বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেরা অধিকাংশ আসনে জয়ী হওয়ার দাবি করে, দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় একত্রে দোয়া করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। এই উদ্যোগের ঘোষণা দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি দলীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এবং এতে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুম’আসহ সারাদেশের মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে বলে উল্লেখ আছে। ঢাকার প্রধান জুম’আ মসজিদসহ অন্যান্য প্রধান মসজিদে একত্রে নামাজ ও দোয়া করা হবে।
দোয়া কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হল সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত প্রার্থনা করা এবং দেশের সমগ্র জনগণের কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে অনুরোধ জানানো। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
বিএনপি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, নির্বাচনের জয় উদযাপনের জন্য কোনো আনন্দ মিছিল বা বৃহৎ সভা আয়োজন করা হবে না। দলটি রাজনৈতিক উত্তেজনা কমিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার জন্য দোয়া কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।
দলীয় নেতারা, সহায়ক সংগঠন ও সাধারণ জনগণকে এই দোয়া কর্মসূচিতে অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সকল স্তরের সদস্য ও সমর্থকরা নির্ধারিত সময়ে মসজিদে উপস্থিত হয়ে একসঙ্গে নামাজ আদায় করবেন।
দোয়া কর্মসূচি শুধুমাত্র মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে, যেমন মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায়ও একই সময়ে প্রার্থনা করার অনুরোধ করা হয়েছে। এতে ধর্মীয় সংহতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা জোরদার করার লক্ষ্য প্রকাশ পেয়েছে।
বিএনপি কর্তৃক প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক মঞ্চে ব্যবহার না করে, দেশের মঙ্গলের জন্য সমবেত প্রার্থনা করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এই দৃষ্টিভঙ্গি দলীয় নেতৃত্বের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ইচ্ছা প্রকাশ করে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে দোয়া কর্মসূচি একটি চিত্র পরিবর্তনের চেষ্টা হতে পারে। তবে তারা কোনো বিরোধিতা না করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের আহ্বানও পুনর্ব্যক্ত করেছে।
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল অধিকাংশ আসনে জয় দাবি করার পর, দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ তীব্র উত্তেজনায় রয়েছে। বিরোধী দলগুলো ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করার ইঙ্গিত দিয়েছে।
দোয়া কর্মসূচি এই উত্তেজনা কমিয়ে, জাতীয় মঞ্চে শান্তি ও সংহতি বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। যদি বৃহৎ অংশগ্রহণ হয়, তবে রাজনৈতিক বিরোধের পরিবর্তে ধর্মীয় ঐক্যের বার্তা দেশের নাগরিকদের মধ্যে পৌঁছাতে পারে।
ভবিষ্যতে, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ এবং পার্লামেন্টের প্রথম সেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনার তীব্রতা বাড়তে পারে। দোয়া কর্মসূচি এই সময়ে একটি শান্তিপূর্ণ বিরতি হিসেবে কাজ করতে পারে এবং পার্লামেন্টের কাজের পরিবেশকে শীতল রাখতে সহায়তা করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে একত্রে দোয়া করার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য ও শান্তি বজায় রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের ফলাফল কী হবে তা সময়ই প্রকাশ করবে, তবে বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



