28 C
Dhaka
Friday, February 13, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপি ১৫১ আসনে জয়ী, ১৩তম সংসদে সরকার গঠন করতে প্রস্তুত

বিএনপি ১৫১ আসনে জয়ী, ১৩তম সংসদে সরকার গঠন করতে প্রস্তুত

গণতান্ত্রিক নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হয়েছে; ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ১৫১টি জয়ী করে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিএনপি) সরকার গঠনের পথে অগ্রসর হয়েছে। ভোটের ফলাফল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়, যেখানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠনের জন্য ভোটদান শেষ হয়েছে।

বিএনপি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত-এ-ইসলামির সঙ্গে জোট গঠন করে। জামায়াত-এ-ইসলামি ৪২টি আসন জয় করে, যা দলটির সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উভয় দলের সমন্বয় সরকার গঠনের মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়াবে।

বিএনপি জোটে অন্যান্য ছোট দলগুলোরও অংশগ্রহণ রয়েছে। বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান পার্টি (বিজেপি) ও গণসংহতি আন্দোলন প্রত্যেকটি এক করে আসন পেয়েছে। জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন একাদশ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) তিনটি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুইটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসন অর্জন করেছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চারটি আসনে জয়লাভ করেছে, তবে এখনও ৯৪টি আসনের ফলাফল ঘোষিত হয়নি। বাকি আসনগুলোতে বেশ কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অগ্রগতি দেখাচ্ছেন, যার মধ্যে বিএনপি প্রার্থীরাও রয়েছে। ফলাফল চূড়ান্ত হলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও দৃঢ় হবে।

একই দিনে সংবিধান সংশোধনী সংক্রান্ত একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। প্রশ্নের কাঠামো ও প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা সত্ত্বেও, ভোটের ফলাফল ‘হ্যাঁ’ পক্ষে গৃহীত হয়েছে, যা জুলাই সনদের অধীনে ৪৮টি ধারা বাস্তবায়নের অনুমোদন নির্দেশ করে।

সংবিধান সংশোধনী ভোটের বৈধতা নিয়ে বিতর্কের পরেও, সরকারী দল ও বিরোধী দল উভয়ই ফলাফলকে দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

বিএনপি ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিনবার সরকার গঠন করেছে। সেই সময়ে দলটির মুখ্য নেতা ছিলেন খালেদা জিয়া, যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দলটির চেয়ারপার্সন ছিলেন।

বর্তমানে দলটির নেতৃত্বে তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার পুত্র, আছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি চতুর্থবার দেশের শাসনভার গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারেকের নেতৃত্বে জোটের কাঠামো ও কৌশল পুনর্গঠন করা হয়েছে, যা নির্বাচনী ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে।

১৯৯০-এর দশকে সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতনের পর, খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকারে ফিরে আসেন। পরবর্তী তিনটি নির্বাচনে দুইবার সরকার গঠন করলেও একবার মেয়াদ শেষ করতে পারেননি, এবং ২০০৮ সালে দলটি শাসন ক্ষমতা থেকে বেরিয়ে যায়।

এরপরের দুইটি নির্বাচনে (২০১৪ ও ২০১৮) দলটি আওয়ামী লীগের শাসনকালে অংশগ্রহণ না করে বর্জন করে, ফলে তার রাজনৈতিক উপস্থিতি সীমিত হয়ে যায়। ২০২২ সালের চতুর্দশের অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের সরকার পতনের ফলে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়, যা বিএনপির পুনরায় ক্ষমতায় আসার সুযোগ তৈরি করে।

আওয়ামী লীগ বর্তমানে সংসদে কোনো আসন না থাকায়, দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একতরফা শাসন কাঠামো দেখা যায় না। দলটি এখন বিরোধী অবস্থায় রয়েছে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে পুনরায় শক্তি সংগ্রহের জন্য কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত।

বিএনপি ও তার জোটের সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এখন শুরু হয়েছে। জোটের মধ্যে আসন বণ্টন, মন্ত্রিপরিষদ গঠন এবং সংবিধান সংশোধনী বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপগুলো শীঘ্রই সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, নতুন সরকারকে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments