ব্রিটিশ ট্যাক্স এক্সাইলমিলিয়নিয়ার স্যার জিম র্যাটক্লিফ সম্প্রতি স্কাই নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ইমিগ্রেশন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি যুক্তি দেন যে বিদেশি শ্রমিকের প্রবাহের ফলে যুক্তরাজ্য অর্থনৈতিক সমস্যার মুখে। এই বিবৃতি প্রকাশের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অফিসিয়াল বিবৃতি প্রকাশিত হয়, যেখানে ক্লাবের অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি ও র্যাটক্লিফের দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাখ্যানের কথা বলা হয়েছে।
র্যাটক্লিফের সম্পদ মূলত রাসায়নিক শিল্পে গড়ে উঠেছে; তিনি আইনিয়োস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শেয়ারহোল্ডার। দীর্ঘ সময় ট্যাক্স এক্সাইল হিসেবে যুক্তরাজ্যের বাইরে বসবাসের পর, তিনি ২০২৩ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে উল্লেখযোগ্য অংশীদারিত্ব অর্জন করেন। তার ব্যবসায়িক পদ্ধতি প্রায়ই খরচ কমানো, অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দেওয়া এবং তহবিলের দ্রুত প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
সাক্ষাৎকারে র্যাটক্লিফ যুক্তরাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা বিদেশি কর্মীর প্রবেশের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি এই প্রবাহকে “আক্রমণ” শব্দে বর্ণনা করে, দেশের কর্মসংস্থান ও মজুরির ওপর নেতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিত দেন। এছাড়া তিনি নিগেল ফারেজের মতামতকে যুক্তিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করে, ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে জাতীয় আলোচনায় তার অবস্থানকে সমর্থন করেন।
র্যাটক্লিফের এই মন্তব্যের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রেস রিলিজে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে ক্লাবের মূল্যবোধ ও নীতি তার মতামতের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ক্লাবের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সব জাতি, ধর্ম ও পটভূমির ভক্তদের স্বাগত জানায় এবং কোনো ধরনের বৈষম্য বা বহিরাগত গোষ্ঠীর প্রতি বৈরিতা গ্রহণ করে না। এছাড়া ক্লাবের ব্যবস্থাপনা র্যাটক্লিফের ব্যক্তিগত মতামতকে ক্লাবের অফিসিয়াল অবস্থান হিসেবে বিবেচনা না করার কথা উল্লেখ করেছে।
এই ঘটনার পর ইংল্যান্ডের ফুটবল সমিতি ও অন্যান্য প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবের মালিকদের কাছ থেকে বিভিন্ন মন্তব্য শোনা যায়। যদিও র্যাটক্লিফের মন্তব্যের সরাসরি প্রত্যাখ্যানের কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি, তবে বেশ কিছু ক্লাবের ব্যবস্থাপনা ইতিমধ্যে অন্তর্ভুক্তি ও বৈচিত্র্যের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে।
র্যাটক্লিফের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত বক্তব্য এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ফুটবলে মালিকদের প্রভাব ও ক্লাবের সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যকে তুলে ধরে। ক্লাবের ভক্ত ও সাধারণ জনগণ এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মিডিয়ায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে অধিকাংশেই ক্লাবের অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি সমর্থন করে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পরবর্তী ম্যাচে তারা লিভারপুলের সঙ্গে লিগ ম্যাচে মুখোমুখি হবে, যা ১৫ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ক্লাবের অফিসিয়াল চ্যানেলগুলোতে এই ম্যাচের প্রস্তুতি ও খেলোয়াড়দের ফিটনেস আপডেটের তথ্য শেয়ার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে র্যাটক্লিফের মতামত এবং ক্লাবের নীতি কীভাবে সামঞ্জস্য হবে তা ফুটবল জগতে নজর রাখার বিষয় রয়ে যাবে।



