FX চ্যানেলে সম্প্রচারিত নতুন বায়োড্রামা ‘লাভ স্টোরি: জন এফ কেনেডি জুনিয়র ও ক্যারোলিন বেসেট’ ১৯৯০-এর দশকের বিখ্যাত দম্পতি জে.এফ.কে. জুনিয়র ও ক্যারোলিনের প্রেম ও দুঃখভোগকে কেন্দ্র করে তৈরি। সিরিজের কাস্টিং, প্রযোজনা ও গল্পের উপস্থাপনা নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনা তীব্রভাবে প্রকাশ পেয়েছে, যার মধ্যে কেনেডি পরিবারের সদস্যদের মন্তব্যও অন্তর্ভুক্ত।
প্রধান ভূমিকায় পল অ্যান্থনি কেলি জন এফ কেনেডি জুনিয়র এবং সারাহ পিজন ক্যারোলিন বেসেটকে অভিনয় করেছেন। দুজনই প্রথমবারের মতো এই ঐতিহাসিক চরিত্রকে স্ক্রিনে উপস্থাপন করছেন, এবং রায়ান মারফি প্রোডাকশনের অধীনে সিরিজটি তৈরি হয়েছে। কাস্টিং ঘোষণার পরই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়, যেখানে অভিনয়শৈলী ও শারীরিক রূপের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
প্রথমবারের ফটোশুটের ছবি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন ব্যবহারকারীরা পিজনের চুলের রঙ ও পোশাকের স্টাইল নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেন। ক্যারোলিনকে ৯০-এর দশকের মিনিমালিস্ট ফ্যাশন আইকন হিসেবে চিত্রিত করার প্রচেষ্টা কিছু দর্শকের কাছে অপ্রাকৃত মনে হয়। বিশেষ করে তার স্বর্ণকেশের শেড এবং পোশাকের নির্বাচনকে অতিরিক্ত নাটকীয় বলে সমালোচনা করা হয়।
শুটিং চলাকালীন পাপারাজি দলের অনুপ্রবেশও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ক্যামেরা ও ফ্ল্যাশের ক্রমাগত উপস্থিতি অভিনেতা ও ক্রুদের কাজের গতি ধীর করে দেয় এবং সেটে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এই ধরনের হস্তক্ষেপের ফলে সিরিজের গোপনীয়তা ও সৃজনশীল স্বায়ত্তশাসনকে হুমকি হিসেবে দেখা হয়।
এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার ব্র্যাড সিম্পসন উল্লেখ করেন যে, ক্যারোলিন বেসেটের জীবনের প্রথম পর্যায়ে তিনি যে সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা এখন সিরিজের দলের জন্যও পুনরাবৃত্তি হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি ক্যারোলিনের অজানা থেকে হঠাৎ নজরে আসা এবং প্রতিটি পদক্ষেপে সমালোচনা পাওয়ার যাত্রার প্রতিফলন।” এই মন্তব্যটি হলিউড রিপোর্টারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত হয়।
সিরিজের সৃষ্টিকর্তা কনর হাইন্সও সমালোচনার মুখে আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছেন। তিনি জানান, দর্শকের আগ্রহই প্রকল্পের সাফল্যের সূচক এবং সমালোচনা সৃজনশীল দিকনির্দেশনা ঠিক করতে সহায়তা করেছে। হাইন্সের কাজটি এলিজাবেথ বেলারের জীবনী থেকে অনুপ্রাণিত, যেখানে দম্পতির প্রেমের উত্থান-পতন ও ১৯৯৯ সালের মার্থা’স ভিনিয়ার্ডের কাছে ঘটে যাওয়া বিমান দুর্ঘটনা বিশদভাবে বর্ণিত।
সিরিজটি দম্পতির প্রথম সাক্ষাৎ, দ্রুত গড়ে ওঠা সম্পর্ক এবং শেষ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া ট্র্যাজেডি পর্যন্ত সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য রাখে। ১৯৯৯ সালের দুঃখজনক বিমান দুর্ঘটনায় জন, ক্যারোলিন এবং তার বোন লরেন বেসেটের মৃত্যু সিরিজের মূল থিম হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে, যা দর্শকদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে ঐতিহাসিক ঘটনা এখনও জীবন্ত।
কেনেডি পরিবারের প্রতিক্রিয়াও মিশ্রিত। জেকের নাতি জ্যাক শ্লসবার্গ, যিনি জনের ভাইয়ের সন্তান, সিরিজের কিছু দিককে সমালোচনা করে প্রকাশ্যে মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি বিশেষ করে দম্পতির ব্যক্তিগত জীবনের চিত্রায়ন ও ঐতিহাসিক সঠিকতার প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও পরিবারের কিছু সদস্য সিরিজের প্রতি সমর্থন দেখিয়েছেন, শ্লসবার্গের মন্তব্য সমালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ গঠন করে।
প্রাথমিক সমালোচনা সত্ত্বেও সিরিজটি দর্শকদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে। নির্মাতারা সমালোচনাকে সৃজনশীল উন্নতির সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে, এবং সিরিজের শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত এপিসোডগুলোতে চরিত্রের গভীরতা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে আরও সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
‘লাভ স্টোরি’ সিরিজটি বর্তমানে FX চ্যানেলে সম্প্রচারিত হচ্ছে এবং রায়ান মারফি প্রোডাকশনের স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ। দর্শকরা সিরিজের মাধ্যমে ১৯৯০-এর দশকের আমেরিকান রাজনীতির এক অনন্য দম্পতির প্রেম ও দুঃখভোগের গল্প পুনরায় দেখতে পারবেন, এবং একই সঙ্গে ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতি সম্মান জানাতে পারবেন।



