16 C
Dhaka
Friday, February 13, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাচয়ি গা‑অন শীতকালীন অলিম্পিকের নারীদের হাফপাইপে স্বর্ণপদক জয়ী

চয়ি গা‑অন শীতকালীন অলিম্পিকের নারীদের হাফপাইপে স্বর্ণপদক জয়ী

লিভিগনো, ইতালিতে অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিকের নারীদের হাফপাইপ প্রতিযোগিতায় ১৭ বছর বয়সী দক্ষিণ কোরিয়ার চয়ি গা‑অন চূড়ান্ত রানে ৯০.২৫ পয়েন্ট নিয়ে স্বর্ণপদক অর্জন করেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী, যুক্তরাষ্ট্রের চলো কিম, তৃতীয় বার ধারাবাহিক স্বর্ণপদক জয়ের স্বপ্ন পোষণ করছিলেন, তবে শেষ মুহূর্তে তার পরিকল্পনা ভেঙে যায়। এই জয়যাত্রা চয়ির দৃঢ়সংকল্প এবং কিমের শারীরিক সমস্যার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে।

প্রথম রানে চয়ি হাফপাইপের বরফের ধারালো প্রান্তে আঘাত পেয়ে কঠিন একটি পতন করেন; তিনি আইস লিপে ধাক্কা খেয়ে কেন্দ্রে উল্টে গিয়ে কিছু সময় অচল অবস্থায় ছিলেন। তবু তিনি দ্রুত নিজেকে তুলে নেন এবং পুনরায় রাইডের জন্য প্রস্তুত হন। এই দুর্ঘটনা সত্ত্বেও তার মনোবল অটুট রইল, যা পরবর্তী রানে তার পারফরম্যান্সে স্পষ্ট হয়ে দেখা যায়।

চয়ি তৃতীয় রানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাইড সম্পন্ন করে বিচারকদের মুগ্ধ করে। তার শেষ রানের স্কোর ৯০.২৫ পয়েন্ট, যা প্রতিযোগিতার শীর্ষে তাকে স্থাপন করে। এই স্কোর কিমের সর্বোচ্চ ৯০.২৫ পয়েন্টের সমান, তবে কিমের শেষ রানে পতনের ফলে তার স্কোর কমে যায়। ফলে চয়ি গা‑অন স্বর্ণপদক জয়ী হন, আর কিম রৌপ্যপদক পেয়ে শেষ করেন।

চলো কিমের প্রস্তুতি গ্রীষ্মের শেষের দিকে একটি প্রশিক্ষণ সেশনে ব্যাহত হয়। সুইজারল্যান্ডে একটি অনুশীলন চলাকালে তিনি কাঁধের অস্থি বিচ্যুতি এবং ল্যাব্রাম ফাটলসহ গুরুতর আঘাত পান, যা তিনি “সবচেয়ে বোকা পতন” বলে উল্লেখ করেন। যদিও কিম কাঁধে ব্রেস পরিধান করে, তবু তার পারফরম্যান্সে তা বড় প্রভাব ফেলেনি বলে মনে হয়। তার দৃঢ়সংকল্পের প্রতিফলন হিসেবে তিনি কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে ৯০.২৫ পয়েন্ট অর্জন করেন।

চলো কিমের প্রথম রানে ৮৮.০০ পয়েন্টের শক্তিশালী স্কোর দিয়ে তিনি স্বর্ণপদকের প্রান্তে ছিলেন। তার রাইডে উচ্চমানের ট্রিক্স এবং মসৃণ প্রবাহ দেখা গিয়েছিল, যা দর্শকদের প্রশংসা জাগিয়ে তুলেছিল। তবে চূড়ান্ত রানে তিনি আবারও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন এবং একটি বড় পতন করেন। এই পতনের ফলে তার স্কোর কমে যায় এবং তিনি রৌপ্যপদক নিয়ে শেষ হন।

চূড়ান্ত রানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেলিব্রিটি স্নুপ ডগ এবং স্নোবোর্ডের কিংবদন্তি শন হোয়াইট উপস্থিত ছিলেন, যা প্রতিযোগিতার উন্মাদনা বাড়িয়ে তুলেছিল। চয়ির কোচ রুনের চোখে অশ্রু ভরে ওঠে, যখন তিনি তার শিষ্যের অসাধারণ সাফল্য দেখেন। কোচের এই আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া চয়ির কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হয়। দর্শকও চয়ির পারফরম্যান্সে উল্লাস ও বিস্ময়ের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন।

জাপানের মিতসুকি ওনো তৃতীয় স্থান অর্জন করে ব্রোঞ্জপদক জিতেছেন, তার স্কোর ৮৫.০০ পয়েন্ট। ওনোর রাইডে স্থিতিশীলতা এবং সুনির্দিষ্টতা দেখা গিয়েছিল, যা তাকে পডিয়ামে স্থান নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। তার পারফরম্যান্সও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে।

চয়ি ও কিমের প্রথম সাক্ষাৎ ২০১৭ সালে প্যংচ্যাংয়ের অলিম্পিক টেস্ট ইভেন্টে হয়। সেই সময়ে কিম এবং তার পিতা চয়িকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষণের সুযোগ দিতে সহায়তা করেন। এই সমর্থন চয়ির ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং শেষ পর্যন্ত তাকে অলিম্পিক স্বর্ণপদক পর্যন্ত নিয়ে যায়।

চলো কিমের তৃতীয় স্বর্ণপদক জয়ের স্বপ্ন শেষ হওয়ায় শীতকালীন অলিম্পিকের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় যোগ হয়েছে। তিনি প্রথম নারী স্নোবোর্ডার যিনি তিনটি ধারাবাহিক অলিম্পিক স্বর্ণপদক জিততে পারেননি, তবে তার অর্জন এখনও বিশাল। তার পারফরম্যান্স এবং সাহসিকতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্নোবোর্ডারদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

শীতকালীন অলিম্পিকের এই শেষ রাউন্ডের পর, হাফপাইপ বিভাগে অংশগ্রহণকারী সব ক্রীড়াবিদ পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিতে ফিরে যান। চয়ি গা‑অন এবং তার দল এখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের দিকে নজর দিচ্ছেন, যেখানে তিনি তার শীর্ষ ফর্ম বজায় রাখতে চায়। একই সঙ্গে কিমের দলও পুনরুদ্ধার এবং পরবর্তী মৌসুমের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments