১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল‑বিএনপি ও তার নেতা তারেক রহমানকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি শুভেচ্ছা জানিয়ে দিলেন। ভোটগ্রহণের পর বিজয়ী দল সরকার গঠনের প্রান্তে পৌঁছায়, আর বিরোধী জোট হিসেবে জামায়াত-এ-ইসলামি ও এনসিপি জোটের সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়।
মিডিয়া সূত্র অনুযায়ী, ৩০০ আসনের সংসদে বিএনপি‑নেতৃত্বাধীন জোট ২১৩টি আসন জয় করে দুই‑তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এ ফলাফলকে ভিত্তি করে নতুন সরকার গঠন ও নীতি নির্ধারণের দিক নির্ধারিত হবে, আর জামায়াত-এ-ইসলামি ও এনসিপি জোট পার্লামেন্টে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে কাজ করবে।
প্রেসিডেন্ট জারদারি তার শুভেচ্ছা বার্তায় উল্লেখ করেন, পাকিস্তান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করে এবং নতুন সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে সহযোগিতা বাড়াতে ইচ্ছুক। তিনি নতুন শাসনব্যবস্থার সঙ্গে কাজ করার জন্য পাকিস্তানের প্রস্তুতি প্রকাশ করেন।
জারদারি আরও জানান, তিনি আশা করেন ঢাকার নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ অঞ্চল জুড়ে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ, স্বাধীন ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীল সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করবে। এই মন্তব্যে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন ও পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর ইঙ্গিত দেন।
এর আগে, ১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭:৪৮ টায়, ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে বিএনপি ও তারেক রহমানকে ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানানো হয়। পোস্টে উল্লেখ করা হয়, “একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন।” এই বার্তায় নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণের প্রশংসা করা হয়েছে।
মার্কিন দূতাবাসের একই পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের দুই দেশের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার যৌথ লক্ষ্যের দিকে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। তারা বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী বলে উল্লেখ করেছে।
বিএনপি‑নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে, জামায়াত-এ-ইসলামি ও এনসিপি জোটের বিরোধী ভূমিকা পার্লামেন্টে স্পষ্ট হবে। নতুন শাসনব্যবস্থা কীভাবে অভ্যন্তরীণ নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের শুভেচ্ছা, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলবে।
পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, নতুন মন্ত্রিসভা গঠন, নীতি নির্ধারণ ও বিদেশি মিশনগুলোর সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত হবে। এই সময়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ও বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সংলাপের তীব্রতা বাড়বে, যা দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা কৌশলে নতুন দিকনির্দেশনা যোগ করবে।



