১৩তম জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে, বিএনপি ও তার জোটের প্রার্থী ১৭০টি আসনে অগ্রগতি দেখিয়ে ভোটের ফলাফলকে ত্বরান্বিত করেছে। ভোটদানকালীন পরিবেশ উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ ছিল, যেখানে লক্ষ লক্ষ নাগরিক দীর্ঘদিনের অধিকার পুনরায় ব্যবহার করেছে।
এই ভোটের দিন দেশের বিভিন্ন অংশে ভোটারদের উচ্চ অংশগ্রহণ দেখা গিয়েছে, এবং নির্বাচন কমিশনের কর্মীরা দ্রুত ভোট গোনা শুরু করেছে। আনুষ্ঠানিক ফলাফল এখনও ঘোষিত না হলেও, পার্টি ও রিটার্নিং অফিসারদের গণনা অনুযায়ী অর্ধেকের বেশি আসনের ফলাফল জানানো হয়েছে।
অনানুষ্ঠানিক ফলাফলের ভিত্তিতে, বিএনপি ও তার জোটের প্রার্থী ১৭০টি আসনে অগ্রগতি বজায় রেখেছে, যা ৩:৩০ এএম পর্যন্ত সংগ্রহ করা ডেটার ওপর নির্ভরশীল। এই সংখ্যা পার্টির নিজস্ব গণনা ও রিটার্নিং অফিসারদের তথ্যের সমন্বয়ে গঠিত, তবে পোস্টাল ভোটের অন্তর্ভুক্তি স্পষ্ট নয়।
বিএনপি দীর্ঘ দুই দশক পর পুনরায় শাসন ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে এবং দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের আশায় রয়েছে। পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাচন সমন্বয় কমিটির মুখপাত্র মাহদি আমিন বর্তমান ভোট গণনা ও আসনভিত্তিক বিশদ তথ্যের ভিত্তিতে বিজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
জামায়াত-ই-ইসলাম, যা একসময় বিএনপির ঘনিষ্ঠ জোট ছিল, তার জোটের প্রার্থী ৬০টি আসনে জয়ী হওয়ার দাবি করেছে। এই তথ্য পার্টির নিজস্ব ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়েছে এবং ভোটের অগ্রগতি নির্দেশ করে।
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP), যা ছাত্র আন্দোলন থেকে উদ্ভূত এবং জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ, ছয়টি আসনে জয়ী হয়েছে বলে পার্টির নির্বাচনী সমন্বয় কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ শজিব ভূয়াইন তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানিয়েছেন।
অনানুষ্ঠানিক ফলাফলগুলো মূলত পার্টি-ভিত্তিক গণনা এবং রিটার্নিং অফিসারদের রিপোর্টের সমন্বয়ে তৈরি, তাই পোস্টাল ভোটের অন্তর্ভুক্তি বা বাদ দেওয়া সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এই পরিস্থিতিতে ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণে অতিরিক্ত যাচাই প্রয়োজন।
নির্বাচন কমিশন এখনও চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেনি; ভোট গোনা চলমান এবং বিভিন্ন আসনের আংশিক অনানুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। কমিশন ৩:৫০ এএম পর্যন্ত মোট ভোটার অংশগ্রহণের হার প্রকাশ করেছে, তবে পূর্ণাঙ্গ ফলাফল শীঘ্রই জানানো হবে।
অনানুষ্ঠানিক ফলাফলের ভিত্তিতে, বিএনপির প্রধান নেতা তরিক রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকা জয়ী হয়েছে। তরিকের ফিরে আসা ১৭ বছর পর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে, তিনি ঢাকা-১ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
এই ফলাফলগুলো যদি চূড়ান্ত হয়, তবে বিএনপি ও তার জোটের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা বাড়বে, যা সংসদে আইন প্রণয়ন ও সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সরকার গঠন ও নীতি নির্ধারণের জন্য নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষা অবশিষ্ট রয়েছে।



