ডেভিড বোরেনাজ এনবিসির নতুন রিক্যাপচার করা ‘রকফোর্ড ফাইলস’ সিরিজের পাইলটে জেমস রকফোর্ডের ভূমিকায় অভিনয় করবেন। এই প্রকল্পটি জানুয়ারি মাসে পাইলট হিসেবে অনুমোদিত হয় এবং নেটওয়ার্কের নতুন পাইলট মৌসুমের অংশ হিসেবে বিবেচিত। বোরেনাজ পাশাপাশি পাইলটের প্রযোজক হিসেবেও যুক্ত আছেন।
১৯৭৪ থেকে ১৯৮০ পর্যন্ত মূল ‘রকফোর্ড ফাইলস’ টেলিভিশন সিরিজটি জেমস গার্নার অভিনীত জিম রকফোর্ড চরিত্রের জন্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। সিরিজটি পরে কয়েকটি টিভি মুভি হিসেবে চালু হয় এবং আজও ক্লাসিক ডিটেকটিভ শো হিসেবে স্মরণীয়।
নতুন সংস্করণে জিম রকফোর্ডকে সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে এমন একজন গোপন অপরাধীরূপে উপস্থাপন করা হয়েছে, যিনি লস এঞ্জেলেসে প্রাইভেট ইনভেস্টিগেটর হিসেবে কাজ করেন। শোয়ের লোগলাইন অনুযায়ী, রকফোর্ডের আকর্ষণ ও বুদ্ধিমত্তা তাকে শহরের জটিল মামলাগুলো সমাধান করতে সাহায্য করে, তবে তার বৈধতা অর্জনের প্রচেষ্টা তাকে স্থানীয় পুলিশ ও সংগঠিত অপরাধের লক্ষ্যবস্তু করে তুলছে।
বোরেনাজের ডিটেকটিভ চরিত্রে অভিজ্ঞতা অতীতের অতিপ্রাকৃত সিরিজ ‘এঞ্জেল’ থেকে শুরু হয়, যেখানে তিনি ভ্যাম্পায়ার শিকারী হিসেবে লস এঞ্জেলেসে গোয়েন্দা ব্যবসা চালাতেন। এরপর তিনি সিবিএস ও পারামাউন্ট+-এর ‘সিল টিম’ সিরিজে সাত সিজন ধরে প্রধান ভূমিকায় ছিলেন, যা সামরিক বিশেষ দলে কাজ করা চরিত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
তার পূর্বের অন্যতম জনপ্রিয় ভূমিকা ছিল ফক্সের ‘বোনস’ সিরিজে এফবিআই এজেন্ট সিলি বুথ, যেখানে তিনি বারো বছর ধরে দর্শকের প্রিয় চরিত্র হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বোরেনাজের ক্যারিয়ার ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত ‘এঞ্জেল’ শোয়ের শীর্ষ শিরোনামেও অন্তর্ভুক্ত, যা তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিতি এনে দেয়।
অভিনয় কাজের পাশাপাশি বোরেনাজ সিএএ, ভিশনারি এন্টারটেইনমেন্ট এবং ফেলকার টোচেকের প্রতিনিধিত্বে রয়েছেন। এই এজেন্সিগুলি তার ক্যারিয়ার পরিচালনা ও নতুন প্রকল্পে অংশগ্রহণের জন্য সমন্বয় করে।
‘রকফোর্ড ফাইলস’ পাইলটের স্ক্রিপ্ট লিখেছেন মাইক ড্যানিয়েলস, যিনি ‘সন্স অফ অ্যানার্কি’ এবং এনবিসির ‘দ্য ভিলেজ’ প্রোডাকশনে কাজ করেছেন। ড্যানিয়েলসের সঙ্গে এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে কার্ল বেভারলি এবং সারাহ টিম্বারম্যান যুক্ত আছেন। ক্রিস লিয়ানজা কো-এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসার হিসেবে কাজ করবেন, আর বোরেনাজ নিজেই প্রোডিউসার হিসেবে প্রকল্পে অংশ নেবেন।
এই পাইলটটি ইউনিভার্সাল টেলিভিশনের অধীনে তৈরি হচ্ছে, যা এনবিসির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা বজায় রাখে। ইউনিভার্সাল টেলিভিশন পূর্বে বহু সফল শো তৈরি করেছে এবং নতুন রিক্যাপচার প্রকল্পে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছে।
এনবিসি সম্প্রতি পাইলট মৌসুমে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখেছে; গত বছর মাত্র তিনটি পাইলট অনুমোদিত ছিল, আর এই বছর আটটি পাইলটের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এই বৃদ্ধি নেটওয়ার্কের কন্টেন্ট পোর্টফোলিওকে বৈচিত্র্যময় করার এবং দর্শকের নতুন চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
‘রকফোর্ড ফাইলস’ রিবুটের মাধ্যমে এনবিসি ক্লাসিক ডিটেকটিভ ধারাকে আধুনিক রূপে উপস্থাপন করতে চায়, যেখানে পুরনো স্মৃতি ও নতুন প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটবে। বোরেনাজের জনপ্রিয়তা ও অভিজ্ঞতা এই প্রকল্পকে আকর্ষণীয় করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শোটি যদি সফল হয়, তবে এটি ক্লাসিক সিরিজের পুনর্জন্মের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে। বর্তমানে পাইলটের শুটিং ও পোস্ট-প্রোডাকশন পর্যায়ে রয়েছে, এবং এনবিসি শীঘ্রই শোয়ের প্রচার সূচি প্রকাশের পরিকল্পনা করছে।
প্রযোজক ও নেটওয়ার্ক উভয়ই আশা প্রকাশ করেছে যে ‘রকফোর্ড ফাইলস’ আধুনিক টেলিভিশনের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নিজস্ব স্থান তৈরি করবে এবং দর্শকদের জন্য তাজা, উত্তেজনাপূর্ণ গোয়েন্দা গল্প উপস্থাপন করবে।



