ইলেকশন কমিশন চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল প্রকাশে অবিলম্বে থামার নির্দেশ দিয়েছে, কারণ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে একটি আপিল চলমান রয়েছে। ১৩তম জাতীয় নির্বাচনের এই আসনটি এখন পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে গণনা করা হয়নি, যদিও ভোটদান শেষ হয়েছে।
অধিকারের ভিত্তিতে, আপিল বিভাগ ৩ ফেব্রুয়ারি একটি আদেশ জারি করে, যেখানে হাই কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা স্বীকৃত হয়েছে, তবে ফলাফল প্রকাশে রোধ আরোপ করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।
ইলেকশন কমিশনের মতে, এই আদেশের ফলে তারা আইনগত বাধ্যবাধকতা পালন করে ফলাফল প্রকাশে বিরত থাকবে। কমিশন সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে যে, আপিল বিভাগে চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত কোনো ধরণের ঘোষণার কাজ করা যাবে না।
একই সঙ্গে, আপিল বিভাগ জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থী মোঃ অন্বর সিদ্দিকের হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দিয়েছে। অন্বরের আইনজীবী দাবি করেন যে, বিএনপি প্রার্থীর প্রার্থিতা অনুমোদনের পেছনে তার ঋণ সংক্রান্ত তথ্য লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
অন্বরের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর ২৩টি ব্যাংক থেকে মোট ২,১০০ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে, যা তার প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। এই তথ্যের ভিত্তিতে, অন্বর হাই কোর্টে রায়ের বিরোধিতা করে আপিলের আবেদন দাখিল করেন।
প্রথমে অন্বর হাই কোর্টে রাইট পিটিশন দায়ের করে, যেখানে ইলেকশন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। হাই কোর্টের রায়ে পিটিশনটি প্রত্যাখ্যান করা হয়, ফলে অন্বর আপিল বিভাগে লিভ টু আপিলের আবেদন করেন। এখন আপিল বিভাগে এই আবেদনটি বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইলেকশন কমিশন জানিয়েছে যে, আপিল বিভাগে চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না। রায়ের পরেই ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু হবে এবং ভোটের চূড়ান্ত সংখ্যা জানানো হবে।
এই রোধের ফলে দেশের সামগ্রিক সংসদীয় গঠনেও সাময়িক অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। চট্টগ্রাম-৪ আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে গণ্য হয়, তাই ফলাফল প্রকাশে দেরি হলে পার্টিগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রভাব পড়তে পারে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে, আপিল বিভাগে জমা থাকা লিভ টু আপিল পিটিশনের নিষ্পত্তি প্রত্যাশিত। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ভিত্তিতে ইলেকশন কমিশন ফলাফল প্রকাশের কাজ চালিয়ে যাবে। রায়ের ফলাফল যাই হোক না কেন, তা দেশের সংসদীয় সংখ্যা ও ক্ষমতার ভারসাম্যকে সরাসরি প্রভাবিত করবে।
এই পরিস্থিতিতে সকল রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা আদালতের রায়ের অপেক্ষা করছে এবং ফলাফল প্রকাশের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলাফল প্রকাশের সময়সূচি আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল, যা শীঘ্রই জানানো হবে।



