ব্রিটিশ কলম্বিয়ার তুম্বলার রিজে মঙ্গলবার বিকেলে গুলি-হিংসা ঘটায়, যার ফলে মোট নয়জনের প্রাণ ত্যাগ করে, যার মধ্যে ছয়জন শিশু। ঘটনাস্থল ছিল তুম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুল, যেখানে প্রায় দুই হাজার চারশো বাসিন্দার ছোট শহরটি শক ও শোকের মধ্যে ডুবে যায়। স্থানীয় পুলিশ ১৩:৩০ টার কাছাকাছি গুলির রিপোর্ট পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তৎক্ষণাৎ অনুসন্ধান শুরু করে।
পোস্টমোর্টেম রিপোর্টে ১২ বছর বয়সী জোই বেনোয়েট এবং কাইলি স্মিথের নাম প্রকাশিত হয়; উভয়ই শিকারের শিকার হয়ে মারা যায়। জোইকে পরিবার “সবচেয়ে শক্তিশালী ছোট মেয়ে” হিসেবে বর্ণনা করেছিল, আর কাইলি তার পরিবারের “আলো” বলে উল্লেখ করা হয়, যিনি বড় শহরে আর্ট স্কুলে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। অন্যান্য শিকারের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীর পরিবার অন্তর্ভুক্ত, যা শহরের ঘনিষ্ঠ সামাজিক কাঠামোকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
সন্দেহভাজন ১৮ বছর বয়সী জেসি ভ্যান রুটসেলার গুলির পর স্কুলের কাছাকাছি আত্মহত্যা করেন, তার গুলিবিদ্ধ দেহ পুলিশে পাওয়া যায়। ভ্যান রুটসেলারের মা ও সৎ-ভাইও শিকারের তালিকায় রয়েছে; তাদের দুজনই স্থানীয় বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এই তথ্য অনুসারে, সন্দেহভাজন প্রথমে তার পরিবারকে হত্যা করে, তারপর স্কুলে গিয়ে গুলি চালায়।
শহরের মানুষ দ্রুতই শোক প্রকাশের জন্য স্কুলের পাশে একটি স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে তোলেন। সেখানে ফুল, টেডি ভাল্লুক এবং হাতে লেখা নোট রেখে শিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। স্থানীয় পাস্টর ট্রেসি ক্রস, যিনি পূর্বে শহরের নিরাপত্তা নিয়ে আশাবাদী ছিলেন, গুলির পর তার মতামত পরিবর্তন করে বলেন যে পূর্বের নিরাপদ পরিবেশ এখন একধরনের অযৌক্তিক ভান হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, নতুন কেউ শহরে আসলে সবার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক, তবে এখন তা আর সম্ভব নয়।
পুলিশ শিকারের পরিচয় প্রকাশের পর তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং গুলির সঠিক কারণ ও প্রেরণা নির্ণয়ের জন্য প্রমাণ সংগ্রহে লিপ্ত। বর্তমানে তদন্তের প্রধান দিক হল কেন জেসি ভ্যান রুটসেলার এই রকম হিংসাত্মক কাজের দিকে ঝুঁকেছে, তা বোঝার চেষ্টা। পুলিশ সূত্রে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজনের পরিবার শহরে পরিচিত, এবং শিকারের পরিবারও সম্প্রদায়ের মধ্যে পরিচিত।
দুর্ঘটনার পর দেশজুড়ে সহানুভূতি ও সমর্থন জানানো হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তুম্বলার রিজে শুক্রবার সফর করার পরিকল্পনা করেছেন, যাতে শোকাহত পরিবার ও সম্প্রদায়কে সমর্থন জানাতে পারেন। বিভিন্ন রাজ্য ও শহর থেকে সাহায্যের প্যাকেজ ও দান পাঠানো হয়েছে, যা শিকারের পরিবারকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা প্রদান করবে।
কানাডায় গুলির ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম, তবে এই ঘটনার পরিসর দেশকে শক করে দিয়েছে। তুম্বলার রিজের মতো ছোট শহরে এমন রক্তপাতের ঘটনা বিরল, যা স্থানীয় নিরাপত্তা নীতি ও সামাজিক কাঠামোর পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গুলির পরিসংখ্যান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন করতে বলছে, এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হিংসা রোধে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। একই সঙ্গে, শিকারের পরিবার ও বেঁচে থাকা আত্মীয়দের জন্য মানসিক সহায়তা প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অনুসন্ধান এখনও চলমান, এবং পুলিশ শিকারের পটভূমি, মানসিক অবস্থা ও সম্ভাব্য সহায়তাকারী ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত। শিকারের আত্মহত্যা, পরিবারিক হত্যাকাণ্ড এবং স্কুলে গুলির সংযোগ বিশ্লেষণ করে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার প্রতিরোধে নীতি নির্ধারণের দিকে মনোনিবেশ করবে।



