বের্লিনের প্যানোরামা সেকশনে সম্প্রতি লেবানন-ফ্রান্সের পরিচালক ড্যানিয়েল আরবিডের নতুন চলচ্চিত্র ‘অনলি রেবেলস উইন’ প্রদর্শিত হয়েছে। এই কাজটি ২৭ বছর বয়সী দক্ষিণ সুদান-চাদীয়ান অভিবাসী ও ৬৩ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি নারীকে কেন্দ্র করে একটি বয়সের পার্থক্যপূর্ণ প্রেমের গল্প বলে।
ড্যানিয়েল আরবিড, যিনি ‘সিম্পল প্যাশন’, ‘প্যারিসিয়েন’ ও ‘এ লস্ট ম্যান’ ইত্যাদি চলচ্চিত্রের জন্য পরিচিত, এই প্রকল্পে পুরনো রিয়ার প্রজেকশন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন। শুটিংয়ের সময় বেইরুটে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের ধারাবাহিকতা তাকে সরাসরি লোকেশন ব্যবহার থেকে বাধা দেয়, ফলে তিনি কৃত্রিম পটভূমি তৈরি করে দৃশ্যগুলোকে বাস্তবের কাছাকাছি আনতে এই পদ্ধতি বেছে নেন।
রিয়ার প্রজেকশন প্রযুক্তি ব্যবহার করার ফলে ছবির দৃশ্যগুলোতে সূক্ষ্ম কিন্তু স্পষ্ট কৃত্রিমতার ছাপ দেখা যায়, যা সাধারণ রোমান্সের চেয়ে বেশি পরীক্ষামূলক এবং আধুনিক অনুভূতি যোগ করে। এই পদ্ধতি চলচ্চিত্রের বর্ণনাকে ঐতিহ্যবাহী কাঠামোর বাইরে নিয়ে যায়, যদিও মূল গল্পের কাঠামো এখনও প্রচলিত রোমান্সের সীমার মধ্যে থাকে।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে আমিন বেনরাচিদ অভিনীত ওসমান, যিনি দক্ষিণ সুদান ও চাদের মিশ্র বংশধর, এবং হিয়াম আব্বাসের চরিত্র সুজান, যিনি ফিলিস্তিনের অভিবাসী। দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠা সম্পর্ক বয়সের পার্থক্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং অভিবাসনের চ্যালেঞ্জকে একসাথে উপস্থাপন করে।
হিয়াম আব্বাস, যাকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘সাক্সেশন’ সিরিজে তার পারফরম্যান্সের জন্য বেশি জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের সিনেমায় দীর্ঘদিনের উপস্থিতি বজায় রেখেছেন। আমিন বেনরাচিদও তার শক্তিশালী শারীরিক গঠন ও রহস্যময় স্বভাবের জন্য নজরে এসেছেন, যদিও তার চরিত্রের গভীরতা সমালোচকদের মতে সীমিত রয়ে গেছে। শাদেন ফাকিহ, চারবেল কামেল এবং আলেকজান্ড্র পলিকেভিচও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
বের্লিন ফেস্টিভ্যালে এই চলচ্চিত্রটি রেইনার ওয়ার্নার ফ্যাসবিন্ডারের ‘অলি: ফিয়ার ইটস দ্য সোল’ এবং ডগলাস সির্কের ‘অল দ্যাট হেভেন অ্যালাউস’ এর প্রতি সম্মানসূচক সন্মান জানায়। এই দুই ক্লাসিকের প্রতি ইঙ্গিত চলচ্চিত্রের ভিজ্যুয়াল ও বর্ণনামূলক শৈলীতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, যা পুরনো ও নতুনের মিশ্রণকে জোর দেয়।
চলচ্চিত্রটি সমসাময়িক ভূ-রাজনৈতিক বিষয়, স্থানীয় সামাজিক-অর্থনৈতিক টানাপোড়েন এবং মানবিক আবেগের সার্বজনীন দিকগুলোকে একত্রে উপস্থাপন করে। এই সমন্বয় ফেস্টিভ্যাল দর্শকদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে, তবে বাণিজ্যিক থিয়েটার বাজারে এর সম্ভাবনা সীমিত বলে অনুমান করা হচ্ছে।
মোট সময়কাল এক ঘণ্টা চৌত্রিশ মিনিট, যা আধুনিক দর্শকের মনোযোগ বজায় রাখার জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত। প্রধান কাস্টের মধ্যে হিয়াম আব্বাস, আমিন বেনরাচিদ, শাদেন ফাকিহ, চারবেল কামেল এবং আলেকজান্ড্র পলিকেভিচ অন্তর্ভুক্ত, যারা প্রত্যেকেই তাদের নিজস্ব চরিত্রে স্বতন্ত্র ছাপ রেখে গেছেন।
সমালোচকদের মতে, আরবিডের স্ক্রিপ্টে কিছু ঘাটতি রয়ে গেছে। ওসমানের চরিত্রের বিকাশে পর্যাপ্ত গভীরতা না থাকায় দর্শকের সঙ্গে তার সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়ে, যেখানে সুজানের চরিত্রকে সূক্ষ্মভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। এই পার্থক্য ছবির সামগ্রিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করেছে।
বিশেষ করে লেবাননের পার্শ্ব চরিত্রগুলোকে তুলনামূলকভাবে বেশি সূক্ষ্মভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে, যদিও তাদের ভূমিকা গল্পের মূল প্রবাহে বড় ভূমিকা পালন করে না। এই সূক্ষ্মতা ছবির সামাজিক প্রেক্ষাপটকে সমৃদ্ধ করেছে, তবে প্রধান প্রেমের কাহিনীর গভীরতা বাড়াতে অতিরিক্ত মনোযোগের প্রয়োজন ছিল।
সামগ্রিকভাবে, ‘অনলি রেবেলস উইন’ একটি দৃশ্যত আকর্ষণীয় এবং থিম্যাটিকভাবে সমৃদ্ধ কাজ, যা ফেস্টিভ্যাল পরিবেশে প্রশংসা পেতে পারে। তবে বাণিজ্যিক সাফল্যের ক্ষেত্রে সীমিত সম্ভাবনা রয়েছে, এবং স্ক্রিপ্টের কিছু অংশে আরও পরিশীলন প্রয়োজন। চলচ্চিত্রপ্রেমী ও শিল্পের অনুসারীরা এই নতুন রোমান্সে হিয়াম আব্বাসের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে একটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ পেতে পারেন।



