একটি ১৫ সেকেন্ডের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক ভিডিও সম্প্রতি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে টম ক্রুজ ও ব্র্যাড পিটের ছাদে লড়াইয়ের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। ভিডিওটি আইরিশ চলচ্চিত্র নির্মাতা রুয়ারি রবিনসন আপলোড করেছেন; তিনি ২০০২ সালে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য অস্কার নোমিনেশনও পেয়েছিলেন।
রবিনসন ভিডিওটি তৈরি করতে মাত্র দুই লাইনের টেক্সট প্রম্পট ব্যবহার করেছেন, যা AI মডেলকে চরিত্রের মুখভঙ্গি, শরীরের গতি এবং পটভূমি পরিবেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেন্ডার করতে নির্দেশ দেয়। ফলস্বরূপ, দুজন হলিউডের বড় তারকা বাস্তবসম্মতভাবে একে অপরের সঙ্গে লড়াই করছে এমন দৃশ্য তৈরি হয়েছে, যা দর্শকদের মধ্যে বিস্ময় ও আলোচনার সঞ্চার করেছে।
এই ভিডিওকে দেখার পর, হলিউডের একজন শীর্ষ স্ক্রিনরাইটার AI প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এখন এমন একটি সময়ে পৌঁছেছি যখন একক ব্যক্তি কম্পিউটারের সামনে বসে এমন একটি চলচ্চিত্র তৈরি করতে সক্ষম হতে পারে, যা বর্তমান হলিউডের মানের সঙ্গে তুলনীয়।
স্ক্রিনরাইটার বলেন, যদি সেই ব্যক্তি সৃজনশীল দিক থেকে দুর্বল হয়, তবে ফলাফল নিরাশাজনক হবে; তবে যদি তিনি ক্রিস্টোফার নোলানের মতো প্রতিভা ও রুচি সম্পন্ন হন, তবে তা শিল্পের জন্য বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি এ বিষয়ে আশাবাদী নয়, বরং ভয় প্রকাশ করেন যে AI সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্র দখল করে নেবে, ফলে বহু শিল্পী ও কর্মীর কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে।
তিনি নিজের অবস্থানও উল্লেখ করে বলেন, তিনি নিজেও এই পরিবর্তনের ঝুঁকিতে আছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এটি কোনো হালকা মন্তব্য নয়; আমি সত্যিই ভয় পাচ্ছি যে AI আমাদের সৃজনশীল ভূমিকা ছিনিয়ে নিতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “যদি কেউ এই ভিডিওকে অপ্রতুল বলে মনে করে, তবে তার জন্য উদ্বেগের কোনো কারণ নেই, কিন্তু আমি এই প্রযুক্তির পেশাদারিত্বে মুগ্ধ হয়ে ভীত।”
ভিডিও প্রকাশের পর একটি মন্তব্যকারী ভিডিওকে “খারাপ” বলে সমালোচনা করেন। স্ক্রিনরাইটার সেই মন্তব্যের জবাবে জানান, শীঘ্রই এমন কেউ থাকবে যে একা কম্পিউটারে বসে এমন একটি চলচ্চিত্র তৈরি করতে পারবে, যা বর্তমান হলিউডের কাজের সঙ্গে অমিলহীন হবে। তিনি এই সম্ভাবনাকে “ভয়াবহ” হিসেবে বর্ণনা করেন, যদিও তা প্রযুক্তিগতভাবে চমৎকার।
রবিনসনও AI ব্যবহার করে ভিডিও তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র দু’টি বাক্য লিখে AI মডেলকে নির্দেশ দিলে, মডেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে চরিত্রের মুখের অভিব্যক্তি, শারীরিক আন্দোলন এবং পটভূমির আলো-ছায়া তৈরি করে। এই সরলতা ভবিষ্যতে অল্প সম্পদে উচ্চমানের ভিজ্যুয়াল কন্টেন্ট উৎপাদনের সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
স্ক্রিনরাইটার এই প্রবণতাকে হলিউডের ঐতিহ্যগত গেটকিপার ভূমিকার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে বড় স্টুডিও ও আর্থিক শক্তি সৃজনশীল সরঞ্জামগুলোর প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করে এসেছে, যা তরুণ ও কম সম্পদসম্পন্ন শিল্পীদের জন্য বাধা সৃষ্টি করেছে। তবে AI টুলের সহজলভ্যতা এই বাধা ভেঙে দিতে পারে, ফলে নতুন প্রতিভা ও স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি শিল্পে প্রবেশের সুযোগ পাবে।
এইসব বিবেচনা করে, শিল্পের অভ্যন্তরে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে AI প্রযুক্তি সৃজনশীল কাজকে গণতান্ত্রিক করতে পারে, অন্যদিকে তা বিদ্যমান কর্মসংস্থান ও শিল্পের গুণগত মানকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে কীভাবে নিয়মাবলী, নৈতিকতা এবং বাণিজ্যিক মডেল গড়ে উঠবে, তা এখনও অনিশ্চিত, তবে এই ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট মন্তব্যগুলো স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয় যে AI শিল্পের রূপান্তরের সূচনায় রয়েছে।



