ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে একটি দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নির্বাচনে বিজয় অর্জনকারী প্রার্থী বিজয় এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য ছাত্রদল সমবেত হয়। অনুষ্ঠানটি বিকাল ৩টায় শুরু হয় এবং উপস্থিতদের মধ্যে ছাত্র, শিক্ষক ও রাজনৈতিক কর্মী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
মহফিলের উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং দেশের উন্নয়নের জন্য প্রার্থীদেরকে দোয়া ও শুভেচ্ছা জানানো। উপস্থিতরা একত্রে নীরবতা বজায় রেখে প্রার্থীদের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি ও ন্যায়ের প্রার্থনা করেন।
অনুষ্ঠানের সূচনায় একটি সংক্ষিপ্ত ধর্মীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়, এরপর ছাত্রদলের প্রধান মঞ্চে এসে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং নির্বাচনের স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু পরিচালনার প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এই ফলাফল আমাদের গণতন্ত্রের শক্তি ও জনগণের ইচ্ছার প্রকাশ।”
মহফিলের অংশ হিসেবে উপস্থিতরা একে অপরকে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানায় এবং ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। কিছু ছাত্র প্রতিনিধি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কথা তুলে ধরেন।
ইতিবাচক পরিবেশের পাশাপাশি, নির্বাচনের ফলাফলও সংবাদে উঠে আসে। চট্টগ্রাম‑৭ আসনে হুমাম কাদের চৌধুরীর নিরঙ্কুশ জয়, নারায়ণগঞ্জ‑৪ আসনে এনসিপির আল আমিনের বিজয় এবং চট্টগ্রাম‑১৩ আসনে সরওয়ার জামাল নিজামের জয় উল্লেখযোগ্য। এসব ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপথ গড়ে তুলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
বিএনপি দলও ২০ বছর পর সরকারে ফিরে আসার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ জয় অর্জন করেছে। চট্টগ্রাম‑১ আসনে নুরুল আমিনের জয় এবং চট্টগ্রাম‑১১ আসনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বিজয় দলকে শক্তিশালী করেছে। এসব জয়কে দলীয় নেতারা দেশের উন্নয়নের নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগও কিছু গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পেয়েছে। চট্টগ্রাম‑১৬ আসনে জয়ী দাঁড়িপাল্লার জহিরুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম‑৪ আসনে বিজয়ী টুকু, যিনি ৫১ হাজারের বেশি ভোটে জয়লাভ করেন, তাদের জয়কে সরকারী নীতি বাস্তবায়নে সমর্থন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈধ ভোটাধিকার ও স্বচ্ছ নির্বাচনের গুরুত্বকে পুনরায় জোর দিয়ে, নির্বাচনের ফলাফল গেজেটের প্রকাশের তারিখ ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও দূতাবাসের প্রতিনিধিরা ফলাফলকে স্বীকৃতি দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেছেন।
মহফিলের শেষে উপস্থিত সবাই একত্রে হাততালি দিয়ে সমাপ্তি করেন এবং ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নের জন্য একসাথে কাজ করার প্রতিজ্ঞা পুনর্ব্যক্ত করেন। এই সমাবেশকে ছাত্রদল ‘দলিল’ এর সভাপতি উল্লেখ করেন, “আমরা দেশের জন্য কাজ করার দায়িত্বে আছি এবং এই দোয়া আমাদের লক্ষ্যকে শক্তিশালী করবে।”
এই দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে ছাত্রদল নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকৃতি দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে শান্তি ও সংহতির বার্তা পৌঁছাতে চেয়েছে। ভবিষ্যতে নির্বাচনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে পার্লামেন্টে নতুন আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সমাবেশ রাজনৈতিক উত্তেজনা কমিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বাড়াতে সহায়তা করেছে। নির্বাচনের ফলাফল এবং দোয়া মাহফিলের সমন্বয় দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।



