খুলনা-৫ আসনের (ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলা) নির্বাচনী ফলাফল বৃহস্পতিবার রাতের শেষ দিকে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার আ স ম জামসেদ খোন্দকারের ঘোষণায় প্রকাশিত হয়। জামায়াত-এ-ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই নির্বাচনে হেরে গেছেন, যা পার্টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার ১,৪৪,৯৫৬ ভোট পেয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে ছাড়িয়ে গেছেন। তবে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার লবি ২,৭০২ ভোটের পার্থক্যে বিজয়ী হন, মোট ১,৪৭,৬৫৮ ভোট সংগ্রহ করে। লবি পূর্বে বিএনপি পার্লামেন্টার এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক সভাপতি হিসেবে পরিচিত।
বিএনপি দলের জয়কে পার্টি নেতারা স্বাগত জানিয়ে, নির্বাচনের ফলাফলকে তাদের কৌশলগত প্রচেষ্টার ফলাফল হিসেবে তুলে ধরেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, এই জয় পার্টির ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং আসন্ন সংসদীয় সেশনে প্রভাব বাড়াতে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে, জামায়াত-এ-ইসলামি দলের প্রতিনিধিরা ফলাফলকে হতাশার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। মিয়া গোলাম পরওয়ারের পরাজয়কে পার্টির নির্বাচনী কৌশলে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দলটি ভবিষ্যতে ভোটার সংযোগ ও স্থানীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।
একই সময়ে খুলনা-২ আসনে জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ৯৩,৭৮৯ ভোট পেয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বিএনপি পার্লামেন্টার নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীক, ৮৮,১৯৭ ভোট সংগ্রহ করে দ্বিতীয় স্থানে শেষ হয়।
শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলালের জয়কে জামায়াত-এ-ইসলামি দল তার আঞ্চলিক উপস্থিতি দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। দলটি উল্লেখ করেছে যে, এই ফলাফল পার্টির স্থানীয় ভিত্তি পুনরুজ্জীবিত করতে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে আরও বেশি ভোট অর্জনে সহায়ক হবে।
বিএনপি এবং জামায়াত-এ-ইসলামি উভয়ই নির্বাচনের পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি দল তার জয়কে জাতীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, যেখানে জামায়াত-এ-ইসলামি পার্টি তার হেলালের জয়কে আঞ্চলিক শক্তি বাড়ানোর ভিত্তি হিসেবে গণ্য করছে।
এই নির্বাচনী ফলাফলগুলো আসন্ন সংসদীয় সেশনের গঠনকে প্রভাবিত করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। জয়ী প্রার্থীরা সংসদে তাদের পার্টির নীতি ও এজেন্ডা উপস্থাপন করতে সক্ষম হবে, আর হারিয়ে যাওয়া প্রার্থীরা ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য পুনর্গঠন ও কৌশল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবে।
পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জ বা পুনরায় গণনা দাবি উত্থাপিত হতে পারে। তবে বর্তমান পর্যায়ে, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার ঘোষিত ফলাফলই সরকারী রেকর্ড হিসেবে স্বীকৃত, এবং পার্টিগুলো তাদের নির্বাচনী কৌশল অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।



