28 C
Dhaka
Friday, February 13, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকজাপান চীনের মাছধরা নৌযান জব্দ, ক্যাপ্টেন গ্রেপ্তার ও অবৈধ জাল পাওয়া গিয়েছে

জাপান চীনের মাছধরা নৌযান জব্দ, ক্যাপ্টেন গ্রেপ্তার ও অবৈধ জাল পাওয়া গিয়েছে

বৃহস্পতিবার জাপানের মৎস্য সংস্থা নাগাসাকি প্রশাসনিক অঞ্চলের পার্শ্ববর্তী বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জলে একটি চীনা মাছধরা নৌযান জব্দ করেছে। সংস্থার পরিদর্শক নৌযানকে থামতে নির্দেশ দিলেন, তবে ক্যাপ্টেন নির্দেশ উপেক্ষা করে পালানোর চেষ্টা করলে নৌযানটি আটক করা হয়।

নৌযানটি নাগাসাকি উপকূলে, জাপানের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের সীমার মধ্যে ধরা পড়ে। ক্যাপ্টেনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং নৌযানের সঙ্গে মোট ১১ জন ক্রুও জাপানি কর্তৃপক্ষের হাতে নিল। ক্যাপ্টেন ৪৭ বছর বয়সী চীনা নাগরিক, বাকিরা চীনের বিভিন্ন প্রদেশের মৎস্যকর্মী।

জাপানি মৎস্য সংস্থা জানিয়েছে, নৌযানে ‘টাইগার নেট’ নামে পরিচিত অবৈধ জাল পাওয়া গিয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে বেশ কিছু দেশের মাছ ধরা নিয়মে নিষিদ্ধ। এই ধরনের জাল ব্যবহার করলে সামুদ্রিক পরিবেশের ক্ষতি এবং অপ্রয়োজনীয় প্রজাতির ধ্বংসের ঝুঁকি বাড়ে।

সংস্থার মতে, ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো চীনের কোনো মাছধরা নৌযান জাপানে জব্দ করা হয়েছে। জাপান এই ঘটনার মাধ্যমে চীনের সামুদ্রিক কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে চায়।

চীনের সরকার এখনও এই জব্দের ওপর কোনো সরকারি মন্তব্য প্রকাশ করেনি। জাপানি কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, চীনের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, যদিও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।

এই ঘটনার পটভূমিতে তাইওয়ান সংক্রান্ত উত্তেজনা বাড়ছে। নভেম্বর মাসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা তাইওয়ানকে চীনের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যা চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ‘চরম আপত্তিকর’ বলে সমালোচনা করতে বাধ্য করে।

চীনের প্রতিক্রিয়ায় টোকিওর চীনা দূতাবাসে চীনা রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো হয় এবং চীনের নাগরিকদের জাপানে ভ্রমণ ও পড়াশোনার বিষয়ে নতুন করে বিবেচনা করার অনুরোধ করা হয়। এই পদক্ষেপের ফলে জাপানে চীনা পর্যটকদের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পেতে পারে, যা পর্যটন ও সংশ্লিষ্ট সেবা খাতের শেয়ার মূল্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, চীন-জাপান সম্পর্কের এই নতুন উত্তেজনা সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বাণিজ্যিক মৎস্য অধিকার এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক ভারসাম্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে উভয় দেশই সামুদ্রিক সীমা সংক্রান্ত চুক্তি পুনর্বিবেচনা এবং দ্বিপাক্ষিক সংলাপ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে পারে।

অধিকন্তু, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে এই ঘটনা চীনের সামুদ্রিক নীতি এবং জাপানের নিরাপত্তা কৌশলের মধ্যে একটি নতুন সংঘর্ষের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাইওয়ান সংক্রান্ত আলোচনার পাশাপাশি, অবৈধ মৎস্য শিকার নিয়ন্ত্রণে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন।

এই জব্দের পরবর্তী ধাপগুলোতে চীনের সরকারী দিক থেকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ বা কূটনৈতিক আপত্তি প্রত্যাশিত, আর জাপান নৌযান ও ক্রুদের আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাবে। উভয় পক্ষের পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সামুদ্রিক সম্পদের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতি গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে।

৮২/১০০ ২টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিনবিডিনিউজ২৪
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments