস্থায় নির্যাতনের অভিযোগ করেন। ১৮ মাসের কারাদণ্ডের পর মুক্তি পেয়ে তিনি লন্ডনে নির্বাসনে যান।

মা খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পার্টির নেতৃত্বের শূন্যতা দেখা দেয়, এবং তারেককে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সন হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এই পদোন্নতি তারেককে নির্বাচনী প্রচারণার শীর্ষে নিয়ে আসে, যা শেষ পর্যন্ত পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে।

সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিএনপি বেশিরভাগ আসন জিতে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ফলে তারেকের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়েছে, যদিও সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এখনো বাকি।

বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে তারেকের উত্থানকে নেপোটিজম ও দুর্নীতির অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। বিরোধীরা তার পার্টির অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা রক্ষার পদ্ধতিকে স্বৈরাচারী হিসেবে সমালোচনা করে, এবং তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত বলে উল্লেখ করে।

বিশ্লেষকরা বলেন, যদি তারেক প্রধানমন্ত্রী হন, তবে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে। তিনি পারিবারিক ঐতিহ্যকে আধুনিক রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের সঙ্গে সমন্বয় করার চেষ্টা করবেন, এবং সরকারের নীতি নির্ধারণে তার পারিবারিক নেটওয়ার্কের ভূমিকা বাড়তে পারে। ভবিষ্যতে তিনি কীভাবে বিরোধী দল ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলবেন, তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি হবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments