পপ গায়িকা টেইলর স্বিফট যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেডমার্ক অফিসে ক্যাথে হোম নামের নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক বেডিং কোম্পানির ‘Swift Home’ ট্রেডমার্ক আবেদনকে রোধের আবেদন জানিয়েছেন। স্বিফটের আইনগত দল দাবি করে যে কোম্পানির লোগোতে ‘Swift’ শব্দের শৈলী গায়িকার স্বাক্ষরের কৌসিক ফন্টের সঙ্গে খুবই সাদৃশ্যপূর্ণ, যা ভোক্তাদের মধ্যে গায়িকা পণ্যটি অনুমোদন করেছেন এমন ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে।
স্বিফটের প্রতিনিধিত্বকারী TAS Rights Management LLC বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক অফিসে একটি আপিল দাখিল করে। আপিলে উল্লেখ করা হয়েছে যে ‘Swift Home’ চিহ্নটি গায়িকার নাম ও স্বাক্ষরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংযোগ স্থাপন করে, ফলে গ্রাহকরা বিশ্বাস করতে পারেন যে স্বিফট এই বেডিং পণ্যের পেছনে সমর্থন দিচ্ছেন।
ক্যাথে হোম ২০১০ সালে নিউ ইয়র্কে প্রতিষ্ঠিত একটি বেডিং ব্র্যান্ড, যা প্রধান রিটেইল চেইনগুলোর মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে। কোম্পানি সম্প্রতি তার বেডিং লাইনকে ‘Swift Home’ নামে রেজিস্টার করার জন্য ট্রেডমার্ক আবেদন করেছে এবং এই নামটি ব্যবহার করে বাজারে নতুন সংগ্রহ চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
ক্যাথে হোমের ওয়েবসাইটে উল্লেখ আছে যে তারা গৃহস্থালির বিভিন্ন পণ্য, বিশেষত চাদর ও বালিশের জন্য উচ্চমানের উপকরণ ব্যবহার করে। ‘Swift Home’ ট্রেডমার্কের জন্য আবেদন করা হয়েছিল বেডিং আইটেমের ওপর, যা কোম্পানির ভবিষ্যৎ বিপণন কৌশলের একটি মূল অংশ হিসেবে বিবেচিত।
স্বিফটের আইনজীবীরা যুক্তি দেন যে ‘Swift Home’ চিহ্নটি গায়িকার দীর্ঘদিনের সুরক্ষিত ট্রেডমার্কের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে ভোক্তাদের বিভ্রান্তি ঘটবে। তারা উল্লেখ করেন যে স্বিফটের নাম ও স্বাক্ষর ইতিমধ্যে ফেডারেল ট্রেডমার্ক হিসেবে রেজিস্টার করা আছে এবং এই সুরক্ষার লঙ্ঘন করা হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আইনি দল আরও বলেন যে ক্যাথে হোমের এই প্রচেষ্টা স্বিফটের সুনাম ও স্বীকৃতিকে বাণিজ্যিক সুবিধা হিসেবে ব্যবহার করার উদ্দেশ্য বহন করে। গায়িকার বিশাল ফ্যানবেস ও বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা বিবেচনা করে, এমন একটি নাম ব্যবহার করলে কোম্পানির ব্র্যান্ডের মূল্য বাড়বে বলে তারা অনুমান করেন।
স্বিফটের ফেডারেল ট্রেডমার্কের আওতায় তার নাম, স্বাক্ষর, অক্ষর সংমিশ্রণ এবং কিছু অ্যালবাম শিরোনাম অন্তর্ভুক্ত। এই ট্রেডমার্কগুলো গায়িকাকে তার পণ্য, পোশাক, সঙ্গীত সংক্রান্ত সামগ্রী এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক আইটেমে তার নাম ব্যবহার থেকে রক্ষা করে।
গায়িকা এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশে ৩০০টিরও বেশি ট্রেডমার্ক রেজিস্টার করিয়েছেন। এর মধ্যে তার পূর্ণ নাম, আদ্যক্ষর, অ্যালবাম শিরোনাম এবং কিছু গানের লিরিক্স অন্তর্ভুক্ত, যা তার ব্র্যান্ডের বিস্তৃত সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
স্বিফটের নিট সম্পদ এক বিলিয়ন ডলারের উপরে, যা তার সঙ্গীত ক্যারিয়ার, কনসার্ট ট্যুর এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগের সমন্বয়ে গঠিত। এই আর্থিক শক্তি তাকে তার বৌদ্ধিক সম্পত্তি রক্ষায় সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নিতে সক্ষম করে।
‘Swift Home’ ট্রেডমার্কের অনুমোদন পেলে ভোক্তাদের মধ্যে স্বিফটের অনুমোদন নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে, যা গায়িকার ব্র্যান্ড ইমেজকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই স্বিফটের দল এই সম্ভাব্য বিভ্রান্তি দূর করার জন্য দ্রুত আইনি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক অফিসে আবেদন পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চলমান। যদি অফিস স্বিফটের আপিল গ্রহণ করে, তবে ক্যাথে হোমের ট্রেডমার্ক আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। অন্যদিকে, যদি আবেদন অনুমোদিত হয়, তবে কোম্পানি ‘Swift Home’ নামে পণ্য বাজারে চালু করতে পারবে।
এই ধরনের ট্রেডমার্ক বিরোধের পূর্বে বিভিন্ন সেলিব্রিটি ও বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে সমান ধরনের মামলা দেখা গেছে। সাধারণত আদালত বা ট্রেডমার্ক অফিস গায়িকাদের মত সেলিব্রিটিদের নাম ও স্বাক্ষরের সুরক্ষার গুরুত্বকে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়।
সারসংক্ষেপে, টেইলর স্বিফটের আইনগত দল ক্যাথে হোমের ‘Swift Home’ ট্রেডমার্ক আবেদনকে বাধা দিতে সক্রিয় পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে তার নাম ও স্বাক্ষরের অননুমোদিত ব্যবহার রোধ করা যায়। এই মামলা ট্রেডমার্ক সুরক্ষার ক্ষেত্রে সেলিব্রিটিদের অধিকার ও বাণিজ্যিক স্বার্থের মধ্যে সমতা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।



