দিল্লি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনকারী চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা প্রকাশ করেন। মোদি এই শুভেচ্ছা বার্তায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে দু’দেশের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।
মোদি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচনী ফলাফল বাংলাদেশের নাগরিকদের তারেক রহমানের নেতৃত্বে অটুট আস্থা ও বিশ্বাসের প্রকাশ। তিনি বলেন, জনগণের এই সমর্থন দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার শক্তি বৃদ্ধি করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, আগামী সময়ে ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের বহুমুখী সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। তিনি দু’দেশের যৌথ উন্নয়ন লক্ষ্যে একসাথে কাজ করার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
মোদি স্পষ্ট করে জানান, ভারত সর্বদা একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পাশে থাকবে। তিনি দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সংকল্প প্রকাশ করেন।
তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশকে স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হতে দেখার আশাবাদও মোদি প্রকাশ করেন। তিনি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করেন।
এই শুভেচ্ছা বার্তা নির্বাচন ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রকাশিত হয়। আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে দ্রুত এই স্বীকৃতি, নতুন সরকারকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিএনপি ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, এবং তারেক রহমান ঢাকা ও বগুড়া জেলায় বিশাল ভোটে জয়লাভ করেন। এই ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে।
মোদি তার বার্তায় দু’দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি বাণিজ্য, অবকাঠামো ও শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা উল্লেখ করেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা এই দ্রুত অভিনন্দনকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন। তারা আশা করছেন যে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, যোগাযোগ ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বে গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
তারেক রহমানও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি দু’দেশের সহযোগিতায় সমতা ও পারস্পরিক লাভকে মূল নীতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সফলভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার পর গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসাকে ভারতের দৃষ্টিতে বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। মোদির এই বার্তা, নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত।
দিল্লি ও ঢাকা মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপের ত্বরান্বিত হওয়া, বাণিজ্যিক চুক্তি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন প্রকল্পের সূচনা, দু’দেশের কূটনৈতিক মঞ্চে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, নরেন্দ্র মোদির শুভেচ্ছা বার্তা, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বীকৃতি এবং দু’দেশের ভবিষ্যৎ পারস্পরিক উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করে, অঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখবে।



