শায়ান জাহাঙ্গীর আইসিসি‑কে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী ক্রিকেট দলগুলোর জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা সম্প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই উন্নয়নের জন্য আরও সম্পদ প্রয়োজন।
মেজর লিগ ক্রিকেট (এমএলসি) চালু হওয়ার পর থেকে দেশের ক্রিকেট দৃশ্যপটের পরিবর্তন স্পষ্ট। জাহাঙ্গীর বলেন, এমএলসির সূচনা থেকে খেলোয়াড়ের সংখ্যা ও দর্শকের আগ্রহে ধারাবাহিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। নতুন তরুণরা ক্রমশ ব্যাট ও বল হাতে নিয়ে প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন।
বিশেষত যুব প্রজন্মের মধ্যে ক্রিকেটের প্রতি উত্সাহ বাড়ছে। জাহাঙ্গীর উল্লেখ করেন, এখন অনেক কিশোর-কিশোরী ক্রিকেটের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে এবং তারা ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। এই তরুণ খেলোয়াড়দের সমর্থন ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে।
আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেও ক্রিকেটের পরিচিতি বাড়ছে। জাহাঙ্গীর জানান, কয়েক বছর আগে পর্যন্ত কিছু নেটিভ আমেরিকানই ক্রিকেটের অস্তিত্ব জানত না, তবে এখন তারা দলকে সমর্থন করে এবং নিজস্ব পরিচয় গড়ে তুলছে। এই পরিবর্তন দেশের বহুমুখী সংস্কৃতির সঙ্গে ক্রীড়ার সংযোগকে দৃঢ় করে।
জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের গর্বের অনুভূতি জোরালো। জাহাঙ্গীর বলেন, সীমিত প্রচার ও সম্পদের সত্ত্বেও খেলোয়াড়রা মাঠে উঠে দেশের পতাকা উড়িয়ে গর্বের সাথে খেলছেন। এই আত্মবিশ্বাস ও উত্সাহই ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।
তবে, জাহাঙ্গীর তহবিলের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি আইসিসি‑কে আহ্বান জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী দলগুলোকে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা উচিত, যাতে প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ে।
আইসিসি‑এর তহবিল বৃদ্ধি হলে দেশীয় লিগের মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পারফরম্যান্স উন্নত হবে বলে জাহাঙ্গীর বিশ্বাস। তিনি উল্লেখ করেন, তহবিলের মাধ্যমে কোচিং, ফিটনেস ও টেকনিক্যাল সাপোর্টে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে, যা তরুণ খেলোয়াড়দের দক্ষতা বাড়াবে।
এছাড়া, জাহাঙ্গীর যুক্তি যে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটের দ্রুত বিকাশের জন্য ধারাবাহিক তহবিলের প্রয়োজন, তা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বকে তুলে ধরে। তিনি আইসিসি‑কে এই দিক থেকে সমর্থন বাড়াতে অনুরোধ করেন, যাতে দেশীয় ক্রিকেটের ভিত্তি মজবুত হয়।
শায়ান জাহাঙ্গীরের এই আবেদনটি ইতিমধ্যে ক্রিকেট সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন ক্লাব ও প্রশিক্ষকরা তহবিলের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে আইসিসি‑কে সমর্থন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটের উন্নয়নে এমএলসি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তবে তহবিলের ঘাটতি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। জাহাঙ্গীরের মতে, এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রমের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
শায়ান জাহাঙ্গীরের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তহবিলের অভাব ছাড়া ক্রিকেটের ধারাবাহিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি আইসিসি‑কে অনুরোধ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী দলগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক পরিকল্পনা গড়ে তোলার জন্য।
এই আহ্বানটি দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তহবিল বাড়লে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সরঞ্জাম ও আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, যা শেষ পর্যন্ত দেশের ক্রিকেটের গ্লোবাল র্যাঙ্কিং উন্নত করবে।



