টুর্নামেন্টের তৃতীয় রাউন্ডে ভারত এ ২০ ওভারের টি২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে নামিবিয়া দলকে ৯৩ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে শীর্ষে উঠে এসেছে। পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করার পর এই জয়টি ভারত এ‑এর ধারাবাহিক দ্বিতীয় জয় হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। ফলস্বরূপ পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষস্থান দখল করে দলটি টুর্নামেন্টের শীর্ষে অবস্থান করে।
টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেওয়া ভারত এ ২০ ওভারে মোট ২০৯ রান সংগ্রহ করে, যদিও শেষ ওভারে নয়টি উইকেট হারাতে হয়। পুরো ইনিংসে দলটি ৯ উইকেটের ক্ষতি সত্ত্বেও লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়। এই স্কোরে নামিবিয়া ২০ ওভারের সীমা অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়ে ১১৬ রানেই আটকে যায়।
ইশান কিশান ওপেনার হিসেবে শুরুরই মুহূর্তে আক্রমণাত্মক খেলা দেখিয়ে ২৪ ball-এ ৬১ রান তৈরি করেন, যার মধ্যে ছয়টি চার এবং পাঁচটি ছক্কা অন্তর্ভুক্ত। তার দ্রুতগতির ইনিংসটি ভারত এ‑এর মোট স্কোরের ভিত্তি স্থাপন করে এবং প্রথম ১০ ওভারে ১০০ রানের কাছাকাছি পৌঁছাতে সহায়তা করে। কিশানের আউট হওয়ার পরও দলটি আক্রমণাত্মক রণবন্টন বজায় রাখে।
মিডল অর্ডারে হার্দিক পান্ডিয়া ২৮ ball-এ ৫২ রান যোগ করেন, চারটি চার এবং চারটি ছক্কা মারার মাধ্যমে স্কোরে গতি বাড়িয়ে দেন। পান্ডিয়ার স্থিতিশীলতা ও দ্রুত রণবন্টন দলকে ১৫০ রানের পরেও আক্রমণাত্মক অবস্থানে রাখে। তার পারফরম্যান্সটি দলকে শেষ ওভারে অতিরিক্ত রানের জন্য প্রস্তুত করে।
সাঁজু স্যামসন ২২ রান, তিলক ভার্মা ২৫ রান, সূর্যকুমার যাদব ১২ রান এবং শুবমান গিল ২৩ রান করে দলকে সমর্থন করেন। প্রত্যেকেরই ছোটো অবদান স্কোরের মোট যোগফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই সমন্বিত প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ২০৯ রান সম্পন্ন করতে সহায়তা করে।
নামিবিয়া ব্যাটিংয়ে দ্রুত শুরুরই চাপের মুখে পড়ে, প্রথম ওভারেই কয়েকটি উইকেট হারায় এবং রানের গতি কমে যায়। ১৮.২ ওভারে ১১৬ রান সংগ্রহের পর পুরো দলই অলআউট হয়ে যায়, ফলে ৯৩ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়। নামিবিয়ার শিকাগো গেরহার্ড এরাসমাস ৪টি উইকেট নিয়ে সবচেয়ে বেশি সফল বোলার হিসেবে দাঁড়ান।
বোলিং দিক থেকে গেরহার্ড এরাসমাসের পাশাপাশি বেন শিকোঙ্গো, জেজে স্মিট এবং বার্নার্ড স্কলটজ প্রত্যেকেই এক করে উইকেট নেন, যা নামিবিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে ভেঙে দেয়। এই বোলারদের সমন্বিত পারফরম্যান্স ভারত এ‑কে লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে। বোলিং ইউনিটের শৃঙ্খলা ও চাপ সৃষ্টি নামিবিয়ার স্কোরকে সীমিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এই জয়ের ফলে ভারত এ পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে উঠে, টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে শীর্ষস্থান বজায় রাখার জন্য আত্মবিশ্বাস অর্জন করে। দলটি এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচে দু’বার জয় পেয়ে টুর্নামেন্টের শীর্ষে অবস্থান করে, যা পরবর্তী প্রতিপক্ষের জন্য সতর্কতা সংকেত দেয়।
পরবর্তী ম্যাচে ভারত এ আবার শীর্ষে থাকার জন্য লড়াই করবে এবং বর্তমান ফর্ম বজায় রেখে টুর্নামেন্টের শিরোপা লক্ষ্য করবে। দলটির কৌশলগত পরিকল্পনা ও খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যৎ ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



