বোম্বে হাই কোর্ট বৃহস্পতিবার আদিত্য পঞ্চোলির পিটিশন শোনে, যেখানে তিনি ২০১৯ সালে ভার্সোবা থানা-তে দায়ের রেপ FIR বাতিলের আবেদন করেন। অভিযোগটি একটি মহিলা বলিউড অভিনেত্রী থেকে এসেছে, যিনি পঞ্চোলির বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযোগ দায়ের করেন।
পঞ্চোলির আইনজীবী দল, প্রধানত প্রবীণ অ্যাডভোকেট প্রসান্ত পাটিলের নেতৃত্বে, FIR দাখিলের সময়সীমা ও প্রমাণের ঘাটতি তুলে ধরে মামলাটি বাতিলের দাবি জানায়। তারা উল্লেখ করেন যে, ঘটনার পর বহু বছর কেটে যাওয়ায় প্রমাণ সংগ্রহ কঠিন এবং অভিযোগটি ‘দুর্ভাবনা’ ভিত্তিক হতে পারে।
বিচারকগণকে প্ররোচিত করতে দলটি সুপ্রিম কোর্টের ভজনলাল রায়ের উল্লেখ করে, যেখানে নির্দিষ্ট শর্তে অপরাধমূলক প্রক্রিয়া বাতিলের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এই রায়ের ভিত্তিতে পঞ্চোলির পক্ষে দাবি করা হয় যে, বর্তমান FIR-টি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে অপ্রয়োজনীয়।
শুনানির সময় পঞ্চোলির রক্ষা দল একটি অডিও রেকর্ডিং উপস্থাপন করে, যেখানে FIR দায়েরের পূর্বে এক সাক্ষাৎকারের রেকর্ড রয়েছে। রেকর্ডিংটি অনুযায়ী, অভিযোগকারী পক্ষের ইচ্ছা ভুলভাবে গঠন করা হয়েছে বলে দলটি যুক্তি দেয়। আদালত রেকর্ডিংটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে তৎক্ষণাৎ কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলোতে মনোযোগ দেয়।
প্রসিকিউশন অফিসার আদালতে জানায় যে, তদন্তকারী সংস্থা অভিযোগকারীকে একাধিকবার ডাকা সত্ত্বেও, তিনি কোনো সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করেননি। মোট ১১টি নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও, অভিযোগকারী কোনোভাবে উপস্থিত হতে পারেননি।
এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে বোম্বে হাই কোর্ট অভিযোগকারীকে পরবর্তী শুনানিতে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেয়। নতুন তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, যেখানে উভয় পক্ষের যুক্তি পুনরায় বিবেচনা করা হবে।
আদিত্য পঞ্চোলির ক্যারিয়ার দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডের বিভিন্ন ধরণের চরিত্রে ছাপ ফেলেছে। তিনি পূর্বে এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে খণ্ডন করে, আইনগত প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
পঞ্চোলির আইনজীবীরা আরও জোর দিয়ে বলেন যে, অভিযোগকারী কোনো প্রাসঙ্গিক প্রমাণ না দিয়ে মামলাটি চালিয়ে যাওয়া অন্যায়। তারা আদালতকে অনুরোধ করে, প্রমাণের ঘাটতি ও সময়সীমা বিবেচনা করে FIR বাতিলের অনুমতি দেবে।
অন্যদিকে, পাবলিক প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন যে, অভিযোগকারীকে পুনরায় ডাকা হয়েছে এবং তিনি যদি না আসেন, তবে মামলাটি অগ্রসর হতে পারে না। তিনি আদালতকে অনুরোধ করেন, অভিযোগকারীকে বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত করতে ব্যবস্থা নিতে।
শুনানির পর আদালত কোনো রেকর্ডিংয়ের স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি প্রকাশ না করলেও, প্রক্রিয়াগত দিক থেকে পরবর্তী ধাপের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এটি নির্দেশ করে যে, মামলাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং মূল বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে।
বোম্বে হাই কোর্টের এই সিদ্ধান্ত বলিউডের দীর্ঘস্থায়ী আইনি বিতর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। পঞ্চোলির বিরুদ্ধে দায়ের রেপ FIR এখনো আদালতে রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানিতে উভয় পক্ষের যুক্তি পুনরায় বিবেচনা করা হবে।
এই মামলাটি শিল্প জগতে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে, কারণ এটি একটি সুপরিচিত অভিনেতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ নিয়ে গঠিত। তবে, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসারে, প্রমাণের যথার্থতা ও সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শুনানির পরবর্তী তারিখে উভয় পক্ষকে তাদের যুক্তি ও প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে, যাতে আদালত ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এই প্রক্রিয়ার ফলাফল বলিউডের আইনি পরিবেশে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।



